সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ৪০ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দেশে সংকট না থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় চাল আমদানি করছে ব্যবসায়ীরা, বিপাকে কৃষক

নিউজ ডেস্ক:: যখন ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে দেশের কৃষকরা ক্ষেতেই পাকা ধানে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে ঠিক তখনই ভারত থেকে হাজার হাজার টন চাল আমদানি করা হচ্ছে।

এতে আমদানিকারক ও ভারতীয় কৃষকরা লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের কৃষকরা। সরকারের মন্ত্রীরা যখন বিদেশে চাল রপ্তানির কথা বলছে ঠিক সে সময় হাজার হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানিকে অনেকে হাস্যকর বলছেন।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে সংকট না থাকা সত্ত্বেও চাল আমদানি করায় বাজারে ধানের দাম আরো কমে যাচ্ছে। মিল মালিকরা বলছেন, বিদেশ থেকে চাল আমদানির ফলে বাজারে এর ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। কমছে দেশি চালের দাম ও চাহিদা। আমদানি বন্ধ না হলে কৃষকরা আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বৃহৎ দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গত দেড় মাসে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন চাল। হিলি স্থলবন্দরের বেসরকারি অপারেটর পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের মিডিয়া কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন মল্লিক প্রতাপ জানান, গত এপ্রিল মাসে ভারত থেকে চাল এসেছে ৯ হাজার ১৭৮ মেট্রিক টন। গত ১৫ মে পর্যন্ত এই বন্দর দিয়ে চাল এসেছে ৫২০০ মেট্রিক টন।

তিনি জানান, দিনে গড়ে ৩০০ মেট্রিক টন চাল ঢুকছে হিলি বন্দর দিয়ে। বেশির ভাগই সম্পা কাটারি চাল বলে জানান তিনি।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে ধান উৎপাদন বাড়লেও ব্যাপক হারে চাল আমদানি হওয়ায় বাজারে ধানের দাম বাড়ছে না। চাল আমদানি করায় কৃষকরা তাদের ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। এতে কৃষকরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

দিনাজপুরের হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এটিএম শফিকুল ইসলাম জানান, গত কয়েক বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের কার্যকর পদক্ষেপে দেশে ধান উৎপাদন অনেক গুণ বেড়েছে। এ অবস্থায় প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও বিদেশ থেকে চাল আমদানি করা হচ্ছে। এতে কৃষকরা তাদের ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চাল আমদানি বন্ধ না হলে কৃষি অর্থনীতিতে ধস নামবে।

দিনাজপুর জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি মোসাদ্দেক হুসেন বলেন, ‘ব্যাপক হারে চাল আমদানির ফলে বাজারে কম দামেই চাল বিক্রি করছে আমদানিকারকরা। গত আমন মৌসুমেও বাম্পার ফলন হয়েছে। এবার বোরোতে ফলন হয়েছে বাম্পার। কৃষক ও কৃষি অর্থনীতির স্বার্থে দেশের চাহিদা মিটিয়ে চাল রপ্তানি করা উচিত।’

হিলি স্থলবন্দর আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন-অর রশিদ হারুন বলেন, ‘ভারত থেকে এখন যে চাল আসছে তা আতপ। প্রতি কেজি ভারতীয় চালের দাম পড়ছে ২২ টাকা। অথচ সরকার কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংগ্রহ অভিযানে চালের মূল্য ঠিক করেছে ৩৬ টাকা। চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকরা চরম লোকসানের মুখে।

লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচও পাচ্ছে না কৃষক। যারা ধান কেটেছে, তারা পানির দামে ধান বিক্রি করে হতাশ ও বিমর্ষ হয়ে বাড়ি ফিরছেন বাজার থেকে। যারা এখনও ধান কাটেনি, তারা বেশি মজুরি দিয়ে ধান কাটতে সাহস পাচ্ছেন না। দিনাজপুরে বোরো ধান বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ৫০০-৫৫০ টাকায়।’

কৃষকরা বলছে, এই দামে ধান বিক্রি করে লাভ তো দূরের কথা উৎপাদন খরচও উঠছে না। অনেকে বাধ্য হয়ে লোকসানেই ধান বিক্রি করছেন।



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে. এ. রাহিম. সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: