সর্বশেষ আপডেট : ১৫ মিনিট ৩২ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মৌলভীবাজারে মৌসুমী ফলের চাহিদা বেশী

মুবিন খান, মৌলভীবাজার:: নানা পদের বাহারি ইফতারের আয়োজন থাকে প্রতিদিনই। তবে ফলের রাজা জৈষ্ঠ মাসে যখন রমজান, তখন কি আর আম, কাঠাল, আনারস ছাড়া ইফতারের আয়োজন জমে? মোটেই না। প্রবাসী অধ্যুষিত মৌলভীবাজারের ভোজন বিলাসী ইফতারে মৌসুমী ফলের চাহিদা বেড়েই চলছে। তবে ফলের বাজারের সাথে রমজান উপলক্ষে জমে উঠেছে মৌলভীবাজারের রকমারী ইফতার বাজার। প্রতিদিন দুপুর থেকেই শুরু হয়ে যায় নানা ধরনের ইফতার সামগ্রীর বাজার। জেলা শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে ইফতার কিনতে ছুটে আসেন ভোজনরসিকরা।

এবারের রমজান মাস পড়েছে জৈষ্ঠ মাসেই। সারা দিন রোজা রেখে ইফতারে মৌসুমি ফলমুলও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। জৈষ্ঠের আগমন ঘটতেই বাজারে গ্রীষ্মকালীন ফল ব্যাপক হারে আসতে শুরু করেছে ।
সরেজমিন শহরের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজানে মৌলভীবাজারের অধিকাংশ বাজারগুলোতে মৌসুমী ফল বিক্রেতাদের ব্যস্ততা বেড়েছে। প্রতিদিন মৌসুমী ফলের স্বাদ নিতে দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা ফল দোকানগুলোতে ভীড় জমাচ্ছেন।

ফল ব্যবসায়ীরা জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ব্যবসা একটু মান্দা হলেও এই গরমের কয়দিনে তাদের বিক্রি বেড়েছে। তারা জানান, মৌসুমী ফলে কেমিক্যাল মেশানো হয় না। কেননা কেমিক্যাল মেশালে এক থেকে দুই দিনের মধ্যে এসব ফল পচে যায়।
এদিকে জেলার রাজনগর উপজেলার টেংরা বাজার, সদর উপজেলার পশ্চিম বাজার, শ্রীমঙ্গল বাজার, কুলাউড়ার বাক্ষ্মণবাজারসহ জেলা ও পৌর শহরের প্রায় সব বাজারে দেশীয় ফলের সরবরাহ বেড়েছে।

এসব ফলের মধ্যে কাঁঠাল আকারভেদে ১০০-১৫০ টাকা, আপেল প্রতিকেজি ১৪০-১৫০ টাকা, দেশীয় আম প্রতিকেজি ১৫০-১৬০ টাকা, পাহাড়ী আনারস প্রতিপিছ ৩০-৩৫ টাকা, লিচু প্রতিশত ২৮০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া গ্রামের বিভিন্ন রাস্তায় ও ছোট ছোট বাজারে এবং মোড়ে মোড়ে রিকশা ভ্যানে ফেরি করে দেশী জাতের আম, আনারস, কাঁঠাল, লিচুসহ মৌসুমী ফল বিক্রি হচ্ছে।
রাজনগর উপজেলার আফজাল নামের এক কাঠাল ব্যবসায়ী জানান, গত কয়েক দিনের ঝড়-বৃষ্টিতে পাহারের অনেক কাঠাল গাছ ভেঙে গেছে। কিছু কাঠাল কম দামে বিক্রি করতে পারলেও বেশীর ভাগ নষ্ট হয়ে গেছে।

শহরের কোর্ট মার্কেটে ফল কিনতে এসেছেন স্কুল শিক্ষক রিবান বক্স। তিনি জানান, মৌসুমের শুরুতে মৌসুমী ফলের প্রতি সবারই আকর্ষন থাকে। দাম এখন কিছুটা বেশি হলেও ইফতারি ও বাচ্চাদের জন্য আম ও লিচু কিনেছি। তবে ফলের বাজার যাতে রাসায়নিক কেমিক্যাল (ফরমালিন) মুক্ত থাকে সে জন্য বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার রাখার দাবী জানাই ।

জেলার চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল বাজার এলাকার এক ফল বিক্রেতা জানান, বৃষ্টির কারণে বিক্রি তেমন ছিল না। ফলে তরমুজ, বাঙ্গি ও লিচু পঁচে অনেকটা লোকসান গুণতে হয়েছে। কিন্তু রমজান উপলক্ষে মৌসুমী ফলের চাহিদা ও বিক্রি বেড়েছে।
এদিকে পিছিয়ে নেই রকমারী ইফতার সামগ্রীর বাজার। সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম দিন থেকেই জমে উঠেছে মৌলভীবাজারের ইফতার বাজার। রকমারি ইফতার সামগ্রী দিয়ে সাজানো হয়েছে শহরের হোটেল রেষ্টুরেন্টগুলো। বিকেল ৫ টার পর ইফতারের দোকানগুলোতে বাড়তে থাকে ক্রেতাদের সমাগম।
শহরের রেষ্টুরেন্টগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে চৌমুহনায় কোর্ট রোডের সামনে ইফতারি বাজার পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। চলে জমজমাট বিকিকিনি। বাহারি সব খাবার নিয়ে বসা এ হোটেলগুলোতে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে ছাড়েন নানা হাঁকডাক।

সরেজমিন দেখা যায়, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সামনেই পসরা সাজিয়ে বসছেন বিক্রেতারা। আর দোকানে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ভোজনরসিক রোজাদাররাও। ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এখনকার ব্যবসায়ীরা আকর্ষণীয় ও মুখরোচক ইফতার সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেন। প্রতিদিন বিকাল থেকে ক্রেতা সমাগমের পাশাপাশি চলছে বেচাকেনার ধুম। বাহারি ইফতারের মধ্যে শামি কাবাব, টিক্কা কাবাব, চাপালি কাবাব, মুরগির রোস্ট, খাসির মাংসের কিমা পরোটা, গরুর মাংসের কিমা পরোটা, নিমকি, জিলাপি, ছোলা, আলুর চপ, মোরগ পোলাও, বেগুনি, হালিমসহ হরেক রকমের উপকরণ উল্লেখযোগ্য। এ বছর রোজায় গরমের তীব্রতা বেশি। সারাদিনের রোজা শেষে রোজাদারদের তৃপ্তি দিতে পানীয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে।

ক্রেতাদের সাথে কথা বললে বেশীর ভাগ ক্রেতারা জানান, রকমারী ইফতার ক্রয় করে মেয়ের বাড়িতে নিয়ে যাবো। তবে এই কুসংস্কার কেনো তারা এখনো মেনে চলেন সেই বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, এটা আমাদের সিলেটের ঐতিহ্য। বাপ দাদারা দিয়ে এসেছেন আমরা কিভাবে তা বন্ধ করি। তবে জোর পূর্বক কেউ ইফতারির আবদার করে কারো উপর চাপ সৃষ্টি করা কখনো টিক নয়। আত্মীয়তার সম্পর্ক গভীর করতে আমরা আমাদের এই ছোট্ট আয়োজন পালন করে থাকি।

শহরের বিভিন্ন দোকানে দেখা যায়, প্রতি বাক্স চিকেন বিরিয়ানী ২০০ টাকা, বিফ বিরিয়ানী ২২০ টাকা, আলু চপ প্রতি পিছ ৫ টাকা, রেশমী কাবাব প্রতি পিছ ১৫ টাকা, চিকেন পিয়াজু প্রতি পিছ ১৫ টাকা, শাক বড়া প্রতি পিছ ৫ টাকা, পাটিসাপটা প্রতি পিছ ১০ টাকা, চিকেন উইংস ৩ পিছ ৮০টাকা, ফিস সমুচা প্রতি পিছ ১৫ টাকা, চিকেন আখনি ২৩০, বিফ আখনি ২৫০, চিকেন গ্রিল প্রতি পিছ ৩২০, বিফ চাপ ৮০ টাকা, বিফ কাটি কাবাব প্রতি স্টিক ৮০ টাকা, চিকেন টিক্কা প্রতি পিছ ১২০ টাকা, চিকেন লেগ প্রতি পিছ ৭০ টাকা, জিলাপি ১৫০ টাকা প্রতি কেজি, ছোলা ১৫০ টাকা প্রতি কেজি, নিমকি ১২০ টাকা প্রতি কেজি, শাহী হালিম ১৬০ টাকা প্রতি কেজি।

কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) মৌলভীবাজার সভাপতি আবু তাহের বলেন, আগে যে হারে ভেজাল মিশ্রিত ফলমূল বাজারে ছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অভিযানে এখন তা কমে এসেছে। সেজন্য মানুষ বাজার থেকে ফলমূল একটু হলেও নির্ভয়ে ক্রয় করছে।



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: