সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শিক্ষার্থীদের অসন্তোষের মাঝেই হল খালি করলো শাবি প্রশাসন

নিউজ ডেস্ক:: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আবাসিক হল বন্ধ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে অসন্তোষ থাকা সত্ত্বেও শুক্রবার (২৪ মে) বিকেলের মধ্যে সকল হল খালি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শুধু তাই নয়, শিক্ষার্থীদের হল ছাড়া করতে একটি হলের পানি, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। যদিও পানি, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধের ব্যপারে সংস্কার কাজের বিষয়টি তুলে ধরে শাবি প্রশাসন।

একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো থেকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়- ‘গ্রীষ্মকালীন ও পবিত্র ঈদ উল ফিতরের ছুটি উপলক্ষে ২৪ মে শুক্রবার বিকেল ৫টার মধ্যে শিক্ষার্থীদেরকে হল ছেড়ে দিতে হবে এবং ১৩ জুন সকাল ৯টার পর তারা হলে প্রবেশ করতে পারবে।’

এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে দীর্ঘদিন থেকে অসন্তোষ জানিয়ে আসার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস বন্ধের সময় হল খোলা রাখার দাবি জানান। কিন্তু শিক্ষার্থীদের দাবিকে উপেক্ষা করে হল বন্ধের বিষয়ে অটল রয়েছে শাবিপ্রবি প্রশাসন। শিক্ষার্থীদেরকে হল থেকে বের করে দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট এবং পানি লাইন বন্ধ করে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক বিতর্কিত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমিনুল হক ভূইয়ার মেয়াদের শেষ সময়ে আবাসিক হলের বন্ধ রীতি চালু হয়। ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীন কোন্দল বন্ধ করার জন্য এবং সংঘর্ষের আশংকা থেকে বেশ কয়েকবার হল বন্ধ করা হয়। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনায় তৎকালীন উপাচার্য হল বন্ধ করলে শিক্ষার্থীরা দিনভর আন্দোলন করে এবং হল ও ক্যাম্পাস খোলে দেওয়ার দাবিতে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরবর্তীতে আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হল খোলে দিতে বাধ্য হয়েছিল। এর পরবর্তীতে প্রতি বছরই ছাত্রলীগের সংঘর্ষের অযুহাত দেখিয়ে হল বন্ধ করে আসছে শাবিপ্রবি প্রশাসন।

এদিকে বেশ কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এই বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক পরিবেশ অনেকটাই শান্ত। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের হল বন্ধের রীতি না থাকলেও শিক্ষার্থীদের সাথে কোনো ধরনের কথা না বলে হল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাবেক উপাচার্যের একটি অনিয়মকে নিয়ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হচ্ছে বলে আবাসিক শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মাসের শেষের দিকে হঠাৎ করে হল বন্ধ করে দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছে। আমার টিউশনি রয়েছে। টিউশনির টাকা দিয়ে আমার পড়ালেখা চালাই। তাছাড়া আমার মাস্টার্স পরীক্ষা চলতেছে এবং আমি চাকরির জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছি। এভাবে লম্বা ছুটিতে হল বন্ধ করে দিলে আমাদের পড়ালেখায় সমস্যা হবে। আর আবাসিক শিক্ষার্থীদেরকে হঠাৎ করে বের করে দিলে তারা থাকার জায়গা কোথায় পাবে?’

আরেক শিক্ষার্থী নিখিলেশ কর বলেন, ‘আমি হলে ভর্তি তারপরও সনাতন ধর্মাবলম্বী এবং মুসলিম বাদে অন্য ধর্মের শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য কোনো ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। অনেকটা বাধ্য করেই অন্যান্য ধর্মের লোকদের বাড়িতে পাঠানো হচ্ছে। তাছাড়া আমাদের ক্লাসের ছেলে-মেয়ে সবারই ৩০ মে পর্যন্ত ইন্টার্নশিপ রয়েছে। আমাদের থাকার কোনো ধরনের ব্যবস্থা না করে হল বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা বিপদে পড়েছি। আমাদের তো ঈদ নেই আমরা কোথায় যাবো?’

স্বপ্নীল দাশ রাজন বলেন, ‘হলে থাকা আমাদের অধিকার। এখানে বন্ধ পরবর্তী পরীক্ষা, ব্যক্তিগত পড়ালেখা ও টিউশনির চাপ তো রয়েছেই। আমাদের অনেকেররই এতো বড় সময় বাড়িতে থাকার কোনো বাস্তবতাই নেই।’

এদিকে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী হল ছাড়তে নারাজ। তারা হল বন্ধের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে মো. তৌহিদুজ্জামান ও দ্বীন বন্ধু সরকার বলেন, ‘ছাত্ররা তাদের অধিকার বলে বার বার হলে থাকার দাবি জানালেও প্রশাসনের অনড় সিদ্ধান্ত খুবই অগণতান্ত্রিক এবং সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে যেভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ করেছে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যতের জন্য অশনি সংকেত।’

সাধারণ শিক্ষার্থীরা যখন হল বন্ধ অসন্তুষ্ট তখন রাজনৈতিক চাপের কারণে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হল খোলা রাখার দাবি জানাতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে। নাম প্রকাশ না করা শর্তে কয়েকজন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী জানান, হল খোলা রাখার জন্য আমরা হল প্রশাসনের সাথে কথা বলতে গেলে গ্রুপের নেতারা হল থেকে নেমে যাওয়ার জন্য চাপ দেন। অনেকটা বাধ্য হয়েই আমরা হল বন্ধের প্রতিবাদ করতে পারি না।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে রাজনৈতিক চাপের কথা অস্বীকার করে শাবিপ্রবি ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, ‘ছাত্রলীগের সকল নেতাকর্মী সমান। যেকোনো বিষয়ে তারা সবাই হল প্রভোস্ট, প্রক্টরের সাথে কথা বলতে পারে।’

কোন পরিস্থিতির কারণে এই বছর হল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে তা জানতে বেশ কয়েকজন হল প্রভোস্টের সাথে যোগাযোগ করে এই প্রতিবেদক। যোগাযোগ করলে সৈয়দ মুজতবা আলী হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক ড. আসিফ ইকবাল হল বন্ধের বিষয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এবিষয়ে শাহপরান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান খান বলেন, ‘আমার একার পক্ষে হল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তের সময় উপাচার্য, প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা, হলের প্রভোস্টবৃন্দসহ প্রশাসনের অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এর আগেও আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে দায়িত্ব পালন করেছি তখন হল খোলা রাখা হত। ঐসময়েও সবার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হল খোলা রাখা হয়েছিল।’

এদিকে হল বন্ধের বিষয়ে একই কথা বলেছেন বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক শরীফা ইয়াসমিন।



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: