সর্বশেষ আপডেট : ৩০ মিনিট ২ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৩ অক্টোবর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বায়তুল মোকাররমের পিলার ও দেয়াল গায়েব: ক্ষিপ্ত ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক:: বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের মূল পিলার ও দেয়াল গায়েব করে দোকানের পরিসর বাড়ানোর ঘটনা জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।

ঘটনা জানার পর শনিবার রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জরুরি বৈঠক ডেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন তিনি। বায়তুল মোকাররম ইউনিট আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সোহরাব হোসেন গাজী কর্তৃক ‘আল্লাহর ঘর’ এই মসজিদের এত বড় ক্ষতি সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত না করায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে ভর্ৎসনা করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, মসজিদ ভবনের মূল পিলার ও দেয়াল ভেঙে ফেলায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাটি উদ্বেগজনক হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি বৈঠক ডাকেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ। এতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভেঙে ফেলা পিলার ও দেয়াল পুনঃস্থাপন করতে এবং এ ঘটনায় জড়িত সোহরাবসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশের পর রোববার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হাসান আহমেদ ও উপ-সচিব সাখাওয়াত হোসেন। তারা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকও করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ ঘটনার মূল হোতা সোহরাব হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, দেশের ঐতিহাসিক স্থাপনা বায়তুল মোকাররমের ভার বহনকারী মূল পিলার হচ্ছে দু’টি। এই দুটি পিলারের ওপরেই মসজিদ ভবনের পুরোপুরি লোড নেয়া হয়। মসজিদ ভবনের নিচের মার্কেটে স্ত্রীর মালিকানাধীন দোকান আয়তনে বড় করতে রাতের আঁধারে ওই দুটি পিলারের একটি ও ১৫ ফুট দেয়াল ভেঙ্গে ফেলেন মো. সোহরাব হোসেন গাজী। তিনি আওয়ামী লীগের বায়তুল মোকাররম ইউনিট সভাপতি।

এ ঘটনা তদন্তে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি গত ২০ মার্চ ধর্ম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এতে ঘটনার হোতা সোহরাবসহ একাধিক ব্যক্তিকে দোষী প্রমাণিত করা হয়। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

এই ঘটনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে থানায় একটি জিডিও করা হয়েছে। গত ২৪ অক্টোবর পল্টন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন বায়তুল মোকাররম মসজিদ ও মার্কেটের সিকিউরিটি সুপারভাইজার মো. নুরুল হক।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ১৬ অক্টোবর মধ্যরাতে বায়তুল মোকাররম মসজিদ-মার্কেট কমপ্লেক্সের ইলেকট্রনিক্স মার্কেটের ভেতরে বিকট শব্দ শোনা যায়।

এ সময় দায়িত্ব পালনরত নৈশপ্রহরীরা ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। কিন্তু সব গেট ভেতর থেকে তালাবদ্ধ থাকায় তারা ঢুকতে ব্যর্থ হন। অনেক অনুরোধ করলেও ব্যবসায়ীদের নিয়োগ করা গার্ডরা ভেতর থেকে তালা খোলেননি।

এরপর সকালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, মসজিদ ভবনের মূল লোড বহনকারী একটি পিলার অপসারণ করে নিউ সুপার মার্কেটের এইচ-৬ নম্বর দোকানের আয়তন বড় করা হয়েছে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে রাতের আঁধারেই দোকানের ছাদে প্লাস্টার ও চুনকাম করা হয়েছে; ফ্লোরে বসানো হয়েছে টাইলস।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, উপরোল্লিখিত দোকানটির ভেতরে ২৪.৭৭ বর্গফুট ব্যাসের একটি লোড বিয়ারিং পিলার ছিল। সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পিলারটি অপসারণ করা হয়। এ পিলারের সঙ্গে সংযুক্ত ১৫ ফুট লোড বিয়ারিং দেয়ালটিও ভেঙে ফেলা হয়েছে।

যে পিলারটি ভেঙে ফেলা হয়েছে এটির সমান্তরালে উত্তর পাশে আরেকটি পিলার রয়েছে। মূলত এ দুটি পিলারের উপরই মসজিদ ভবনটির লোড পড়েছে। পিলার ও দেয়াল অপসারণের ফলে মূল মসজিদ ভবনের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। যে কোনো সময় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এদিকে আওয়ামী লীগ নেতা সোহরাব হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, বায়তুল মোকাররম মসজিদের যে পিলার ভেঙে গায়েব করার কথা বলছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন; প্রকৃত পক্ষে আমার দোকানে এমন কোনো পিলারের অস্তিত্বই নেই; ছিলও না। একটি মহল আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে।

সোহরাব গাজীর বিরুদ্ধে কেবল বায়তুল মোকাররমের ক্ষতি সাধনই নয়, বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম-জালিয়াতিসহ নানা ধরনের চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। এ নিয়ে দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

এতে জানা যায়, বায়তুল মোকাররম মার্কেটের একটি দোকানে এক সময় বয়ের কাজ করা সোহরাব এখন ফুটপাত দখল করে ব্যবসা, অন্যের দোকান জবরদখল, ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করাসহ নানা অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি এখন কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন, সে খতিয়ানও দেয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: