সর্বশেষ আপডেট : ২ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১৭ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সুনামগঞ্জে এসে গ্রাম দেখার বায়না পূরণ হলো না জায়ানের

নিউজ ডেস্ক:: শ্রীলঙ্কায় বর্বরোচিত সিরিজ বোমা হামলায় নিহত শেখ সেলিমের নাতী ছোট্র জায়ান চৌধুরী (৭)র পৈতৃক বাড়ি সুনামগঞ্জের বনেদী জমিদার পরিবারে।

শ্রীলঙ্কা সিরিজ বোমা বিস্ফোরণে দুই শতাধিকের ওপর লোকজনের হতাহতের ঘটনার পর দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাসের বরাতে এক শিশুসহ দুজন বাংলাদেশি নাগরিকের প্রথমে নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া যায়।

পরে রোববার (২১ এপ্রিল) রাতে তাদের খোঁজ মেলে। তারা হলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপির মেয়ে শেখ সোনিয়ার স্বামী মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্স ও তার জেষ্ঠ্য নাতি জায়ান চৌধুরী।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করার পর শ্রীলঙ্কায় রাজধানী কলম্বোর একটি হাসপাতালে নেয়া হয় চিকিৎসার জন্য। এর মধ্যে শিশু জায়ানের অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্স।

এদিকে নিহত জায়ান চৌধুরীর পৈতৃক বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়ার জমিদার বাড়ি। প্রয়াত জায়ানের পিতা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্স দিরাই ভাটিপাড়ার জমিদার মতিনুল হক চৌধুরী ওরফে এম এইচ চৌধুরী’র ছেলে।

প্রিয় নাতির সঙ্গে নিজেদের জমিদারির গৌরব ও আভিজাত্যের গল্প করতেন দাদা মতিনুল হক চৌধুরী। হাওর ঘেরা গ্রামের বর্ণনা শুনে গ্রামে যাওয়ার আগ্রহ জন্মায় জায়ানের। তাই দাদুর কাছে বায়না ছিল তাকে গ্রামে নিতে হবে।

নাতির হাত ধরে নিজেদের জমিদারির সীমানা ঘুরে ঘুরে দেখানোর সুপ্ত ইচ্ছেও ছিল দাদুর। পূর্বপুরুষের স্মৃতিবিজড়িত স্থানের সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেবেন এমনা ভাবছিলেন তিনি।

নাতি প্রথমবারের মতো বাড়িতে আসবে এই আহ্লাদে বেজায় খুশি ছিলেন দাদা। তাই ঢাকা থেকে এক সপ্তাহ আগে বাড়িতে এসে বনেদি পুরনো ভবনের সংস্কার কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেই সুখ ও আহ্লাদ শ্রীলঙ্কায় জঙ্গি হামলায় জায়ানের মৃত্যুতে বিষাদে পরিণত হয়েছে। পুরো পরিবার এখন শোকে স্তব্দ। গ্রামের বাড়ির স্বজনরাও মর্মাহত।

জানা যায়, গত এক সপ্তাহ আগে ঢাকা থেকে মতিনুল হক চৌধুরী ওরফে পারুল চৌধুরী গ্রামের বাড়িতে ছুটে যান। গিয়ে পুরনো জমিদার বাড়ির সংস্কার কাজ করেন। শ্রমিক লাগিয়ে বাড়িঘর পরিস্কার, বসতঘর সংস্কার, বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন সংস্কারসহ রাস্তাঘাট সংস্কার করেন নতুন করে। বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছিল ফ্রিজ, জেনারেটরসহ নানা ধরনের মূল্যবান আসবাব সামগ্রী। এই কাজ নিয়েই বাড়িতে ব্যস্ত ছিলেন গত এক সপ্তাহ ধরে। কিন্তু আদরের নাতি বাড়ি আসার আগেই চিরতরে না ফেরার দেশে চলে গেছে সে। তার বায়না আর কখনো পূরণ হবে না বলে কেদে চলছেন দাদু। বার বার মুষড়ে পড়েন তিনি। রবিবার সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

মতিন চৌধুরীর ভাতিজা সুজাত বখত চৌধুরী বলেন, সম্পর্কে আমার চাচা হলেও আমরা সমবয়সী। তিনি ঢাকা থেকে আসার সময় আমাকে সিলেট থেকে নিয়ে এসেছেন। গল্প করেছেন তার নাতি ও আমার চাচাতো ভাই জায়ান চৌধুরী আগামী নভেম্বরে বাড়িতে আসবে। তাই তিনি পুরনো বাড়িঘর সংস্কার ও সাজাচ্ছেন। গত এক সপ্তাহ ধরেই আনন্দের সঙ্গে তিনি শ্রমিকদের সঙ্গে কাজ তদারকি করছিলেন। রবিবার বিকেলেও আমরা এক সঙ্গে ছিলাম। এ সময়ই দুর্ঘটনার ফোন আসে। হাস্যজ্জ্বেল মানুষটি হঠাৎ মুষড়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ঢাকায় রওয়ানা দিয়েছেন। সেখানে গিয়ে প্রিয় নাতি ও ছেলের জন্য বিলাপ করছেন।



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: