সর্বশেষ আপডেট : ১৩ মিনিট ২৮ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শিক্ষকের পাশাপাশি এবার আদর্শ চিকিৎসকেও সম্মাননা দিচ্ছে ‘টি আলী স্যার ফাউন্ডেশন’

নিজস্ব সংবাদদাতা:: কৃতিমান ও আদর্শ শিক্ষক টি আলী’র নামে ২০০৯ প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর থেকেই আদর্শ শিক্ষকদের সম্মাননা দিয়ে আসছে ‘টি আলী স্যার ফাউন্ডেশন’। সিলেটের বিয়ানীবাজারের বৃহত্তর জলঢুপ গ্রামে জন্মগ্রহণ করলেও একজন ‘মানুষ গড়ার কারিগর’ হিসেবে ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় টি আলী। ২০০০ সালে তার মৃত্যুর পর গুণগ্রাহি ও সাবেক শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ২০০৮ সালে স্মারকগ্রন্থ প্রকাশনা এবং ২০০৯ সালে গঠন করা হয় ‘টি আলী স্যার ফাউন্ডেশন’। ফাউন্ডেশনটি প্রতি বছর ৩০ এপ্রিল আদর্শ শিক্ষক টি আলী’র জন্মদিনে শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় জড়িতদের ‘টি আলী স্যার স্মৃতিপদক’ প্রদানের মাধ্যমে সম্মনানা জানিয়ে আসছে। এ পর্যন্ত প্রতিবছর হবিগঞ্জ জেলার অবসরপ্রাপ্ত ৫ জন শিক্ষককে এই সম্মাননা প্রদান করা হলেও এবারই প্রথম তারা সিলেট জেলার একজন আদর্শ চিকিৎসক ও দুইজন শিক্ষককে সম্মাননা দিচ্ছে।

‘টি আলী স্যার ফাউন্ডেশন’ এর পক্ষ থেকে বলা হয়, একটি জাতির ভবিষ্যত গড়ে দেয় শিক্ষকতার মতো পেশায় জড়িত থাকা ব্যক্তিরাই। যারা জীবনের অনেক প্রলোভন ফেলেও শিক্ষকতার মতো পেশায় থেকে নিজ আদর্শের সাথে শিক্ষা বিলিয়ে থাকেন তাদের সম্মানিত করতেই একজন আদর্শ শিক্ষকের নামে এই ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কিন্তু এবার একজন চিকিৎসককেও এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে যিনি আসলে মানবসেবাকেই জীবনের সম্বল মনে করতেন।
মঙ্গলবার সকালে দি এইডেড হাই স্কুলের প্যারেড গ্রাউন্ডে এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক প্রধান শিক্ষক বিরাজ মাধব চক্রবর্তী মানসকে সম্মাননা জানানো হয়। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট পুলিশ রেঞ্জের এডিশনাল ডিআইজি জয়দেব কুমার ভদ্র।

বক্তব্য রাখেন দি এইডেড হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. শমসের আলী, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুনুর রশিদ চৌধুরী, সাবেক সভাপতি মো. ফজলুর রহমান ও মোহাম্মদ নাহিজ। এসময় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অবস্থিত ছিলেন।
পরে চিকিৎসা সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য ডা. মতিন উদ্দিন আহমেদকে বালুচরে তাঁর নিজ বাসভবনে এবং শিক্ষকতা পেশায় অবদানের জন্য নজরুল ইসলাম চৌধুরীকে বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের মেওয়া গ্রামে তাঁর নিজ বাড়িতে সম্মাননা জানানো হয়।

এবার যারা সম্মাননা পাচ্ছেন:

ডা. মতিন উদ্দিন আহমেদ:
এমবিবিএস কোর্স সম্পন্ন করলেও একজন ‘গ্রাম্য ডাক্তার’ হিসেবে গ্রামে থেকেই চল্লিশ থেকে ষাটের দশক পর্যন্ত দীর্ঘ সময় মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে গেছেন ডা. মতিন উদ্দিন আহমদ। রোগি দেখতেন অনেকটা বিনেপয়সায়। সামর্থবান রোগির কাছ থেকেই শুধু সম্মানী নিতেন। সিলেটের বিয়ানীবাজারের খাসা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী এই চিকিৎসক এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে এতটাই জনপ্রিয় ছিলেন যে, রাজনীতির লোক না হয়ে ওঠে গিয়েছিলেন পাকআর্মির ফায়ারিং তালিকায়। তবে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য ১৯৭১ সালের জানুয়ারি মাসে বিলেত চলে যাওয়ায় বেঁচে যান তিনি। সেখানে সাইকোলজির ওপর উচ্চতর ডিগ্রি নেন তিনি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে বিলেতে চাকরি করলেও দেশে এলে তিনি আবার হয়ে যেতে গ্রাম্য ‘মতিন ডাক্তার।’ নব্বইয়ের ঘরে থাকা সদানন্দময় এই মানুষ অবসরকালীন জীবনে দেশেই থাকতে পছন্দ করেন।

বিরাজ মাধব চক্রবর্তী মানস:
টানা ৪০ বছরের শিক্ষকতা জীবন। এছাড়া ক্রীড়া, সমাজসেবায় রয়েছে তার ব্যাপক অবদান। ছিলেন সিলেটের প্রাচীন বিদ্যাপীঠ দি এইডেড হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক। ১৯৪০ সালে সিলেট নগরীর তোপখানা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিরাজ মাধব চক্রবর্তী মানস ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড সম্পন্ন করে বেছে নেন শিক্ষকতার মত মহান পেশা। তিনি স্কাউটস সিলেট অঞ্চলের সহ সভাপতিও। এছাড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন টানা তিনবার। ছিলেন একাধারে ভলিবল কোচ, ক্রিকেট আম্পায়ার, ফুটবল রেফারী। সিলেট জেলা দলে ক্রিকেট খেলেছেন। সিলেট প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগেও খেলেছেন। মানস স্যার এমন একজন মানুষ, গভীর অন্ধকারে দাঁড়িয়েও আলো দেখেন।

নজরুল ইসলাম চৌধুরী:
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের মেওয়া গ্রামে জন্মগ্রহণকারী আদর্শ শিক্ষক নজরুল ইসলাম তার জীবনের প্রায় পুরোটাই আদর্শ মানুষ তৈরি ব্রতে ব্যয় করেছেন। একজন যুক্তিবাদী মানুষ হিসেবেও সুনাম রয়েছে তার। অকৃতদার এই মানুষটি কখনোই নিজের কথা ভাবেননি। অন্যের সেবা, দেশের মঙ্গল, সমাজের ভালো, এগুলোই তার জীবনের আদর্শ। ১৯৮৩ সালে এমসি কলেজ থেকে বিএ পাশ করেই শিক্ষকতায় জড়ান তিনি। ১৯৮৮ সালে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ এবং ২০০৬ সালে বিড সম্পন্ন করেন। কিন্তু আদর্শবান এই ব্যক্তি কখনো অন্যপেশার প্রতি আকৃষ্ট হননি। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজা জিসি হাই স্কুলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনকালে শারীরিক অসুস্থতার কারণে কর্মজীবন থেকে অবসর নেন।

উল্লেখ্য, আগামী ২ মে হবিগঞ্জ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে টি আলী স্যারের জন্মদিন উদযাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনরা উপস্থিত থাকবেন।



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: