সর্বশেষ আপডেট : ২১ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আইনজীবির নির্মম মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া, কোর্ট রেফারেন্স ও আইনজীবিদের মানববন্ধন

আব্দুর রব, বড়লেখা:: মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবি সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট আবিদা সুলতানা (৩২) রোববার বড়লেখায় পৈত্রিক বাসায় নির্মমভাবে খুন হয়েছেন। তিনি উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউপির (কাঠালতলী) মাধবগুল গ্রামের মৃত হাজী আব্দুল কাইয়ুমের বড় মেয়ে। তারা তিন বোন সকলেই বিবাহিত। এ খুনের ঘটনায় রাতেই পুলিশ বাসার ভাড়াটিয়া মাওলানা তানভির আহমদের স্ত্রী ও মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়। সোমবার দুপুরে শ্রীমঙ্গল পুলিশ মাওলানা তানভির আহমদকে গ্রেফতার করেছে। ময়না তদন্ত শেষে বিকেলে পুলিশ নিহতের মরদেহ তার স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করেছে। বাদ মাগরিব স্থানীয় সমজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে লাশ দাফন করা হয়েছে। মহিলা আইনজীবির নির্মম মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এদিকে নির্মমভাবে অ্যাডভোকেট আবিদা সুলতানা খুনের ঘটনায় মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতসহ প্রত্যেক আদালত এবং বড়লেখা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কোর্ট রেফারেন্স (আদালত বর্জন) পালিত হয়েছে। দ্রুত হত্যাকান্ডের প্রকৃত ক্লু-উদ্ধার ও হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবীতে জেলা আইনজীবি সমিতির নেতৃত্বে সোমবার দুপুরে মৌলভীবাজার কোর্ট প্রাঙ্গণে মানববন্ধন কর্মসুচি পালিত হয়েছে। জেলা বারের আইনজীবিরীরা অ্যাড. আবিদা সুলতানা হত্যা মামলার আসামীদের পক্ষে কোন আইনজীবি আদালতে না দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

জানা গেছে, মৃত আব্দুল কাইয়ুমের তিন মেয়ে রয়েছে। স্ত্রী মানসিক ভারসাম্যহীন। বড় মেয়ে অ্যাডভোকেট আবিদা সুলতানা মৌলভীবাজার জজকোর্টের সিনিয়র আইনজীবি সুধাময় রায়ের আন্ডারে থেকে আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। দ্বিতীয় মেয়ে সাজিদা সুলতানা ও ব্যবসায়ী স্বামী মারুফ আহমদ বিয়ানীবাজারে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। তৃতীয় মেয়ে সাহিদা সুলতানার স্বামী আমেরিকা প্রবাসী হওয়ায় সে ও মানসিক ভারসাম্যহীন তাদের মা দ্বিতীয় মেয়ের সাথে বসবাস করেন। মৌলভীবাজারে থাকলেও আবিদা কয়েকদিন পরপর বড়লেখায় পৈত্রিক বাড়ি থেকে ক্ষেতের চাল নিয়ে যেতেন। তিন বোনই বাবার বাড়িতে বেড়াতে গেলে মেইন বাড়ির ৫০-৬০ গজ দুরে কাঠালতলী মেইন রাস্তার পাশের নতুন বাসায় থাকতেন। এ বাসার একপাশে তাদের পারিবারিক মসজিদের ইমাম উপজেলার চরকোনা গ্রামের মনির আলীর ছেলে মাওলানা তানভির আহমদ স্ত্রী ও মা নিয়ে নামমাত্র ভাড়ায় বসবাস করতেন।

নিহত আবিদার স্বামী শরীফুল ইসলাম একটি ওষুধ কো¤পানীতে কর্মরত এবং একত্রে মৌলভীবাজারে শহরে বসবাস করতেন। তিনি জানান, শুক্রবার স্ত্রী অ্যাডভোকেট আবিদা বিয়ানীবাজারে শ্যালিকা সাজিদা সুলতানার বাসায় যান। শনিবারও সেখানে থাকেন। রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিয়ানীবাজার বোনের বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি কাঠালতলীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। বিকেলের মধ্যেই মৌলভীবাজার ফেরার কথা। বিকেল আনুমানিক চারটার দিকে আবিদার বোন তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাচ্ছিল না। পরে আবিদার বোনেরা তাকে খুঁজতে বাবার বাড়িতে যায়। রাস্তার পাশের বাসায় গিয়ে তালাবদ্ধ দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে থানায় যান। নিহত আবিদার দ্বিতীয় বোনের স্বামী মারুফ আহমদ জানান, বাসা তালাবদ্ধ দেখে পুলিশ মসজিদের ইমামের শ্বশুর বাড়ি টাকি গ্রামের ফখর উদ্দিনের বাড়ি থেকে তার স্ত্রী ও মাকে সঙ্গে করে নিয়ে চাবি দিয়ে বাসা খুলেন। একটি কক্ষে অ্যাডভোকেট আবিদা সুলতানার লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। দুপুর থেকেই ইমাম মাওলানা তানভির আহমদ পলাতক থাকায় পুলিশের সন্দেহ হয়।

থানার ওসি মো. ইয়াছিনুল হক জানান, নিহতের মাথায় ও গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশের ময়না তদন্ত শেষে সোমবার বিকেলে স্বজনদের নিকট লাশ হস্তান্তর করেছেন। রাতেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভাড়াটে ইমামের স্ত্রী ও মাকে থানায় নিয়ে যান। সোমবার দুপুরে শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস ছালেকের নেতৃত্বে পুলিশ বরুনা মাদ্রাসা এলাকা থেকে মাওলানা তানভির আহমদকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ এ হত্যাকান্ডের ক্লু-উদ্ধারের জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে. এ. রাহিম. সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: