সর্বশেষ আপডেট : ৫৯ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিজয় হত্যার ৪ বছর, মামলায় নেই দৃশ্যমান অগ্রগতি

নিউজ ডেস্ক:: আজ ১২ মে বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় হত্যার ৪ বছর। ২০১৫ সালের আজকের এই দিনে সকাল সাড়ে ৮ টায় সিলেট নগরীর সুবিদবাজার এলাকার নূরানি আবাসিক এলাকায় নিজ বাসার অদূরে তাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ‘অনন্ত’হীন সেদিনের সিলেটে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিলো।

বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন অনন্তের পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও সমমনা লেখকরা। এরপর যে জায়গায় লেখক অনন্তকে হত্যা করা হয়েছিলো সেখানে অনন্ত স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। তবে চার বছর পূর্ণ হলেও এখনো মামলায় নেই কোন দৃশ্যমান অগ্রগতি। কেবল শুরু হয়েছে সাক্ষ্যগ্রহণ।

অনন্ত হত্যাকাণ্ডের পর অনন্ত বিজয়ের বড় ভাই রত্নেশ্বর দাশ বাদী হয়ে সিলেট মেট্রোলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। প্রথমে এ মামলার তদন্তভার পুলিশের হাতে থাকলেও পরে মামলাটির তদন্তভার সিআইডি’র অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগকে দেওয়া হয়।

মামলার তদন্তভার বদলসহ নানা কারণে মামলার প্রায় দুই বছর পর আবুল হোসেন, ফয়সল আহমদ, হারুণ আল রশিদ, আবুল খায়ের রশিদ আহমদ, সাফিউর রহমান ফারাবী, মান্নান ভুঁইয়াসহ মোট ৬ জনের নাম উল্লেখ করে চার্জশিট গঠন করা হয় ২০১৭ সালের ১৮ জানুয়ারি। এরপর ২০১৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি এ মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়।

অভিযুক্ত ৬ জনের মধ্যে মান্নান ভুঁইয়া ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। পরে তিনি কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা যান। এছাড়াও আবুল খায়ের রশিদ আহমদ ও সাফিউর রহমান ফারাবী বর্তমানে কারাগারে থাকলেও বাকি ৩ আসামী এখনও পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ।

সন্ত্রাস দমন আইনের ৬, ৮, ১৩ ধারায় অভিযোগ গঠন হওয়া এ মামলার সর্বশেষ ধার্য দিন ছিলো গত ৭ মে।ওইদিন অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলার বাদী অনন্ত বিজয়ের বড় ভাই রত্নেশ্বর দাশের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হলেও আসামি পক্ষ কোন জেরা করেননি।

এদিকে দীর্ঘ চার বছর পর এ মামলায় এখন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে। গণজাগরণ মঞ্চ সিলেটের মুখপাত্র দেবাশীষ দেবু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘৪ বছরে এ মামলায় এখন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। তাছাড়া আসলেই কারা প্রকৃত হত্যাকারী সে বিষয়টিও এখনো ভালো করে জানা যায়নি। একটি চার্জশিট গঠন করা হলেও এটির সত্যতা নিয়ে সন্দিহান অনন্ত বিজয়ের পরিবার ও স্বজনরা।’

এছাড়াও এ মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে বলে মনে করছেন গণজাগরণ মঞ্চ সিলেটের মুখপাত্র দেবাশীষ দেবু। তিনি বলেন, ‘সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতাই পারে এ মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে অপরাধীদের শাস্তি প্রদান করতে।’

এদিকে অনন্ত বিজয়ের বোনের স্বামী এড. সমর বিজয় শির শেখর বলেন, ‘চার বছরে মামলার বিচার কার্য এখন শুরু হয়েছে মাত্র। এদিকে অনন্তের মা খুব অসুস্থ্য। তার মা চান জীবিত অবস্থায় ছেলে হত্যাকারীদের শাস্তি দেখে যাওয়া। তবে চার বছর পরও যেহেতু বিচার কার্য শুরু হয়েছে এখন দ্রুত যেন এর সুষ্ঠু বিচার হয় এটাই প্রত্যাশা।’

তবে মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণ হিসেবে সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্র পক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন,‘চার্জশিট গঠন হতে বিলম্ব হওয়ায় মামলার বিচারকার্য শুরু হতেও বিলম্ব হয়েছে। তবে যেহেতু সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে তাই দ্রুত বিচারকার্য শেষ হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

চার্জশিটের ব্যাপারে বাদী পক্ষের অসন্তুষ্টির ব্যাপারে তিনি বলেন ‘বাদী পক্ষ আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। চার্জশিটের বিরুদ্ধে তারা কোন নারাজি প্রদান করেননি। সুতরাং আমার মনে হয় না তাদের কোন অভিযোগ আছে।’ তিনি বলেন- সন্ত্রাস দমন আইনের ৬, ৮, ১৩ ধারায় অভিযোগ গঠন হওয়া এ মামলার আগামী শোনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ৯ জুন ২০১৯ ইং।



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: