সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ১০ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মৌলভীবাজারে অর্ধশত মার্কেটে নেই পার্কিং ব্যবস্থা; দিনভর তীব্র যানযট

মুবিন খান, মৌলভীবাজার:: ঈদের আর মাত্র দুই দিন বাকি। শেষ সময়ে বছর ঘুরে আসা এই উৎসবকে ঘিরে এখন চলছে মৌলভীবাজার বাসীর কেনাকাটাসহ নানা রকমের প্রস্তুতি। ব্যবসায়ীরাও নানা রঙের পোশাক, বাহারি প্রসাধনীসহ দরকারি ও শৌখিন বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন শহরজুড়ে ছটিয়ে ছিটিয়ে থাকা মার্কেটগুলোতে। শহরবাসী তাদের প্রয়োজন অনুয়ায়ী এসব মার্কেটে ঘুরতে বা কেনাকাটা করতে বের হচ্ছেন, কিন্তু তাদের এই ইচ্ছায় বাধ সাধছে শহরজুড়ে তীব্র যানজট। দুপুরের তীব্র গরমে আর বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এই চিত্র দেখা যায়।

জেলা শহরের সেন্ট্রাল রোডের জুলিয়া শপিং সিটি, এমবি, বিলাস সহ বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায় প্রচন্ড গরম ও রোদ উপেক্ষা করে সকাল থেকে শিশু, বয়স্ক, নারী পুরুষরা কেনা কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে প্রতিটি স্থানেই পুরুষের তুলনায় মহিলাদের উপস্থিতি একটু বেশি। সব শ্রেনী পেশার মানুষ তাদের সাধ্যের মধ্যেই চ্রেষ্টা করছে পছন্দের সামগ্রীগুলো কিনতে। তবে ক্রেতারা বলছেন ঈদ আসায় পণ্যের দাম লাগামহীন ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিক্রেতারা বলেন, গত বছর ঈদের আগে মৌলভীবাজারে বন্যা থাকার কারণে এক্কিবারে মান্দা ব্যবসা ছিলো। তবে এবার বেচাকেনা একটু ভাল হচ্ছে এবং মার্কেটে ক্রেতাদের ভীড় রয়েছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের পোশাক রয়েছে তাদের দোকানে। ঈদের দিন যতোই ঘনিয়ে আসছে তাদের বেচা-কেনাও ততো বাড়ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

এদিকে দেখাযায়, মৌলভীবাজার শহরের ব্যস্থতম সড়ক সেন্ট্রাল রোডের শতাধিক শপিং মহল, ব্যাংক, বীমা, বস্ত্রবিতান, রেষ্টুরেন্ট, বিভিন্ন কোম্পানীর শো-রুমসহ বড়বড় শপিং মহল এবং বহুতল ভবন রয়েছে। ঈদ আসায় এই রোডে মানুষের যাতায়াতও বেড়ে যায়। প্রয়োজনের চাইতে ছোট এই রোডের পাশের বড় বড় ভবনের নেই কোন নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ক্রেতারা অনেকটা বাধ্য হয়ে রাস্তায় গাড়ি দাড় করে কেনাকাটা করছেন। যার ফলে ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে অন্যান্য বছরের মতো এই বছরও তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ দিনের এই যানজট নিরসনে কর্তৃপক্ষের নেই কোন কার্যকরী পদক্ষেপ। অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে রাস্তায় চলছে ব্যবসায়ীদের এই পার্কিং ব্যবস্থা। অনেকেইে দেখেও না দেখার ভান করছেন। এনিয়ে কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সিএনজি চালকরা ওই রোডে ইতি মধ্যে দিগুণ ভাড়া বাড়িয়েছে।

প্রবাসী অধ্যুষিত এ জেলার বাসিন্দাদের কাছে এমবি ক্লথ ষ্টোর ও বিলাস ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোর একই নামে পরিচিত। টেইলারিং ও জুতা থেকে শুরু করে দুটি শপিং মহলে পাওয়া যায় সব ধরনের পণ্য। যার কারণে এখানে প্রবাসী ক্রেতাদের ভীড় থাকে সব সময়। ওই শপিং মহল দুটি সেন্ট্রাল রোডের পশ্চিমবাজার এলাকায় রাস্তার দু-পাশে পরস্পর বিপরীতে অবস্থিত। তাদের নেই কোন নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা। যার কারণে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ক্রেতারা বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে ঘন্টার পর ঘন্টা প্রাইভেট গাড়ি দাঁড় করে কেনাকাটা করেন। শপিং মহল দুটি মুখোমুখি থাকায় উভয় দোকানে আসা ক্রেতাদের গাড়িতে যাত্রী চলাচলের রাস্তার প্রায় অর্ধেক তাদের দখলে চলে যায়। ফলে ৫মিনিটের ওই রাস্তা অতিক্রম করতে হয় ৩০ মিনিটে।

সরেজমিন রবিবার শহরের চৌমহনী পয়েন্ট থেকে সেন্ট্রাল রোড প্রদক্ষিণ করলে দেখা যায়, শহরের চৌমুহনী এলাকায় ৫তলা বিশিষ্ট আখিঁ প্লাজা, ৩ তলা বিশিষ্ট ওয়াছির প্লাজা, ৪র্থ তলা বিশিষ্ট আহমদ ম্যানশন, ৪র্থ তলা বিশিষ্ট জুলিয়া শপিং সিটি, বউরাণী বিউটি পার্লার, ৪র্থ তলা বিশিষ্ট হোসেইন মার্কেট, ৪র্থ তলা বিশিষ্ট হাজি মন্তাজ মিয়া ম্যানশন, ৪র্থ তলা বিশিষ্ট শরিফ ভিলা, পশ্চিমবাজার এলাকায় ৩য় তলা বিশিষ্ট রহমান প্লাজা, ৭তলা বিশিষ্ট ওয়েষ্ট পয়েন্ট, ৪র্থ তলা বিশিষ্ট হাজেরা ভবন, হোসেন ম্যানশন, ২তলা বিশিষ্ট সেলিনা স্টাইল, ৬ষ্ট তলা বিশিষ্ট কবির টাওয়ার, সেন্ট্রাল রোডের লট্ট শো-রুম, এপেক্স জুতার শো-রুম, সেভেন স্টার প্লাজা, সেরাটাউন প্লাজা, শাপলা ম্যানশন, ১০ তলা বিশিষ্ট আরণ টাওয়ার ও জেক্স টেক্সটাইলসহ আরও একাধিক ভবন ও দোকানে নেই নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা। এ সকল বহুতল ভবনে শতাধিক শপিং মহল, ব্যাংক এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্টান রয়েছে। ক্রেতারা বাধ্য হয়ে যাত্রী চলাচলের রাস্তার পাশে গাড়ি পার্কিং করে কেনাকাটা এবং ব্যাংকিং লেনদেন করেন। ফলে ওই রাস্তায় চরম যানজটের সৃষ্টি হয়।

এসময় ঈদের কেনাকাটা করতে আসা কুলাউড়া উপজেলার আরিফ, কমলগঞ্জ উপজেলার নিলা ও রাজনগর উপজেলার তাসিফা খানের সাথে কথা হলে তারা বলেন, শপিং মহল গুলোতে পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় আমরা স্বাচ্ছন্দে কেনাকাটা করতে পারছিনা। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সহজে যাতায়াত করাও সম্ভব হচ্ছে না। যার কারণে আমাদেরকে অবর্ননিয় দূর্ভোগ পুহাতে হচ্ছে।।
এবিষয়ে মৌলভীবাজার পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বলছে, এই শপিং মহল গুলো নির্মানের সময় আইনীভাবে পার্কিং রাখা বাধ্যবাধকতা ছিলনা। কিন্তু ২০০৯ সালের পরে যে সকল বিল্ডিং নির্মাণ করা হচ্ছে সে গুলোতে পার্কিং এর ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। বিল্ডিং নির্মাণের নীতিমালা কেউ না মানলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: