সর্বশেষ আপডেট : ১৩ মিনিট ১২ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শ্রীলংকা হামলা: নিজে প্রাণ হারালেও বহু মানুষের জীবন বাঁচালেন যিনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: শ্রীলংকায় ইস্টার সানডের দিন আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৩৫৯ জন মারা গেছেন। তবে এ মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারতো বলে ধারণা করা হচ্ছে। রামেশ রাজু নামের এক ব্যক্তি হামলাকারীকে ঠেকানোর কারণে প্রায় সাড়ে চারশ মানুষ বেঁচে গেছে বলে দাবি করছে তার পরিবার।

জিয়ন গির্জা তখন ছিলো কানায় কানায় পূর্ণ। ঠিক ওই সময় এক ব্যক্তি ব্যাগপ্যাক (পিঠে ভারী ব্যাগ) নিয়ে গির্জায় প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে ওই ব্যক্তি ভেতরে ঢুকতে পারলে বহু মানুষের জীবনহানি হতো ওই গির্জার ভেতরে। খবর বিবিসি বাংলার

যার বাধার কারণে ওই ব্যক্তি গির্জায় ঢুকতে পারেননি তার নাম রামেশ রাজু। ৪০ বছর বয়সী রামেশ নিজে প্রাণ দিয়েছেন কিন্তু বিনিময়ে বেঁচে আছেন ওই গির্জায় থাকা প্রায় সাড়ে চারশ মানুষ।তার স্ত্রী ক্রিসান্থিনি এবং দু সন্তান ১৪ বছরের রুখশিখা ও ১২ বছরের নিরুবান। ক্রিসান্থিনি গির্জাতেই সানডে স্কুল টিচার হিসেবে কাজ করেন এবং ওই রোববারেও তিনি ক্লাসে ছিলেন।

তিনি ও রামেশ প্রতি সপ্তাহেই বাচ্চাদের গির্জায় নেন এবং পরে সন্তানদের প্রার্থনায় নিয়ে যেতেন রামেশই। ক্লাস শেষে ক্রিসান্থিনি ও কয়েকটা শিশু বাইরে যান খাবার কিনতে এবং তখনো ইস্টার সানডের কার্যক্রম শুরু হয়নি।

গির্জার বাইরের চত্বরেই তিনি এক ব্যক্তিকে বড় ব্যাগসহ দেখেন। ওই ব্যক্তি বলেন, তার ব্যাগে ভিডিও ক্যামেরা এবং তিনি ভেতরে প্রার্থনার ভিডিও ফুটেজ নেবেন।

ক্রিসান্থিনি বলেন, আমার স্বামী কিছু একটা সমস্যা আঁচ করতে পারছিলেন এবং ওই ব্যক্তিকে বললেন তাকে আগে অনুমতি নিতে হবে। এরপর এক প্রকার জোর করেই ওই ব্যক্তিকে চলে যেতে বাধ্য করেন তার স্বামী।

ক্রিসান্থিনি ভেতরে চলে যান যেখানে প্রায় ৪৫০ জনের মতো মানুষ প্রার্থনায় যোগ দেয়ার অপেক্ষায়। এর মধ্যেই বড় বিস্ফোরণের শব্দ কানে আসে ও লোকজন ভয়ার্ত হয়ে যে যেদিকে পারে দৌঁড়ায়।

ক্রিসান্থিনি ও তার পরিবারের সদস্যরাও পালান এবং দ্রুতই তারা রামেশকে খুঁজতে হাসপাতালে যান। কয়েক ঘণ্টা পর তার মৃতদেহ পান তারা, তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছিলেন যেখানে ক্রিসান্থিনি তাকে সর্বশেষ দেখেছিলেন।

সোমবার দাফন করা হয়েছে রামেশকে। ক্রিসান্থিনির মাও খুন হয়েছিলেন এরপর তার পিতাও খুন হয়েছিলেন এবং সর্বশেষ স্বামীকেও হারালেন তিনি।



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: