সর্বশেষ আপডেট : ৩১ মিনিট ২১ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পীরের পানি পড়া খেয়েই মৃত্যুর কোলে কলেজছাত্রী!

নিউজ ডেস্ক:: ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সরকারি কলেজের এইএইচসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার হৃদরোগে আক্রান্ত হলে নানা জায়গায় তার চিকিৎসা চলছিল। নান্দাইলের তারেরঘাট এলাকার কথিত পীর লিয়াকত আলী খানের আস্তানায়ও যাওয়া-আসা করত।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে ওই পীরের আস্তানায় গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে পানি পড়া খেয়েই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে। এর পরপরই পরিবারকে না জানিয়ে পীরের নির্দেশে সেখানেই তানিয়ার জানাজা পড়ানো হয়। এরপর লাশ নেওয়ার জন্য পরিবারকে খবর পাঠানো হয়। বিকেলে পরিবারের লোকজন এসে কাফন পরানো অবস্থায় তার লাশ নিয়ে যায়।

তানিয়া গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের অচিন্তপুর গ্রামের বড়বাড়ীর মো. বাচ্চু মিয়ার মেয়ে। তার চাচা মো. মহসিন আলী আকন্দ জানান, তিন ভাই এক বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। তিন বছর ধরে তানিয়া হৃদরোগে আক্রান্ত ছিল। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা চলছিল। একপর্যায়ে তারেরঘাট এলাকার ওই পীরের বাড়িতেও চিকিৎসার জন্য তাকে পাঠানো হয়। ওই পীরের কাছে যেকোনো রোগের চিকিৎসা চলে পানি পড়া ও লাঠির আঘাতে। সেখানে বেশ কিছুদিন ধরে যাচ্ছিল তানিয়া। পীরের নির্দেশে সে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দেওয়া প্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়া ছেড়ে দেয়।

চাচা মহসিন আরো জানান, দুই মাস তানিয়ার ওই পীরের বাড়িতে যাওয়া বন্ধ ছিল। গত বৃহস্পতিবার সে হঠাৎ তার মাকে জানায় ঈদের আগে শেষ শুক্রবার আবারও পীরের বাড়িতে যাবে। সকালে সে ওই পীরের বাড়িতে যায়। এরপর তার মোবাইল থেকেই তাদের কাছে তার মৃত্যুর খবর পাঠানো হয়। বিকেল ৩টার দিকে তিনিসহ তানিয়ার আরেক চাচা ও চাচি ঘটনাস্থলে গিয়ে কাফন পরানো অবস্থায় লাশ নিয়ে যান।

এ সময় তাঁরা জানতে পারেন, তানিয়া প্রচণ্ড গরমের মধ্যে অন্য রোগীদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে পীরের ফুঁ দিয়ে রাখা পানি মাথায় ছিটিয়ে ও খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যায়। পীরের নির্দেশে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর গোসল শেষে কাফন পরিয়ে জানাজা সম্পন্ন করা হয়। এ বিষয়ে জানতে পীর মো. লিয়াকত আলী খানের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এই পীরের কর্মকাণ্ড নিয়ে ‘মারলে ডাণ্ডা রোগ হয় ঠাণ্ডা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা হয়। কিন্তু প্রশাসনের লোকজন কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। প্রতি শুক্রবার দূর-দূরান্ত থেকে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে করে শত শত লোক ওই পীরের আস্তনায় ভিড় জমায়।



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে. এ. রাহিম. সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: