সর্বশেষ আপডেট : ১১ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নুসরাত হত্যা: তদন্তে বেরিয়ে আসছে পুলিশ কর্মকর্তাদের গাফিলতি

নিউজ ডেস্ক:: ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের গাফিলতির তথ্য খুঁজে পেয়েছে তদন্তদল। পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্তে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠে এসেছে। খবর ইউএনবি’র।

বুধবার বিকালে পিবিআই সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রিমা সুলতানার নেতৃত্বে একটি দল সোনাগাজীতে তদন্ত শুরু করেন। তদন্তে তারা স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের গাফলতি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের কাছে ঘটনাটি আত্মহনন বলে প্রচারের চেষ্টা চালিয়েছিলেন। পরে সংবাদ প্রকাশ করায় ওসি সাংবাদিকদের সঙ্গে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। রাফির শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় সারা দেশে তোলপাড় হলেও ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) জাহাঙ্গীর আলম সরকার ঘটনার চার দিন পর চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) খন্দকার গোলাম ফারুকের সঙ্গে প্রথমবার ঘটনাস্থলে যান।

পিবিআই সূত্র জানায়, এসপি, ওসিসহ সংশ্লিষ্ট ১০ পুলিশ কর্মকর্তা, মাদরাসার কমিটি, স্থানীয় সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের প্রতিনিধি মিলিয়ে কমপক্ষে ৩৭ জনের বক্তব্য নিয়েছে তদন্ত কমিটি। তথ্য পর্যালোচনা শেষে আগামী শনিবারের পর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পুলিশসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা সচেষ্ট হলে নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাটি এড়ানো যেত। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক ব্যক্তির বিতর্কিত ভূমিকাগুলো সনাক্ত করছে তদন্ত দল।

এদিকে নুসরাত জাহান রাফির ওপর হামলার আগে (যৌন হয়রানির পর) তার জবানবন্দি ভিডিও চিত্র ধারণ এবং অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার মামলায় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গত মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকায় পিবিআই সদর দপ্তরে তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মোয়াজ্জেম হোসেনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মামলার আলামত হিসেবে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের ফোন দুটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। এর মাধ্যমে ফোনে ভিডিও ধারণ, অনলাইনে আপলোড এবং রাফির ঘটনায় মোয়াজ্জেম হোসেনের সংশ্লিষ্টতা পরীক্ষা করে দেখা হবে।

মামলার তদন্ত সংস্থা পিবিআইয়ের প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, সোনাগাজীর সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে মামলার অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ডেকে কথা বলেছেন। অনুসন্ধানের প্রয়োজনে যা যা করণীয় তা করা হবে। অর্থাৎ কোনো আলামত জব্দ করার প্রয়োজন হলে তা করবেন। আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাব। এ মামলায় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত করে প্রতিবেদন দেব।

পিবিআই সূত্র জানায়, নুসরাত জাহান রাফিকে জিজ্ঞাসাবাদের জবানবন্দি ভিডিও করে তা অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে গত ১৫ এপ্রিল ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

পিবিআইয়ের তদন্তকারী দল বুধবার সোনাগাজীতে গিয়ে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করেছে। তদন্তকারী দলের সদস্যরা থানা, মাদরাসাসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য শোনেন।

তদন্তকারী দলের সদস্যরা পুলিশ সদস্য ছাড়াও মাদরাসা কমিটির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক, নুসরাত জাহান রাফির সহপাঠী এবং স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান এবং পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি এস এম রুহুল আমীন বলেন, ‘বক্তব্য গ্রহণ এবং তদন্তকাজ শেষ হয়েছে। আমরা ১০ জন পুলিশ সদস্যসহ ৩৭ থেকে ৩৮ জনের সঙ্গে কথা বলেছি। এখন পর্যালোচনা শেষে প্রতিবেদন দেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘সোনাগাজী থানার সাবেক ওসিসহ পুলিশের কারো কারো ত্রুটি-বিচ্যুতি পাওয়া গেছে। যৌন হয়রানির ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন, মাদরাসা কমিটিসহ অনেকের গাফিলতি ছিল।



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: