সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নুসরাতকে হত্যায় গোপন বৈঠক করেন অধ্যক্ষ সিরাজ

নিউজ ডেস্ক:: দীর্ঘ পাঁচ দিন মৃত্যুর সাথে লড়াইয়ের পর বুধবার রাতেই মৃত্যু হয় দগ্ধ মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির। তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রধান অভিযুক্ত আসামি অধ্যক্ষ এস এম সিরাজউদ্দৌলা। তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন রাফি। তবে এই অভিযোগ তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল রাফির উপর। শেষ পর্যন্ত তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টা চালানো হয়। এ ঘটনার আগের রাতে অধ্যক্ষের কক্ষে গোপন বৈঠক চালানো হয় বলে নতুন তথ্য উঠে এসেছে অনুসন্ধানে।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক খবরে উঠে এসেছে গোপন বৈঠক চালানোর তথ্য। দৈনিক অধিকারের পাঠকদের উদ্দেশে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হল-

মাদ্রাসার পুরনো ভবনের তৃতীয় তলায় হেফজখানার পাশে দু’টি কক্ষে কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের অনুমোদন বা হিসাব-নিকাশ ছাড়াই অবৈধভাবে ওই ছাত্রাবাস গড়ে তুলেছিলেন অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা। সেখানে পরীক্ষার্থীদের নাম করে তার ক্যাডার বাহিনীর সদস্যরা থাকত।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের মধ্যে ছাত্রীদের জন্য টয়লেট আছে সাইক্লোন শেল্টার ভবনের চার তলায়, ছাদে। ওই ছাদেই রাফি যাওয়ার পর তার শরীরে আগুন দেওয়া হয়। গোপনে কেউ রাফিকে বান্ধবী নিশাতের ‘বিপদের’ তথ্য দেয়। এতে সন্দেহ করা হচ্ছে, ছাদে বোরকা পরা আক্রমণকারীদের মধ্যে কথিত শম্পাসহ (যে নাম রাফি শুনেছে) এক বা একাধিক নারী ছিল। তবে গতকাল পর্যন্ত আক্রমণকারীদের চিহ্নিত করতে পারেনি তদন্তকারীরা। সংশ্লিষ্ট কেউ এ ব্যাপারে এখনো কোনো সূত্র খুঁজে পায়নি।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে মাদ্রাসার এক শিক্ষক বলেন, শনিবার সকালে রাফির শরীরে আগুন দেওয়ার আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে অধ্যক্ষের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ফাজিলের ছাত্র নূর উদ্দিন এবং আলিম পরীক্ষার্থী নাসির উদ্দিনকে মাদ্রাসার ছাত্রাবাস থেকে বের হতে দেখেন। সেখানে মামলার আরেক গ্রেফতারকৃত আসামি আরিফুর রহমান অবস্থান করছিল বলে জানা যায়। পরীক্ষার আগে এত রাতে জ্যেষ্ঠ একজনের সঙ্গে নাসিরকে দেখে তার সন্দেহ হয়। নূর উদ্দিন মামলা দায়েরের পর সিরাজের পক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচিতে সামনের সারিতে ছিল।

মাদ্রাসার কাছের এক দোকানি বলেন, শনিবার সকালে রাফি অগ্নিদগ্ধ হওয়ার সময়ই তিনি নূর উদ্দিনকে দ্রুত চলে যেতে দেখেন। তখন তিনি ডাকালেও নূর দাঁড়ানো যাবে না বলে জানায়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রবিবার থেকে মাদ্রাসার পুরনো ভবনের তৃতীয় তলায় হেফজখানা ও ছাত্রাবাস বন্ধ আছে। মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, ‘এখানে একটি হেফজখানা আছে। তবে হোস্টেল কিভাবে চলে তা এখনো আমি জানি না।’

মাদ্রাসার অফিস সহকারী (যিনি সব হিসাবের কাজ করেন) সিরাজুল হকের দাবি, ‘এখানে অফিশিয়ালি কোনো ছাত্রাবাস নেই। অধ্যক্ষ দু’টি রুমে ছাত্রদের থাকার ব্যবস্থা করে দেন। এ ব্যাপারে আমি জানি না। তবে হেফজখানায় ১২ ছাত্র এবং একজন শিক্ষক আছেন। তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।’

মাদ্রাসার একাধিক সূত্র জানায়, দু’টি কক্ষে প্রতিবছরই নেতা শ্রেণির কিছু ছাত্রকে বিনা খরচে থাকার ব্যবস্থা করে দেন সিরাজ। এর ফলে তারা অনুগত হয়। এরা বিভিন্ন সময় তার পক্ষ নিয়ে বিবাদে জড়ায়। শিবির ক্যাডার নূর উদ্দিন, স্বঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন শামীমসহ কয়েকজন এই সুবিধা পেয়েছে। এখনো আরিফুরসহ কয়েকজন ওই কক্ষে থাকছিল। হেফজখানার শিক্ষক আব্দুল কাদের সিরাজের তথ্যদাতা ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তিনি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের খাবার কমিয়ে দিয়ে সিরাজের ক্যাডারদের ফাও খাবার দিতেন এবং অবৈধভাবে থাকার ব্যবস্থা করতেন। হাফেজ আব্দুল কাদের রাফি হত্যাচেষ্টা মামলার পলাতক আসামি। গতকাল তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, মাদ্রাসার নিরাপত্তাকর্মী মোস্তফা রাতে নৈশপ্রহরীর কাজ করেন। জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, গত শুক্রবার তিনি ১০টার দিকে গেটে তালা লাগিয়ে চলে যান। আরিফের (গ্রেপ্তারকৃত আসামি) কাছে গেটের চাবি আছে। নূর উদ্দিন, শামীমসহ কয়েকজন ছাত্রাবাসে নিয়মিত আসত বলেও জানান তিনি।

এদিকে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব নূরুল আফছার ফারুকী ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূরুল আমিন জানান, কেন্দ্রে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের ৩৮৩ জন শিক্ষার্থী এবার আলিম পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। কমপ্লেক্সের ভেতরে মোট পাঁচটি টয়লেট আছে। এর মধ্যে ছেলেদের টয়লেট তিনটি নিচে এবং মেয়েদের দুটি টয়লেট তিন তলার ছাদে (যার সামনে রাফির শরীরে আগুন দেওয়া হয়)।

তারা জানান, শনিবার সকালে কেন্দ্রে যে পুলিশ সদস্যরা ছিলেন রাফি দগ্ধ হওয়ার কিছু সময় আগে তারা দায়িত্বে যোগ দেন। কারণ তারাই পাহারা দিয়ে প্রশ্নপত্র নিয়ে আসেন। মাদ্রাসায় সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ক্লাস চলছিল। ১১টি কক্ষে পরীক্ষা হলেও সাইক্লোন শেল্টারের ভবনে কোনো পরীক্ষা হয়নি। সেখানে টয়লেটের প্রয়োজনে মেয়ে পরীক্ষার্থীরা যেতে পারে। সূত্র জানায়, রাফির বক্তব্য অনুযায়ী কেউ তাকে বান্ধবী নিশাতের বিপদের কথা বলেছিল। ফলে রাফি বান্ধবীকে খুঁজতে টয়লেট যেখানে সেখানে গিয়ে থাকতে পারে। ওই ভবনে হামলাকারীদের লুকিয়ে থেকে সটকে পড়ার যথেষ্ট সুযোগ ছিল।

পুলিশ হেফাজত থেকে ছাড়া পাওয়ার পর গতকাল মাদ্রাসায় দায়িত্ব পালন করছিলেন অফিস সহায়ক নূরুল আমিন ও নিরাপত্তাকর্মী মোহাম্মদ মোস্তফা। ঘটনার পর পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছিল। তারা বলেন, সাইক্লোন শেল্টার ভবনের তিনতলাটি ঘটনার সময় খোলা ছিল। ভবন থেকে পালিয়ে যাওয়ার তিনটি পথ আছে জানানোর পাশাপাশি দেখিয়েও দেন তারা।

উল্লেখ্য, বুধবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দগ্ধ মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। তার মৃত্যুর বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন ঢামেক বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের চিকিৎসক অধ্যাপক রায়হানা আওয়াল। বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জাতীয় সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন জানান, মৃত্যুর কারণ রক্ত ও ফুসফুসের মারাত্মক সংক্রমণ থেকে কার্ডিও রেসপিরেটরি ফেইলিয়র (হৃদ্যন্ত্রে ক্রিয়া বন্ধ) হয়। এতেই মৃত্যু হয় তার।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের তানভীর আহমেদ বলেন, নুসরাতের শ্বাসতন্ত্র পোড়া ছিল। কেরোসিন নিজেই টক্সিক। এটা ফুসফুস এবং ব্রেনের কার্যক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। এই চারটিই তার মৃত্যুর প্রধান কারণ বলা যায়। এমনিতে সুইসাইডাল বা হোমিসাইডাল দুইটার ক্ষেত্রেই ইনটেনসিভ থাকে। যেগুলো দুর্ঘটনাজনিত সেগুলোতে কোনো উদ্দেশ্য থাকে না। সেগুলো দুর্ঘটনাবশতই হয়ে যায়। যেগুলো আত্মহত্যার সেগুলোর ক্ষেত্রে সে নিজে চিন্তা করে যে, আমি কীভাবে পুড়লে মারা যাবো। আর যেগুলো খুনের বিষয় থাকে, সেখানে চিন্তা করে যে, কীভাবে পোড়ালে মারা যাবে, সে আর কিছু করতে পারবে না। সেই কারণে এই দুই ক্ষেত্রের দুর্ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা বেশি খারাপ থাকে।

এ ব্যাপারে তিনি আরও বলেন, নুসরাতের ঘটনাটি আত্মহত্যাজনিত বলে আমাদের মনে হয় না। কারণ, আমরা তাকে যে রকম দেখেছি এবং তার যে অবস্থা, এতে করে এটাকে আমরা আত্মহত্যাজনিত কেস কোনোভাবেই বলবো না। তাছাড়া আপনারা মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছেন। আমরাও যতটুকু শুনেছি, এটা কোনোভাবেই আত্মহত্যাজনিত কোনও ঘটনা ছিল বলে আমার মনে হয় না।

এর আগে বুধবার (১০ এপ্রিল) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, নুসরাতের অবস্থা আগের মতোই আছে। সে এখনও শঙ্কামুক্ত নয়। আজকে আমরা আবার সিঙ্গাপুরে তার চিকিৎসার বিষয়ে কথা বলব।

গতকাল মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৯টায় নুসরাতের চিকিৎসার বিষয়ে সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন মেডিকেল বোর্ড। এরপরই সকাল সোয়া ১০টা থেকে দুই ঘণ্টাব্যাপী তার অস্ত্রোপচার চলে। লাইফ সাপোর্টে রেখেই দুই ঘণ্টাব্যাপী এই অস্ত্রোপচার করা হয়।

গত ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম (এইচএসসি) পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান ওই ছাত্রী। এরপর কৌশলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। ওই সময় বোরকা পরিহিত ৪-৫ জন ওই ছাত্রীর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়।

শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত কক্ষ থেকে নুসরাতকে ছাদে ডেকে নিয়ে কয়েকজন বোরকাপরা নারী পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার চেষ্টা করে।

তারা জানান, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলা তুলে না নেয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ তথ্য ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় পুলিশকেও জানিয়েছেন ওই শিক্ষার্থী। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় ওই দিন বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন ওই ছাত্রীর মা। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৭ মার্চ সকাল ১০টার দিকে অধ্যক্ষ তার অফিসের পিয়ন নূরুল আমিনের মাধ্যমে ছাত্রীকে ডেকে নেন।

পরীক্ষার আধা ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন অধ্যক্ষ। পরে পরিবারের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হন অধ্যক্ষ। সেই মামলা তুলে না নেয়ায় অধ্যক্ষের লোকজন ওই ছাত্রীর গায়ে আগুন দিয়েছে।

এদিকে রাফিকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় নতুন আলামত হাতে পেয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) তার বাড়ি থেকে একটি চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে।

চিঠিটি উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সোনাগাজী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, চিঠিটি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। চিঠিতে যাদের নাম আছে, প্রয়োজনে তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। এদিকে চিঠিটির বিষয়বস্তু বিবেচনায় এটি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার হাতে যৌন হয়রানির পর সহপাঠী বান্ধবীদের উদ্দেশ্যে লেখা বলে মনে করছেন তদন্তকারী সূত্র।

চিঠিতে গত ২৭ মার্চ ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন রাফি। ওই চিঠিতে রাফি আত্মহত্যা করবে না বলেও উল্লেখ করেন। তবে যৌন হয়রানির ঘটনার পর সিরাজউদ্দৌলা গ্রেফতার হলে তার মুক্তির দাবিতে বান্ধবীদের অংশগ্রহণে ক্ষোভ প্রকাশ করে নুসরাত। তাকে নিয়ে বান্ধবীদের বিভিন্ন কটূক্তিতেও তার মর্মাহত কথা উল্লেখ করা হয় চিঠিতে।

চিঠির এক লেখায় রাফি বান্ধবীদের উদ্দেশে বলেন, ”তোরা জানিস না, ঐদিন রুমে কি হইছে? উনি আমার কোন জাগায় হাত দিয়েছে এবং আরো কোন জায়গায় হাত দেওয়ার চেষ্টা করেছে।”

উদ্ধার ওই চিঠিটি পড়ার টেবিলের একটি খাতায় দুই পাতায় লেখা ছিল। তামান্না ও সাথী নামের দুই বান্ধবীকে উদ্দেশ্য করে চিঠিটি লেখা হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্র জানায়।

চিঠিতে যা লেখা ছিল-

“তামান্না, সাথী। তোরা আমার বোনের মতো এবং বোনই। ওই দিন তামান্না আমায় বলেছিল, আমি নাকি নাটক করতেছি। তোর সামনেই বললো। আরো কি কি বললো, আর তুই নাকি নিশাতকে বলেছিস আমরা খারাপ মেয়ে। বোন প্রেম করলে কি সে খারাপ??? তোরা সিরাজ উদ দৌলা সম্পর্কে সব জানার পরও কীভাবে তার মুক্তি চাইতেছিস।”

”তোরা জানিস না, ওইদিন রুমে কি হইছে? উনি আমার কোন জাগায় হাত দিয়েছে এবং আরো কোন জায়গায় হাত দেওয়ার চেষ্টা করেছে, উনি আমায় বলতেছে- নুসরাত ডং করিসনা। তুই প্রেম করিসনা। ছেলেদের সাথে প্রেম করতে ভালো লাগে। ওরা তোরে কি দিতে পারবে? আমি তোকে পরীক্ষার সময় প্রশ্ন দেবো। আমি শুধু আমার শরীর দিতাম ওরে। বোন এই জবাবে উত্তর দিলাম। আমি একটা ছেলে না হাজারটা ছেলে…। আমি লড়বো শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত। আমি প্রথমে যে ভুলটা করেছি আত্মহত্যা করতে গিয়ে। সেই ভুলটা দ্বিতীয়বার করবো না। মরে যাওয়া মানে তো হেরে যাওয়া। আমি মরবো না, আমি বাঁচবো। আমি তাকে শাস্তি দেবো। যে আমায় কষ্ট দিয়েছে। আমি তাকে এমন শাস্তি দেবো যে তাকে দেখে অন্যরা শিক্ষা নিবে। আমি তাকে কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি দেবো। ইনশাআল্লাহ।”




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: