সর্বশেষ আপডেট : ৯ ঘন্টা আগে
বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘সমস্যার উপরিতলে নয়, গভীরে যান’

নিউজ ডেস্ক:: ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় একটা এক্স-রে মেশিনও নাই। ৫০ শয্যার হাসপাতালের জনবল আছে ৩১ শয্যার সমান। সুইপার নাই। ওয়ার্ড বয়ও নাই। ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী ভর্তি থাকে আর রোজ এর বাইরেও সেবা নেয় ৩৫০ রোগী। জেনারেটর নষ্ট। ডাক্তার আছে ৫ জন। তার মধ্যে একজন দেশের বাইরে, একজন ছুটিতে আর একজন উচ্চতর প্রশিক্ষন নিচ্ছেন। ৫ জনকেই দিয়েছে। পদ শুন্য, ডাক্তার নাই।

রোগীর অধিকার চিকিৎসা পাওয়া। চিকিৎসা কেবল ডাক্তার দিয়ে হয় না। এটা টিমওয়ার্ক। দলগতভাবে করতে হয়। সব থাকার পরেও একটা বাটারফ্লাই নিড্‌ল না থাকলে অনেক সময় স্যালাইনটা দেয়া সম্ভব না।

গরীব রোগী তাই সঠিকভাবে চিকিৎসা পায় না, যা পায় সেটা বাজারে পাওয়া আমের জুসের মতো। ১০% পাল্প আর বাকিটা ফ্লেভার।

রোগী ভাবে সবকিছুর জন্য ডাক্তার দায়ী। আত্মীয়স্বজন তার উপরে চড়াও হয়। ডাক্তার এর বদনাম হয়। কেউ বোঝে না, সুইপার না থাকলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রোগীর ইনফেকশন হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়, সার্জারী ঠিকমতো হলেও ইনফেকশনে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই ডাক্তার থাকা যেমন জরুরী, সুইপার থাকাটাও জরুরী।

শুধু ডাক্তার আছে কি নাই, এই নিয়ে ব্যস্ত থাকলে সঠিক স্বাস্থ্যসেবা কখনোই পাবেন না। তাই মাননীয় এমপিদের উচিত স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়কে প্রশ্ন করা, কেন হাসপাতালগুলি এমন মানহীণ? কেন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা মান্ধাতার আমলের? কেন যন্ত্রপাতি বিকল? কেন যন্ত্রপাতি ক্রয়ে অনিয়ম? এটা চাওয়া কোন অন্যায় না। কারন এগুলো পেলে সেটা জনগণের উপকারেই কাজে লাগবে। এসব কেউ বাসায় নিয়ে যাবে না। এই সুবিধাগুলি হাসপাতালে মানুষের উপকারে কাজে লাগবে।

গানের শিল্পী যেমন তবলা ছাড়া, হারমোনিয়াম ছাড়া গাইতে চায় না, ফুটবল ছাড়া যেমন ফুটবলার খেলতে চায় না, হতাশ হয়ে যায়। তেমনি ডাক্তারও তার কর্মজীবনের শুরুতে এরকম অব্যবস্থা দেখে হতাশ হয়, কাজের স্পৃহা হারিয়ে ফেলে। যে কোন মূল্যে বড় হাসপাতালে যাওয়ার জন্য চেষ্টা চালায়। রোগী আর চিকিৎসক, দুপক্ষই হতাশ হয়ে যায়।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন জরুরী। তাহলেই কেবল সাধারন জনগণ মানসম্পন্ন চিকিৎসা পাবে।

ডা. আব্দুন নূর তূষার,মিডিয়া ব্যক্তিত্ব,সাবেক শিক্ষার্থী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ।



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে. এ. রাহিম. সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: