সর্বশেষ আপডেট : ১৪ মিনিট ৪ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মৌলভীবাজারে হার না মানা মেধাবীদের গল্প

মুবিন খান, মৌলভীবাজার:: বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীর মতো ওরাও। জীবনের শুরুতেই দারিদ্রতা আর নানা অসঙ্গতির সঙ্গে নিত্য লড়াই যেন ওদের নিয়তি। তবে নানা প্রতিকূলতার সাথে নিরন্তর সংগ্রাম করেও জীবনে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখছে এ সকল মেধাবীরা। ভাল ফলাফলে দুচোখ ভরা উচ্ছ্বাস থাকলেও উচ্চ শিক্ষার ব্যয় কিভাবে মিটবে সে দুশ্চিন্তাও প্রতিনিয়ত তাড়া করে ফিরছে তাদের। তবে সব প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে সফল হওয়ার চেষ্টা তাদের অব্যাহত। ভবিষ্যতে আরো ভালো ফলাফল করে দেশ গড়ার কাজে অংশীদার হতে চান তারা। কিন্তু আর্থিক সংকটে তাদের ওই স্বপ্ন কি পূরণ হবে? সহপাঠী, শিক্ষক, বাবা-মা, আর শুভাকাঙ্খীদের সহমর্মিতা ও পরামর্শ তাদের সাফল্যের পেছনে প্রেরণার বাতিঘর হিসাবে ভূমিকা রেখেছে।

পিএসসি ও জিএসসি সহ এবারের এসএসসি পরীক্ষায়ও এপ্লাস পেয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দরিদ্র মেধাবীরা। কেউ দিনমান টিউশনি করেছে, রাতে বসেছে পড়তে। এত কষ্টেও দমেনি ওরা। সাধনা করে গেছে। পা রেখেছে সাফল্যের প্রথম সোপানে। এবার এসএসসি পরীক্ষায় পেয়েছে জিপিএ-৫। দারিদ্র্যের কাছে হার না মানা সেই সব অদম্য মেধাবীর সাফল্যের গল্পটা এবার শুনি ।

আজমল হোসেন ঃ আজমলের ঘামঝড়ানো সাফল্য টা ব্যতিক্রম। মৌলভীবাজারের রাজনগর পোর্টিয়াস মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তির্ণ হয়েছে আজমল। তার মা মারা গেছেন অনেক আগে। রাজনগর সদর ইউপি চেয়ারম্যানের দেওয়া পাঁচ শতাংশ জমির উপর তাদের ছোট্ট ঘর। সে আর তার বাবা থাকেন সেই ঘরে। বাবা বেলাল আহমদ দীর্ঘ দিন ধরে প্যারালাইসিস রোগী। বাবার চিকিৎসা ঔষধের টাকা সবকিছুই আজমলকে বহন করতে হয়। পড়া-লেখার খরচ, বাবার চিকিৎসা সবকিছু বহন করতে গিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে প্রায় কাটে তার দিন। আজমল মা-বাবার একমাত্র সন্তান। স্কুল ছুটি হওয়ার পর ৪/৫টি টিউশনি করতেন আজমল। টিউশনির টাকা দিয়েই চলতেন। বোর্ড বই’র বাহিরে নিজের ছিলনা কোনো গাইড বই। তার পরেও নিজের চ্রেষ্টা ও আন্তরিকতায় এই ফলাফল অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।

আজমল বলেন, তখন আমি একটু বড় হয়েছি। পরিবারের অভাব আমাকে অনেক কষ্ট দিতো। মা তখন আমাদের মাঝে ছিলেন। মা কখনো কাজ করতে দিত না আমায়। তার ইচ্ছা আমি লেখাপড়া করে ডাক্তার হই। আজ আমার এই সফলতা শুনলে মা অনেক খুশি হইতেন। মায়ের ইচ্ছাটা পূরণ করতে চাই।
রাজনগর সদর ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান খয়রুল মজিদ ছালেক বলেন, ছেলেটা খুব সহজ সরল। প্রায় সময় আমি দেখতাম সে কোন কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছে। সময়কে অনেক গুরুত্ব দিতো সে। এই বয়সে ছেলেরা অনেক দুষ্টু থাকে। এলাকার অনেক ছেলের বিচার করেছি। কিন্তু অভিভাবকহীন এই ছেলের বিরুদ্ধে কেউ কোন নালিশ করেনি। চাই ছেলেটা অনেক বড় হোক।

তাহমিদা আক্তারঃ মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার রাজনগর আইডিয়েল হাই স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তির্ণ হয়েছে তাহমিদা। তাহমিদার বাবা নজরুল ইসলাম একজন রাজ মিস্ত্রী। পাকার কাজ করে যে টাকা আয় হয় তা দিয়ে কোনো রকম চলছে তাদের পরিবার। ৩ বোন ও ১ ভাইয়ের মধ্যে তাহমিদা তৃতীয়। তাহমিদার বাবার পক্ষে লেখাপড়ার ব্যয় বার বহন করতে না পারায় বড় দুই বোনকে ইতি মধ্যে পাত্রস্থ করেছেন দরিদ্র বাবা। তাহমিদার স্বপ্ন লেখাপড়া করে ডাক্তার হওয়া। কিন্তু টাকার অভাবে এস্বপ্ন কতটুকু বাস্তবায়ন হবে বুঝে উঠতে পারছেন না তাহমিদা। সে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতেও এপ্লাস পেয়েছে।
রাজনগর আইডিয়েল হাই স্কুলের শিক্ষক আবু রাইয়্যান শাহীন বলেন, আমরা শিক্ষকেরা তাকে বিনা পয়সায় প্রাইভেট পড়িয়েছি। অনেক সময় খাতা-কলম কিনে দিয়েছি। স্কুলের কোন ফি তার কাছে থেকে আমরা কখনো নেই নি।

মাহফুজা জান্নাত মিমিঃ মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বঙ্গবন্ধু আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তির্ণ হয়েছে মাহফুজা। বাবা মইন উদ্দিন দুবাই প্রবাসী। মা অফিয়া বেগম গৃহীনি। ২ বোন ও ১ ভাইয়ের মধ্যে সে বড়। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওরের দক্ষিণ পাশের ভুকশিমইল ইউনিয়নের বাদে ভুকশিমইল গ্রামের বাসিন্দা মাহফুজা। নানা প্রতিকূলতা ও গ্রামের বৈরি পরিবেশের মধ্যেও প্রবল ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে মাহফুজা তার এ সাফল্য অর্জন করেছে। সে লেখাপড়া করে ডাক্তার হয়ে হাকালুকি হাওর পারের অবহেলিত মানুষের জীবনমানের এবং দেশের উন্নয়নে ভুমিকা রাখতে চায়।

মা আফিয়া বেগম জানান, মেয়েটা ছোট বেলা থেকেই পড়া-লেখায় অনেক ভালো। তবে টাকা পয়সার অভাবে মেয়েটার পড়া লেখার কোন খরচ বহন করতে পারিনি। সংসারের সকল কাজ শেষ করে মিমি স্কুলে যেতো। কোন কোন দিন তাকে না খেয়ে স্কুলে যেতে হতো। সংসারের এই দরিদ্রতায় তার স্বপ্ন কতোটুকু বাস্তবায়ন হবে তা আমার জানা নেই।



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: