সর্বশেষ আপডেট : ১১ মিনিট ২ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মহিলা আইনজীবী খুন: মুখ খুলছে প্রধান আসামী

বড়লেখা প্রতিনিধি:: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় মহিলা আইনজীবী আবিদা সুলতানা হত্যা মামলায় ১০ দিনের রিমান্ডে থাকা প্রধান আসামী মসজিদের ইমাম তানভীর আলম মুখ খুলতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে সে হত্যার দায় স্বীকার করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।

এছাড়া তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ নিহত আইনজীবির ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন উদ্ধার করেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আপাতত এর বেশি কিছু বলতে চাচ্ছে না।

এব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জসীম বৃহস্পতিবার বিকেলে জানান, তানভীর ১০ দিনের এবং তার মা ও স্ত্রী ৮ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। রিমান্ডের তৃতীয় দিনেও তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তানভীর হত্যাকান্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তার দেয়া তথ্যে আবিদা সুলতানার ব্যবহৃত দুটি মেবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনার সঙ্গে তানভীরের মা ও স্ত্রী কিংবা অন্য কেউ জড়িত কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তানভীর প্রাথমিকভাবে হত্যার দায় স্বীকার করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তার দেয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাচাই করে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এই মূহুর্তে সব কিছু বলা ঠিক হবে না।

পুলিশ, নিহতের পরিবার, মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ মে সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টার মধ্যের যেকোন সময় বড়লেখায় পৈত্রিক বাসায় নির্মমভাবে খুন হন মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবি সমিতির সদস্য ও জজকোর্টের নিয়মিত আইনজীবি অ্যাডভোকেট আবিদা সুলতানা। তিনি উপজেলার কাঠালতলী মাধবগুল গ্রামের মৃত হাজী আব্দুল কাইয়ুমের বড় মেয়ে।

হত্যাকান্ডের পরই ওই বাসার অপরাংশের ভাড়াটিয়া স্থানীয় মসজিদের ইমাম তানভীর আলম (৩৪) বাসায় তালা ঝুলিয়ে স্ত্রী ও মাকে শ্বশুড়বাড়ি পাঠিয়ে পালিয়ে যায়। পরদিন সন্দেহভাজন খুনি হিসেবে শ্রীমঙ্গল থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। এর আগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ স্ত্রী হালিমা সাদিয়া (২৮) ও মা নেহার বেগমকে (৫৫) আটক করেছিল।

নিহত আবিদার স্বামী মো. শরিফুল ইসলাম বসুমিয়া একটি ওষুধ কো¤পানিতে চাকরি করেন এবং একত্রে মৌলভীবাজার শহরে বসবাস করতেন। ছুটির দিনে প্রায়ই আবিদা পৈতৃক বাড়ি দেখাশোনা করতে বড়লেখায় যেতেন। পৈতৃক বাড়িতে চার কক্ষের দুটিতে আবিদা সুলতানা ও তার বোনেরা বেড়াতে আসলে থাকতেন। বাকি দুটোতে ভাড়া থাকতেন তানভীর আলমের পরিবার।

তিনি তাদের দূর স¤পর্কের আত্মীয় ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম। ঘটনার প্রায় চার মাস আগে তানভীরকে বাসা ভাড়া দেন আবিদা। এদিকে বাসায় থাকার কয়েকদিন পর তানভীর আলম অনাধিকারভাবে আবিদা সুলতার পৈতৃক বাড়ির মূল্যবান গাছপালা বিক্রি করে টাকা আত্মসাত করেন। গাছ বিক্রির বিষয়ে আবিদা সুলতানার সঙ্গে তানভীরের ঝগড়া হয়। এ ঘটনায় আবিদা সুলতানা তানভীরকে বাসা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

এরপর থেকে বিভিন্নভাবে প্রধান আসামি আবিদা সুলতানার সঙ্গে অশোভন আচরণ শুরু করেন। গত ২৫ মে দুপুরে আবিদা সুলতানা তানভীরের ছোটভাই মামলার দুই নম্বর আসামি আফসার আলমকে মুঠোফোনে বলেন, আমি এখন বিয়ানীবাজার আমার মা ও বোনের কাছে যাচ্ছি। আগামী রোববার সকালে বাড়িতে আসব। ওই দিন রাতে আবিদা সুলতানার লাশ উদ্ধার করা হয়।

মহিলা আইনজীবি আবিদা সুলতানা খুনের ঘটনায় তার স্বামী মো. শরিফুল ইসলাম বসুমিয়া স্থানীয় মসজিদের ইমাম তানভীর আলম, তার ছোটভাই আফছার আলম, স্ত্রী হালিমা সাদিয়া (২৮) ও মা নেহার বেগমকে (৫৫) আসামী করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জসীম জানান, পলাতক আফছার আলম মামলার প্রধান আসামি তানভীরের ছোট ভাই। ঘটনার পর থেকে সে পলাতক। পুলিশ তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে। তাকে গ্রেফতার করলেই এ হত্যাকান্ডের গুরুত্বপুর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: