সর্বশেষ আপডেট : ১৫ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ২২ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ব্যারিস্টার সুমন সময়ের সাহসী যোদ্ধা

সোশ্যাল মিডিয়াতে সাম্প্রতিক সময়ে ঝড় তোলা এক ব্যক্তির নাম ব্যারিস্টার সুমন। দেশ ও সমাজের বিভিন্ন সমস্যা, অনিয়ম-দুর্নীতি সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ তুলে ধরে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছেন। দেশের একজন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী হয়ে তিনি এসি রুমে বসে নিজস্বার্থের জন্য প্রচুর টাকা উপার্জন করতে পারতো। সবাই যা করে আরকি! তাহলে উনি কি স্বার্থে করছেন? কি লাভ তার? জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনিয়ম ও অসঙ্গতির চিত্রগুলো কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন ।একজন সচেতন বিবেকবান মানুষের যে কাজটা করা উচিত ব্যারিস্টার সুমন তাই করছেন। দেশ স্বাধীন হয়েছে ৪৮ বছর পার হয়ে গেল বিভিন্ন সরকারের  পালা বদল হলো, কিন্তু দেশের মানুষের চলার পথে কতো অনিয়ম ,কতো অসংগতি কতো সমস্যা কারো চোখে পড়ে না। সে সমস্যা গুলো আমাদের নিজেদের সৃষ্টি এবং আমাদের প্রশাসনের সৃষ্টি।  কিন্তু কে কথা বলবে? প্রশাসনের মানুষ দেখেও না দেখার ভান করে। আসলে আমাদের প্রতিটি জনগণের সচেতনতা ও মত প্রকাশের অভাব। এই সচেতনতার বিবেকবোধকে জাগ্রত করেছেন ব্যারিস্টার সুমন।
ব্যারিস্টার সুমন এর পুরো নাম সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। তিনি একজন আইনজীবী ও ব্যারিস্টার ।তিনি একাধারে লেখক ও সমাজিক সচেতন কর্মী। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এবং প্রফেশনাল নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ কলার পরিচালক। হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় স্কুল জীবন শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মার্কেটিং বা বিপণন বিভাগে অধ্যয়ন করেন। পরে তিনি লন্ডন থেকে ব্যারিস্টার পাস করেন। উপজেলার নিজ স্কুলে একটি লাইভ করেন এবং বলেন, যে শিক্ষার্থী ব্যারিস্টার পাস করবে  তিনি তাকে একটি গাড়ি কিনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এরকম বিশাল মনের মানুষ লাখে একজন । কেউ কেউ বলতেন এ মনে হয় নতুন পাগল। নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো আর কি। এবার তিনি পারিপার্শ্বিক সমস্যাগুলো ফেসবুকে লাইভে করতে থাকেন । পাওয়া গেল কর্তৃপক্ষের আশাব্যঞ্জক সাড়া। সবার ভুল ভাঙলো , না মানুষটা আসলেই কাজের মানুষ।
জনস্বার্থে বেশকিছু রিটের জন্য তিনি আলোচনায় এসেছেন। গণমাধ্যমে কিশোর আদালতে বিচারাধীন কোন শিশুর নাম পরিচয় প্রকাশ না করা বিষয়ক রিট। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন বিহীন ওষুধ বিক্রেতার এন্টিবায়োটিক বিক্রির বিরুদ্ধে রিট । সড়কের মাঝখানে শত শত বিপদজনক বৈদ্যুতিক খুঁটি অবসানের জন্য রিট। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে নুসরাত হত্যা মামলা সোনাগাজী থানার ওসি হাসানের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা মামলা। পুলিশের সদিচ্ছা ও সততা থাকলে প্রায় সব সমস্যার সমাধান হতো। কিন্তু পুলিশ অন্যায় করলে কেউ কথা বলার নেই। পুলিশ কর্তৃপক্ষ সাময়িক বরখাস্ত করে দায়িত্ব শেষ করে দেয়। পুলিশ যেন রাষ্ট্রযন্ত্রের লাইসেন্সধারী সন্ত্রাসী।
সমাজের সব অনিয়ম অসংগতি সমস্যা যেন ব্যারিস্টার সুমনের চোখেই পড়ে ,আর কারো চোখে পড়ে না। রাজধানীর গুলিস্তানে সুরিটোলা প্রাথমিক বিদ্যালয় এর সামনে ডাস্টবিন ছিল ময়লার ডাস্টবিনের ভিতর দাঁড়িয়ে লাইভ এর ৬ ঘণ্টার মধ্যে তা অপসারণ করা হয়। নারায়ণগঞ্জ থেকে নরসিংদী পর্যন্ত সড়ক বিভাজনের কোন সাইনবোর্ড ছিল না, চালকরা বিভ্রান্তির মধ্যে ছিল ।এক দিনের মধ্যে সমাধান হয় ।রাজধানীর বাবুবাজার সেতুর বাতি ছিল না। ৩ দিনের মাথায় বাতি লাগানো হয়। নিজ উদ্যোগে নিজ জেলায় জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে ২৪ টি কাঠের ব্রিজ নির্মাণ করেন। নিজ উপজেলায় টাকার অভাবে যাতে কোন ছাত্র-ছাত্রীর লেখাপড়া বন্ধ না হয় ,সে জন্য তিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। এছাড়া স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের জন্য ফুটবল, খেলার সামগ্রী, ল্যাপটপ কিনে দিয়ে থাকেন। এছাড়া গরীব শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ান ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানে সহায়তা করেন। তাঁর কাজের কৃতিত্ব আমি লিখে শেষ করতে পারবো না। অনেক ভয়-ভীতি ও মৃত্যু হুমকি উপেক্ষা করে সাহসিকতার সহিত সমাজের ভালো কাজগুলো করা যাচ্ছেন। তাই শতগুণে গুণান্বিত ব্যারিস্টার সুমন কে নিয়ে না লিখে পারলাম না। সকল কাজ তিনি ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে করে থাকেন, যাতে সবাই ভালো কাজ করতে উৎসাহিত হয়।
একজন ব্যারিস্টার এতো কাজ করতে পারলে, আমাদের দেশে যারা সুশিক্ষিত লক্ষ লক্ষ মানুষ আছে তারা কেন পারবে না ? লেখাপড়ায় সুশিক্ষিত হয়ে সরকারি চাকরি পাওয়ার পর দেশের মানুষের কথা ভুলে গেলে, সে শিক্ষার কোন দাম থাকে না। ব্যারিস্টার সুমন সেই বার্তাটি আমাদের প্রত্যেককে দিয়ে যাচ্ছে। ব্যারিস্টার সুমন আজ যে কোন একটি বিষয় নিয়ে ফেসবুকে লাইভ করলে কোটি দর্শকের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয় এবং ঘুমন্ত প্রশাসনের টনক নাড়িয়ে দেয়। তাই আমাদেরকে ব্যারিস্টার সুমনের পথ অনুসরণ করতে হবে। দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিক যদি তাঁদের নিজ নিজ গ্রাম ও উপজেলায় ব্যারিস্টার সুমন এর মতো কাজ করে তাহলে বাংলাদেশটা অনেক পরিবর্তন হতো। প্রতিটি গ্রাম উন্নয়ন হলে প্রতিটি থানা উন্নয়ন হবে, প্রতিটি থানা উন্নয়ন হলে প্রতিটি জেলা উন্নয়ন হবে, প্রতিটি জেলা উন্নয়ন হলে সমগ্র বাংলাদেশ উন্নত হবে। আসুন আমরা ভবিষ্যৎ যুব সমাজ ব্যারিস্টার সুমনের মতো সমাজের উন্নয়নমূলক কাজ করে সুস্থ ও সুন্দর একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

লেখক: শ্রীধর দত্ত,পটিয়া ,চট্টগ্রাম।

সানাইয়া ,আল-আইন ,সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী।



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: