সর্বশেষ আপডেট : ১২ মিনিট ৭ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নুসরাতকে নিয়ে কটূক্তি করায় সেই অধ্যক্ষের বিচার দাবি

নিউজ ডেস্ক:: সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন ফেনীর সরকারি জিয়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ তাহমিনা বেগম।

একই সঙ্গে নুসরাত জাহান রাফি হত্যার বিচারের দাবীতে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করতে চাইলে অনুমতি দেননি ফেনীর সরকারি জিয়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ তাহমিনা বেগম। সেইসঙ্গে ঘটনার জন্য নুসরাতকেই দায়ী করে মন্তব্য করেছেন তিনি।

নুসরাত জাহান রাফিকে নিয়ে এহেন কটূক্তি করায় ফেনী সরকারি জিয়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ তাহমিনা বেগমের বিচারের দাবি উঠেছে। বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ তার এমন ধৃষ্টতাকে ক্ষমার অযোগ্য বলে মত দিয়েছেন। অধ্যক্ষ তাহমিনা বেগমও আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি তাদের।

জানা যায়, গত ১৩ এপ্রিল (শনিবার) সকালে নুসরাতের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে মানবন্ধনের অনুমতি চেয়ে অধ্যক্ষের কাছে যান সেখানকার শিক্ষার্থীরা। তিনি মানববন্ধনের অনুমতি না দিয়ে নুসরাতকে নিয়ে সমালোচনা শুরু করেন। অধ্যক্ষের এমন আচরণে ক্ষুদ্ধ হয়ে ওই দিনই বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন তাহমিনা রুমি ও স্নিগ্ধা জাহান রিতা নামে দুই ছাত্রী।

তারা স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘নুসরাত হত্যার বিচার দাবিতে ফেনী সরকারি জিয়া মহিলা কলেজের ব্যানারে আমরা একটা মানববন্ধন করতে কলেজের অধ্যক্ষ তাহমিনা বেগমের কাছে শনিবার সকাল ৯টায় অনুমতির জন্য গিয়েছিলাম। আমরা কয়েকজন ম্যাডামের রুমে যাই। তারপর ম্যাডাম যা বললেন তা শোনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না আমরা কেউই।

ম্যাডাম আমাদের বললেন নুসরাতকে তার স্যার বলেছিল পরীক্ষার আগে প্রশ্ন দেবে, তাই নুসরাত নিজ ইচ্ছায় স্যারের কাছে গিয়েছিল। অথচ এতদিন ধরে আমরা জেনে আসছি কলেজের পিয়নকে দিয়ে নুসরাতকে ডাকা হয়েছে। তবে কি আমরা এতদিন ভুল জানতাম? আমাদের কাছে ভুল তথ্য দিয়েছে মিডিয়া? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে ইচ্ছা হয় আমার। কে দেবে এসব প্রশ্নের উত্তর? কোথায় পাব এসবের উত্তর? আমাদের ম্যাডাম আরও বলেছেন, অতীতে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে ঘটতেছে, কারণ বর্তমান মেয়েরা অনেক লোভী। নুসরাত মেয়েটা ধোয়া তুলসী পাতা না। মেয়েটার সঙ্গে যেটা হয়েছে তার জন্য মেয়েটাই দায়ী। এটার জন্য মানববন্ধন করতে আমি কখনও অনুমতি দেব না। তোমরা ক্লাসে যাও।’

এদিকে নুসরাতকে নিয়ে অধ্যক্ষের কটূক্তির বিষয়টি জানাজানি হলে প্রতিবাদ ও অধ্যক্ষের বিচারের দাবি ওঠে। অধ্যক্ষ তাহসিনা বেগমের বিরুদ্ধের শিক্ষার্থীরা নানা অভিযোগ শেয়ার করে। অন্যান্য কর্মসূচিসহ তিনি কলেজ অভ্যন্তরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশালীন ও রূঢ় ব্যবহার করেন বলেও একাধিক শিক্ষার্থী জানান।

তবে বিষয়টি অস্বীকার করে অধ্যক্ষ তাহমিনা বেগম বলেন, শিক্ষার্থীদের এ অভিযোগ সত্য নয়। আমি তাদের বলেছি- বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী দেখছেন। এখন মানবন্ধন করার কোনো প্রয়োজন নেই।

নুসরাতকে নিয়ে কটূক্তি করেছেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরণের কোনো কটূক্তি আমি করিনি।

এদিকে ওই দুই ছাত্রীর ফেসবুক স্ট্যাটাসের বিষয়টি জানাজানি হলে অধ্যক্ষ তাহমিনা বেগমকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সবার তার বিচারের দাবি জানান।

ফেনীর স্বেচ্ছাসেবী ও নারী কর্মী মঞ্জিলা আক্তার মিমি বলেন, অধ্যক্ষের এমন আচরণে আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। তিনি একজন নারী হয়ে কীভাবে একজন নারীকে নিয়ে এমন কটূক্তি করতে পারেন। নুসরাতের বিষয়ে যেখানে সবাই প্রতিবাদ করছে সেখানে তার বাধা দেয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম নান্টু বলেন, নুসরাত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে যেখানে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চ মহল তৎপর রয়েছে সেখানে রাষ্ট্রের একজন কর্মচারী হয়ে এমন মন্তব্য ধৃষ্টতা।

তিনি বলেন, আন্দোলন-প্রতিবাদ শিক্ষার্থীদের অধিকার। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে দায়িত্ব বহির্ভূত এমন মন্তব্য শোভা পায় না। একজন অধ্যক্ষ হয়ে আরেক অধ্যক্ষের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ ঘটনায় তার পদত্যাগ করা উচিত।

ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আরিফুল আমিন রিজভী বলেন, নুরসাত হত্যাকাণ্ডের ফলে গণবিস্ফোরণ সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এ ঘটনায় সোচ্চার হয়ে ওঠেছে সেখানে তিনি (অধ্যক্ষ) এত দুঃসাহস পান কোথায়। নুসরাতকে নিয়ে অধ্যক্ষ তাহমিনা বেগমের এমন মন্তব্য ক্ষমার অযোগ্য।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ফেনী সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বিকম বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। যদি অধ্যক্ষ এমন মন্তব্য করে থাকেন তবে তিনি দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। তবে তিনি ঠিক এমন কথা বলেছেন কি-না সেটা দেখার বিষয়। বিষয়টি নিয়ে সকালে জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজ্জামানের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনিও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: