সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

চা বাগানের শিক্ষাক্ষেত্রে জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি

চা শ্রমিক ও চা জনগোষ্টির শিক্ষার সামগ্রিক অধিকার বাস্তবায়নের দাবিতে ‘চা বাগান শিক্ষা অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ’ এর উদ্যোগে আজ ২৬মে (রবিবার) সকাল ১১টায় চা বাগান অধ্যুষিত জেলা সিলেট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রনালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। প্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করে বেলা ১১টায় সিলেট শহীদ মিনারে বিভিন্ন বাগানের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হন। স্মারকলিপি প্রদানের পূর্বে অধীর বাউরীর সভাপতিত্বে এবং রানা বাউরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, চা বাগান শিক্ষা অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সংগঠক সঞ্জয় কান্ত দাস, বিশ্বজিৎ শীল, মালনীছড়া বাগান শাখার সংগঠক সঞ্জিত বাউরী, লাক্কাতুরা বাগানের সংগঠক অংকন নায়েক, লালাখাল বাগানের সংগঠক সুমন মৃধা,হিলুয়াছড়া বাগান শাখার সংগঠক রঞ্জু গঞ্জু , খান বাগানের সংগঠক জীবন রায়, দলদলি বাগানের সুচিত্রা লোহার,ছড়াগাং বাগানের রিপন কুর্মী প্রমুখ।সমাবেশ শেষে একটি মিছিল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরবর্তীতে একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসক মাধ্যমে অর্থমন্ত্রনালয় বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সন্দ্বীপ কুমার সিংহ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল চা। চা জনগোষ্ঠির অমানুষিক পরিশ্রমে শুধু নান্দনিক সৌন্দর্যের চা বাগানই গড়ে উঠছে না, সচল হচ্ছে দেশের অর্থনীতির চাকা। এছাড়া দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও রয়েছে চা জনগোষ্ঠির বীরত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্যি স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও শিক্ষাসহ সকল মৌল মানবিক অধিকার বঞ্চিত চা শ্রমিকরা। আজ সারা দেশের ১৬৬ টি বাগানের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে মাত্র ১২/১৪টিতে, আর মাধ্যমিক স্কুল আছে ৩টিতে। অথচ সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে “রাষ্ট্র একই পদ্ধতির গণমুখী ও সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্যে এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা দানের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন”। সংবিধানের এ ঘোষণা চা বাগানে আজও কার্যকর হয়নি, শুধু তাই নয় ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ সরকারের ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা’ কর্মসূচিও চা বাগানে বাস্তবায়ন করা হয়নি। এরপরও যে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে চূড়ান্ত আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে শিক্ষার উপকরণই তারা ক্রয় করতে পারে না। তাই বাগান কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে শিক্ষা বৃত্তি চালু এবং বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণও সরবরাহ করা প্রয়োজন। আবার যারাও বা এত বাঁধা অতিক্রম করে উচ্চ শিক্ষা কিংবা রাষ্ট্রীয় কোন আয়োজনে অংশগ্রহণ করতে যান, শুরু থেকেই তারা পিছিয়ে থাকেন। তাই পিছিয়ে পরা এ জনগোষ্ঠির সামগ্রিক বিকাশের স্বার্থে উচ্চ শিক্ষা ও চাকুরির ক্ষেত্রে ‘বিশেষ কোটা’ পদ্ধতি অবিলম্বে চালু করতে হবে। অন্যদিকে যে ভূমির উপর চা শ্রমিকরা দেড়শত বছরেরও অধিক সময় থেকে বাস করে আসছেন, সেই ভূমিতে নেই কোন অধিকার। আবার চা বাগানের অনেক কর্মক্ষম যুবক যুবতী আছেন যাদের উপযুক্ত কাজের সুযোগ নেই। পিছিয়ে পরা এ জনগোষ্ঠির জন্যে প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় বিশেষ আয়োজন। তাই আসন্ন জাতীয় বাজেটে চা বাগানের শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে চা জনগোষ্টির শিক্ষার অধিকার বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণকরার দাবি জানান। – বিজ্ঞপ্তি



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: