সর্বশেষ আপডেট : ১৮ মিনিট ৪ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কানাইঘাটে কৃষকের ধান ক্রয়ে ‘সিন্ডিকেট’

কানাইঘাট সংবাদদাতা:: সিলেটের সীমান্তবর্তী কানাইঘাট উপজেলায় মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করছে ‘সিন্ডিকেট’। এর ফলে নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন সাধারণ কৃষকরা।

একই সাথে সরকারিভাবে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের কাছ থেকে ধান-চাল সংগ্রহ করার কথা থাকলেও কৃষকের তালিকা তৈরিতেও উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ। যে কারণে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে খাদ্য গুদামে ধান-চাল উঠানোর কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলা কৃষি অফিসের কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজসে খাদ্য গুদামের ধান-চাল সংগ্রহে ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে তোলা হয়েছে। আর এতে স্থান পেয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতাও। যারা মূলত কৃষকই নন। তবে কৃষক না হলেও তাদের নামে ইস্যু করা হয়েছে কৃষি কার্ড। গত বছরও একই ভাবে ধান-চাল সংগ্রহে অনিয়ম করা হয়েছিল বলেও সূত্র জানিয়েছে।

এ মধ্যস্বত্বভোগী ‘সিন্ডিকেট’ কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করে খাদ্য গোদামে দিচ্ছেন। ফলে নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত থাকেন কৃষকরা। একই ভাবে সাধারণ কৃষকরা সরাসরি ধান বিক্রিতে নানা হয়রানির শিকার হন বলেও জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার কানাইঘাটে ধান-চাল সংগ্রহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। সকালে যথারিতী সেখানে পৌঁছান উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মোমিন চৌধুরী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা। কিন্তু সেখানে গিয়ে ধান সংগ্রহে ‘অব্যবস্থাপনা’র চিত্র তাদের সামনে ধরা পড়লে তারা ধান সংগ্রহ স্থগিত করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কানাইঘাট খাদ্যগুদাম অফিসের উদ্যোগে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান ও মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল ক্রয়ের উদ্বোধনী ছিল। স্থানীয় প্রশাসন উদ্বোধনী দিনে কৃষকদের জমায়েত করার নির্দেশ দেন খাদ্যগুদাম অফিসের কর্মকর্তাদের। কিন্তু‘ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা চেয়ারম্যান খাদ্যগুদাম অফিসে উপস্থিত হয়ে দেখতে পান সেখানে যারা উপস্থিত হয়েছেন তাদের মধ্যে কৃষকের সংখ্যা নগণ্য। ফলে তারা ক্রয় স্থগিত করে দেন।

পরে নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ নিয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় যথাযথ ভাবে উপজেলার সকল প্রকৃত কৃষকদের যে তালিকা কৃষি অফিস থেকে প্রদান করা হবে তা যাচাই বাছাই করে সরকারী ভাবে ৪/৫ দিনের মধ্যে কোন ধরনের ‘অনিয়ম’ ছাড়াই উপজেলায় ১৩৬ টন ধান কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ২৬ টাকা ধরে ক্রয় করা শুরুর সিদ্ধান্ত হয়।

এসময় খাদ্য গুদামের কর্মকর্তার বেশ তোপের মুখে পড়েন। সভায় উপস্থিত সদর ইউপির চেয়ারম্যান মামুন রশিদ, বড়চতুল ইউপির চেয়াম্যান মাওলানা আবুল হোসাইন ও বাণীগ্রাম ইউপির চেয়ারম্যান মাসুদ আহমদ বলেন, ‘কানাইঘাটে সরকারী ভাবে ধান, চাল ক্রয় করা হবে এ ব্যাপারে তারা কিছুই জানেন না। খাদ্যগুদাম অফিস কর্তৃপক্ষ কে জনপ্রতিনিধিদের ধান ক্রয়ের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান ক্রয় না করে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করে অনিয়ম দূর্নীতি বন্ধের দাবী জানান।’

কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘খাদ্যগুদাম অফিসের কর্মকর্তারা পূর্বেও ধান, চাল ক্রয়ে অনিয়ম করেছেন। তারা কৃষকদের কাছ থেকে নানা অজুহাত দেখিয়ে ধান ক্রয় না করে সিন্ডিকেট চক্রের কাছে থেকে অনিয়মের মাধ্যমে ধান ক্রয় করে থাকেন। প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের দাবী জানান তিনি।’

স্থানীয় সাংবাদিকরা খাদ্যগুদাম অফিসের কমিটিতে থাকলেও কর্মকর্তারা ধান, চাল ক্রয় সহ যে কোন কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ত করেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক জানান, ‘কৃষি বিভাগের তালিকায় তাদের নাম থাকলেও খাদ্য গুদামে গেলে তাদের নানা ভাবে হয়রানি করা হয়। একই সাথে ধান ভালো নয় বলে তা ফিরিয়েও দেওয়া হয়। ফলে তারা বাধ্য হয়ে সিন্ডিকেটের কাছে ধান কমমূল্যে বিক্রি করে দেন।’

উপজেলা অতিরিক্ত খাদ্য কর্মকর্তা মোস্তাক আহমদ জানান, ‘আগামী ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত কৃষি অফিসের তালিকা অনুযায়ী খাদ্যগুদাম কর্র্তৃপক্ষ বিধি মোতাবেক প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ১৩৬ টন ধান ক্রয় করবে। একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৩ টন ও নিম্নে ৩ বস্তা ধান সরকারী মূল্য অনুযায়ী কেজি ২৬ টাকা ধরে বিক্রি করতে পারবেন।

এছাড়া ইতোমধ্যে মিল মালিকদের কাছ থেকে ২৭৭ টন সিদ্ধ চাল প্রতি কেজি ৩৬ টাকা ধরে ও আতব চাল ৩৭৫ টন ৩৫ টাকা প্রতি কেজি দামে ক্রয় করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: