সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

অগ্নিকান্ডের ঝুঁকিতে সিলেটের যে ৫৫ টি মার্কেট

ডেইলি সিলেট ডেস্ক:: ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঝুঁকিতে রয়েছে সিলেট। সিলেট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের এক সরেজমিন প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে নগরীর বিলাসবহুল বিপনীবিতান থেকে শুরু করে হাসপাতাল এবং ক্লিনিকগুলোও অগ্নিকান্ডের প্রচন্ড ঝুঁকিতে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাছাড়া, সিলেটের পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা তেল ডিপোগুলোও একইভাবে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। তবে, সবচেয়ে আশংকার বিষয় হলো নগরীর ৫৮ টি বিপনীবিতানের মধ্যে ৫৫ টি মার্কেট/বিপনীবিতানই রয়েছে অগ্নিকান্ডের প্রবল ঝুঁকিতে।

প্রতিবেদনে বলা হয় ‘সিলেটে অগ্নিঝুঁকি বেশি। কারণ অধিকাংশ এলাকায় মাটির নিচ দিয়ে গ্যাসের লাইন টানা হয়েছে। এছাড়াও সিলেটের সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই বললেই চলে, যা আছে তা লোক দেখানোর জন্য। সিলেটে একটির সঙ্গে আরেকটি ভবন ঘেঁষে তোলা হয়েছে, যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। একটি ভবনে আগুন লাগলে তা সঙ্গে সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ না করলে অন্য ভবনে ছড়িয়ে যাবে। অগ্নিকান্ডের মোকাবিলার জন্য যেসব প্রস্তুতি থাকার দরকার ,তার কোনোটাই নেই এইসব প্রতিষ্ঠানে’।

সিলেট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক দিনামনি শর্মা জানান, সিলেটের অধিকাংশ হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং বিপনীবিতান গুলোতে নেই পর্যাপ্ত পরিমাণ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। আর যেগুলোতে রয়েছে তাও নিম্নমানের। যেসব অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি রয়েছে সেগুলো যথারীতি পরীক্ষা করা হয় না।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর ৩০জানুয়ারি ২০১৭ ইংরেজিতে ১ম দফা ও একই বছরের ৫ জুনের ২য় দফা পরিদর্শন তালিকা অনুযায়ী নগরীর ৫৮ টি মার্কেটের মধ্যে খুব ঝুঁপূর্ণ হিসেবে ২৩টি শপিংমলকে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, ৩২ টিকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৩টিকে সন্তোষজনক বলে উল্লেখকরা রয়েছে।

খুবই ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটগুলোর মধ্যে রয়েছে- লালদীঘি পুরাতন হকার্স মার্কেট,বন্দরবাজারের মধুবন সুপার মার্কেট,সিটি সুপার মার্কেট,ব্রম্মময়ী মার্কেট,হাসান মার্কেট, দক্ষিণ সুরমার কদমতলিস্থ আলা বারাকাত ম্যানশন,আনন্দ বিপনী মার্কেট, জিন্দাবাজারস্থ জালালাবাদ হাউস, ইদ্রিস মার্কেট,প্রীতিরাজ রেস্টুরেন্ট, স্কাইভিউ শপিং কমপ্লেক্স, আহমদ ম্যানশন,বায়তুল আমান মসজিদ মার্কেট, মিতালী ম্যানশন, শুকরিয়া মার্কেট, সবুজবিপনী মার্কেট নেহার মার্কেট, হক সুপার মার্কেট, জল্লারপাড় রোডস্থ লিয়াকত ভবন ও পানসী রেস্টুরেন্ট। তবে প্রতিবেদনে সন্তোষজনক হিসেবে ৩ টি মার্কেটকে দেখানো হয়েছে। মার্কেটগুলো যথাক্রমে বন্দরবাজারস্থ মেসার্স মেসার্স করিমউল্লাহ মার্কেট,দক্ষিণ সুরমার ভার্ত্থখলাস্থ স্টারভিউ টাওয়ার ও নেওয়া কর্ণার কদমতলী।

সিলেটে জ্বালানী সরবরাহকারী তেলের ডিপোগুলোর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পরিস্থিতি নাজুক। সিলেটের ভার্থখলায় পদ্মা ওয়েল কোম্পানি লিমিটেড (পদ্মা ডিপো), দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজারে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড (মেঘনা ডিপো), ও টেকনিক্যাল রোডে যমুনা ওয়েল কোম্পানি লিমিটেড (যমুনা ডিপো)। এরমধ্যে পদ্মা ডিপোকে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, মেঘনা ডিপোকে ঝুঁকিপূর্ণ ও যমুনা ডিপোকে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তদন্তকারী দল। এই তিনটি ডিপো থেকে সিলেটের পাম্পগুলোতে তেল বিক্রি করা হয়।

এছাড়া এসব ডিপোতে জ্বালানি তেল মজুদও রাখা হয়। ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় রয়েছে টেকনিক্যাল রোডের যমুনা ওয়েল কোম্পানি লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠানটির কাছেই দুটি চারকল মিল রয়েছে। প্রতিদিন এই দুটি প্রতিষ্ঠানে কয়েক লাখ টন কয়েল লাকড়ি উৎপাদন করা হয়। তাছাড়া, অধিকাংশ ডিপোতে নেই বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা। অগ্নিনির্বাপণ, উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল নেই। এখানে অগ্নিনির্বাপণী যন্ত্র ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণে স্থাপনায় কর্মরত জনবল প্রশিক্ষিত নয়। বালতি ও বালু সংরক্ষণ করার কথা থাকলেও তা অধিকাংশ ডিপোগুলোতে সেই ব্যবস্থা নেই। তাছাড়া, ডিপোর কাছেই খোলা বাজারে তেল ও এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি হয়।

এ ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত পরবর্তী সুপারিশে বলা হয় জ্বালানি তেল সংরক্ষণাগারে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক ও ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ ডিপোগুলোতে প্রায় ৩৪ লাখ লিটার ধারণ ক্ষমতার সংরক্ষণাগারে কোন হাইড্রেন্ট বা ফিক্সড ফোম গ্রাউন্ড মনিটর নেই। ডিপোর অভ্যন্তরে কোনও জলাধার নেই। এখানে ২ লাখ লিটার ধারণ ক্ষমতার একটি ভূগর্ভস্থ জলাধার নির্মাণ আবশ্যক। ভার্টিকেল ফুয়েল ট্যাংকের চূড়ায় ‘বজ্রপাত নিরোধক’ দ- স্থাপন করতে হবে। তাছাড়া ডিপোতে কর্মরতদের নিয়মিত অগ্নিনির্বাপণ ও প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও মহড়া প্রতিমাসে অন্তত একবার করতে হবে।

সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, ‘৬-৮ বছর আগে যেসব ক্লিনিক হয়েছে ওই সময়ে ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নেওয়ার প্রয়োজন হতো না। কিন্তু গত ৩-৪ বছর থেকে ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক হওয়ায় এখন সবাই অনুমোদন নিয়েই কাজ করছেন। তবে আগুন নেভানোর জন্য যেসব যন্ত্র ক্লিনিক ও হাসপাতালে রাখা হয়েছে এগুলো অন্তত প্রতি ছয় মাসে পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন।

এই বিষয়ে পদ্মা ডিপোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসান হাবিব বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস পদ্মা ডিপোকে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রেখেছে, তা আমার জানা নেই। কয়েকমাস আগে আমি এই ডিপোতে যোগদান করেছি। আগুন নির্বাপণ করার জন্য আমাদের যেসব যন্ত্রপাতি থাকার কথা সব কিছুই রয়েছে। তবে, পাশাপাশি বহুতল ভবন থাকায় অনেকটা ঝুঁকি রয়েছে। তবুও সিসি ক্যামেরা ও নিরাপত্তারর্ক্ষীদের মাধ্যমে কঠোর নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার মেঘনা তেলের ডিপোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের তেলের ডিপোতে পর্যাপ্ত পরিমাণের অগ্নিনির্বাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। এই ডিপোর কাছাকাছি দোকানকোটাসহ রেস্টুরেন্ট ও বহুতল ভবন নেই। সেই দিক থেকে আমরা নিরাপদে আছি। এছাড়াও ডিপোতে রয়েছে নিরাপত্তারক্ষী ও সিসি ক্যামেরা।’

সূত্র: সিলেট প্রতিদিন




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: