সর্বশেষ আপডেট : ১৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২৬ মে ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রাফি হত্যার এক মাস পার: দ্রুত বিচার আইনে শাস্তি চায় পরিবার

নিউজ ডেস্ক:: সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার এক মাস পার হয়েছে। ৬ এপ্রিল রাফির গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যায় রাফি।

মর্মান্তিক এ হত্যাকাণ্ড গোটা দেশের মানুষকে নাড়া দেয়। আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়ও এ খবর প্রচার হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিরা ইতিমধ্যে ধরা পড়েছে। এখন অপেক্ষা মামলার চার্জশিট দাখিলের।

পিবিআই বলছে, মামলার অগ্রগতি সন্তোষজনক। চার্জশিট দেয়ার প্রস্তুতি চলছে।

রাফির পরিবার বলছে, দ্রুত বিচার আইনে দোষীদের শাস্তি হোক। এ রায়ের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপিত হোক, যেন আগামীতে রাফির মতো কেউ এভাবে নির্যাতনের শিকার না হয়। এলাকাবাসীরও একই দাবি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. শাহ আলম জানান, ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। পুলিশ হেডকোয়ার্টারের নির্দেশক্রমে পিবিআই মামলার তদন্ত গ্রহণ করে ১০ এপ্রিল। মামলায় এজাহারনামীয় আটজনসহ মোট ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে ১২ জন। মামলার আলামত হিসেবে কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারী শাহাদাত হোসেন শামীম, জোবায়ের হোসেন ও উম্মে সুলতানা পপির পরিহিত তিনটি বোরকা, কেরোসিন ঢালার কাজে ব্যবহৃত একটি গ্লাস জব্দ করা হয়েছে। মামলার সুরতহাল প্রতিবেদন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, রাফির মৃত্যুকালীন জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে।

দায়িত্বে অবহেলার দায়ে সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। নুসরাতের জবানবন্দি ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার দায়ে তার বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা হয়েছে।

ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের পক্ষে পুলিশ সদর দফতরে চিঠি দেয়ায় আলোচনায় উঠে এসেছে ফেনীর পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকারের নাম। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পিকেএম এনামুল করিমের বিরুদ্ধেও।

যৌন নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থী জোটের আহ্বায়ক শিবলী হাসান বলেন, শ্লীলতাহানির মামলা করার পর পাশে না দাঁড়িয়ে স্থানীয় প্রশাসন উল্টো নুসরাত জাহান ও তার পরিবারকে ভয় দেখিয়েছিল। এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দায়ী সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

মামলার বাদী নুসরাত জাহান রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, মামলার অগ্রগতি নিয়ে আমরা আশাবাদী। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে চার্জশিট দিতে গিয়ে যাতে কোনো আসামির নাম বাদ পড়ে না যায়, সেদিকে সচেতন থাকার জন্য পিবিআইকে অনুরোধ করছি।

৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যান রাফি। কয়েকজন কৌশলে তাকে ছাদে ডেকে নিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। অস্বীকৃতি জানালে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ. আর. সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: