সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
রবিবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ড. কামালের নেতৃত্ব নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে: কাদের সিদ্দিকী

নিউজ ডেস্ক:: জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে জনমনে প্রশ্ন জেগেছে উল্লেখ করে তার প্রতিকার চেয়ে ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনকে চিঠি দিয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। তার পক্ষে দলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার শনিবার এ চিঠি দেন।

চিঠিতে গণফোরামের দুই সংসদ সদস্যের সংসদে শপথগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ফ্রন্টের শরিক কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। পাশাপাশি বিএনপির ৫ সংসদ সদস্যের শপথগ্রহণ ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সংসদে না যাওয়ার বিষয়টি পরিষ্কার করতে জোট নেতাকে আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ঐক্যফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে আসবে বলেও চিঠিতে হুশিয়ারি দেয়া হয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী এবং দলটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু এবং জোট গঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকেও এই চিঠির অনুলিপি দেয়া হয়েছে।

দুদিন আগে দলের বর্ধিতসভায় ঐক্যফ্রন্টে বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে উঠতে এক মাসের আলটিমেটাম দেয়ার পর ফ্রন্টের শরিকদের আনুষ্ঠানিক চিঠি দিলেন কাদের সিদ্দিকী। চিঠিতে বলা হয়, ‘জনগণের মনে আপনার (ড. কামাল হোসেন) নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে যেসব প্রশ্ন জেগেছে, তার যথাযথ প্রতিকার ও প্রতিবিধান কামনা করছি। তা না হলে আগামী ৯ জুন অথবা পরবর্তী দু’একদিনের মধ্যে প্রয়োজনে আরও ব্যাপক আকারে বৈঠক করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হব’।

এতে ড. কামাল হোসেনকে উদ্দেশ্য করে আরও বলা হয়, ‘জাতির বৃহত্তর প্রয়োজনে ঐতিহাসিক দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে গত বছর ১৩ অক্টোবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদসহ অন্য যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে আমরা যথাযথ ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। বর্তমান ভয়াবহ রাজনৈতিক অবক্ষয়ের মুহূর্তে আপনার পদক্ষেপ জাতীয় স্বার্থরক্ষায় যথাযথ মনে হওয়ায় ৫ নভেম্বর দলের এক বর্ধিতসভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যুক্ত হয়েছিল। নির্বাচন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ফ্রন্টের অনেক কর্মকাণ্ডই স্পষ্ট নয়।

নির্বাচন-পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোয় ব্যর্থ, প্রহসনের নির্বাচনী নাটক প্রত্যাখ্যান পরবর্তী সময়ে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মদের এবং এর পরে গণফোরামের মোকাব্বির খানের শপথগ্রহণ, তাকে গেটআউট বলে বের করে দেয়া, পরবর্তীতে তাকে আবার দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে সামনের সারিতে বসানো নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাঘাটে জবাব দেয়া যাচ্ছে না।

দেশে নারী ধর্ষণ, হত্যা মহামারী আকার ধারণ করেছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে এর প্রতিবাদের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। সর্বোপরি বিএনপির একজন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ায় তাকে বহিষ্কার করা, পরবর্তীতে আরও চারজন শপথ নেয়ায় তাদের স্বাগত জানানো এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ না নেয়া জনমনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে হাজারো প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এর প্রতিকার ও প্রতিবিধান প্রয়োজন’।

প্রসঙ্গত, ভোট ডাকাতির অভিযোগ তোলে একাদশ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করা বিএনপির নেতৃত্বাধীন দুই জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোট একাদশ সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

কিন্তু এই সিদ্ধান্তে অনড় থাকতে পারেনি জোটের শরিক বিএনপি ও গণফোরাম। দুটি দলের নির্বাচিত ৮ প্রতিনিধির মধ্যে সাতজন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। জোটের শরিকদের অভিযোগ তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা না করেই প্রধান শরিক বিএনপি সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এতে করে পুনর্নির্বাচন দাবি করার নৈতিকভিত্তি নষ্ট হয়ে গেছে জোটের। এই অভিযোগে সোমবার ২০-দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যায় আন্দালিভ রহমান পার্থের বিজেপি। আরও কয়েকটি দলেরও জোট ছাড়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টেও ভাঙনের সুর লক্ষ্য করা যাচ্ছে।



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: