সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

৬৭ টাকার খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ টাকায়!

নিউজ ডেস্ক:: রমজানকে সামনে রেখে রেকর্ড পরিমাণ খেজুর আসার পরও নাগালের বাইরে আছে দাম। রোজার আগের ছয় মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ২৩৪ কোটি টাকায় ৩৫ হাজার ৪০৯ টন শুকনো ও ভেজা খেজুর আনেন ৮০ ব্যবসায়ী। শুল্ক্ক দেওয়ার পর প্রতি কেজির দাম পড়ে ৬৭ টাকা। অথচ বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত।

আমদানির চিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়,আমদানি করা মোট খেজুরের ৭০ শতাংশই ২৫ ব্যবসায়ীর কাছে। ফলে সিন্ডিকেট করে তারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। এভাবে তারা তুলে নিচ্ছেন মাত্রাতিরিক্ত মুনাফা।গেল বছরের অক্টোবর থেকে গত মার্চ পর্যন্ত আমদানি চিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, রমজানকে ঘিরে এবার পর্যাপ্ত খেজুর আমদানি হয়েছে দেশে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছে ভেজা খেজুর।

দুই ধরনের প্যাকেটে খেজুর এসেছে। একটি সর্বোচ্চ আড়াই কেজির প্যাকেট। আরেকটি আড়াই কেজির ওপরের প্যাকেট। কিছু ব্যবসায়ী শুকনো ও ভেজা উভয় খেজুর আমদানি করেছেন।তবে সর্বোচ্চ আড়াই কেজির প্যাকেটে ভেজা খেজুর এনেছেন ১৫ ব্যবসায়ী। ১৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকায় মোট ১ হাজার ৯৭১ টন খেজুর আনেন তারা।

আবার আড়াই কেজির ওপরে ভেজা খেজুর এনেছেন ৬০ ব্যবসায়ী। ২১১ কোটি ৬৪ লাখ টাকায় তারা ৩২ হাজার ২৩০ টন খেজুর এনেছেন। আড়াই কেজির বড় প্যাকেটে শুকনো খেজুর এনেছেন ১৫ ব্যবসায়ী। ৫ কোটি ৯২ লাখ টাকায় তারা ১ হাজার ২০০ টন খেজুর এনেছেন। সব মিলিয়ে রমজানকে সামনে রেখে এবার ২৩৪ কোটি টাকায় ৩৫ হাজার ৪০৯ টন খেজুর আমদানি হয়েছে।

এসব খেজুর খালাসের আগে চট্টগ্রাম কাস্টমসকে শুল্ক্ক পরিশোধ করতে হয়েছে ৩ কোটি টাকা। এ হিসাবে শুল্ক্কসহ প্রতি কেজি খেজুরের দাম পড়েছে ৬৭ টাকা। অথচ বাজারে প্যাকেটজাত এসব খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৮শ’ থেকে দেড় হাজার টাকায়।

নিজেদের খেয়াল খুশি মতো একটি অসাধুচক্র মাত্রাতিরিক্ত মুনাফার আশায় এ অবিশ্বাস্য কাজটি দেদারসে করে চলেছে। এই নিয়ে প্রশাসনের তেমন কোনো নজরদারী এখনও পর্যন্ত চোখে পড়েনি। তাই এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভোক্তভূগীরা।

বাজার ঘুরে জানা গেছে, সৌদি আরবের আজওয়া খেজুর প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা দরে। মেকজেল খেজুর কেজিপ্রতি ১ হাজার ৩০০ টাকা। ইরানের কামরাঙ্গা মরিয়ম ১০০০ টাকা, সাধারণ মরিয়ম ৯০০ টাকা, তিউনিসিয়ার প্যাকেটজাত খেজুর ৪৬০ টাকা, দাবাস ২২০ টাকা, ফরিদা ৩০০ টাকা, বড়ই ২২০ টাকা, নাগাল ২০০ টাকা ও বাংলা খেজুর ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ওই হিসাবে প্রতি কেজি খেজুর আমদানি মূল্যের চেয়ে কমপক্ষে দুই গুণ ও সর্বোচ্চ ২০ গুণ দামে বিক্রি হচ্ছে বাজারে।

হাটহাজারী বাজারের ক্রেতা রাসেল জব্বার খান নামে এক কলেজ শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বেশ কিছু মিডিয়া মারফত জানলাম যে, আমদানিকৃত খেজুরের দাম পড়েছে ৬৭ টাকা কেজি। অথচ এসব খেজুর কয়েকজন বিক্রেতার হাত ঘুরে হাটহাজারীতে বিক্রি হয় কেজি ১৫০০ টাকা দরে। এ কোন বোকার স্বর্গ রাজ্যে বসবাস করছি আল্লাহ মালুম।

এ ব্যাপারে চিটাগং চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, রমজানে এবার তেল, চিনি, পেঁয়াজ, ছোলাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল আছে। খেজুরের দাম কেন লাগামছাড়া, তা খতিয়ে দেখা উচিত। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে দেশের ১৬ কোটি মানুষ কষ্ট পাক, এটা আমরাও চাই না।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: