সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৪১ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সুনামগঞ্জে সীমান্ত এলাকার কৃষকরা বাদাম চাষে স্বাবলম্বী

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের ৩টি উপজেলার সীমান্ত এলাকাসহ উঁচু জমি গুলোতে বছরে দুইবার বাদাম চাষ করা সম্ভব হয় বলে কৃষকরা বাদাম চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। বাদাম চাষের উপযোগি মাটি,চাষে খরচ কম কিন্তু লাভ বেশি হয় ফলে একই জমিতে বাদাম চাষ করে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাই দেখে ঐসব এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও বেশী লাভের আশায় উচুঁ জমি গুলোতে বাদাম চাষ শুরু করেছেন। ফলে অন্যন্য বছরের চেয়ে এবার বাদামের চাষ বেশি হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়,জেলার সদর,বিশ^ম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার পাহাড়ী এলাকায় উঁচু জমি গুলোতে বাদাম চাষের উপযোগি মাটি রয়েছে বছরে ২বার একই জমিতে বাদামের চাষ করা যায়। ঐসব উপজেলায় গত বছর বাদামের চাষ হয়েছিল সাড়ে ৩শত হেক্টর জমিতে। এবার চাষ হয়েছে ১হাজার ৪৫০হেক্টর জমিতে। দুটি জাতের বাদাম চাষ হচ্ছে একটি চিনাবাদাম,অপরটি দেশীয় বাদাম। দেশীয় বাদামের ২-৩টি দানা বা বীজ অথবা গোটা থাকে,চিনাবাদামের থাকে ৪-৬টি দানা। তবে দেশীয় বাদাম চাষের উৎপাদন ভাল হয় বলে জানান একাধিক চাষী।

কৃষকগন জানান,ভাদ্র মাসের শেষের দিকে বাদাম রোপন করলে আশি^ন,কার্তিক,অগ্রহায়ণ,পৌষ মাসে অর্থ্যাৎ চার মাসে বাদামের গাছ ও বাদাম বড় হয়। তখন বাদাম ঘরে তোলে নিতে পারে। বাদাম তোলার পর একই জমিতে পুনরায় বাদামের চারা রোপন করা হয়। পৌষ মাসে বাদাম গাছের চারা রোপন করলে ফালগুন,চৈত্র,বৈশাখ শেষে জ্যৈষ্ঠের প্রথম দিকে পুনরায় দ্বিতীয় ধাপের বাদাম ঘরে তোলতে পারেন চাষীরা। এভাবে বছরে দুইবার বাদামের উৎপাদন হয়।

জেলার সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের মুসলিমপুর,সৈয়দপুর,কৃষ্ণনগর,জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের চৌমুহনী,ঝরঝরিয়া,গোদীগাঁও,সাহেবনগর,ইসলামপুর। বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ.ইউনিয়নের,জিনারপুর,মহাকুড়া,ভাদেরটেক,বেড়েরগাঁও,মথুরকান্দি,বাঘবেড়।
ধনপুর ইউনিয়নের সিলডোয়ার,কাইতকোনা,চিনাকান্দি,দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়ন ও পলাশ ইউনিয়ন।
তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের বিন্নাকুলি,লাউড়েরগড়,বাদাঘাট,ঘাগটিয়া ও বালিজুরী,উত্তর বড়দল,দক্ষিন বড়দল,উত্তর শ্রীপুর ও তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন উচুঁ জমিতে বাদামের চাষ হয়েছে।

তাহিরপুরের বালিজুরী,বিন্নাকুলি,লাউড়েরগড় গ্রামের একাধিক চাষী জানান,একই জমিতে বছরে দুইবার চাষ হয় বাদামের আর পরিমাণ মতো বৃষ্টি হলে বাদামের ফলন খুবই ভাল হয়। ১কেয়ার জমিতে বাদামের চাষ করতে সব মিলিয়ে খরচ হয় ৮হাজার টাকা। বাদাম উৎপাদন হয় প্রায় ২৮হাজার টাকার। বাদামের চাষ উপযোগি এখানকার মাটি। তাই বাদামের ফলন ও ভাল হয়। তারা গত বারের চেয়ে বেশী বাদামের চাষ করেছেন।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়ন শক্তিয়ারখলা গ্রামের কামাল মিয়া বলেন,প্রতিবছর আমি বাদামের চাষ করি বাদাম চাষ লাভজনক এলাকার অনেক চাষী বাদাম চাষ করেন। প্রতি বছর ১কেয়ার জমিতে আমরা বাদামের চাষ করি। বাদামের ফলন ভাল হওয়ায় এবার আড়াই কেয়ার জমিতে।

তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম জানান,এবার এই উপজেলা ১২শত হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। তার মধ্যে বালিজুরী ১৫০হেক্টর,সদরে ১শত হেক্টর,শ্রীপুর উত্তর ১৫০হেক্টর,উত্তর বড়দল ২শত হেক্টর,দক্ষিন বড়দল ১৫০হেক্টর,বাদাঘাট ৪৫০হেক্টর। আমরা কৃষকদের সাথে শুরু থেকেই সব সময় যোগাযোগ রাখছি বিভিন্ন পরার্মশ দিচ্ছে। যাতে করে কৃষকরা তাদের কষ্টে ফলানো বাদাম সঠিক ভাবে ঘরে তুলতে পারে। আশা করছি এবার বাদাম উৎপাদন হবে প্রায় ২হাজার টন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ বশির আহমদ বলেন,এসব উপজেলার মাটি ভাল থাকায় এখানে বাদামের পাশা পাশি ভুট্টা,তরমুজ চাষও ভাল হচ্ছে। গত বছর বাদামের চাষ হয়েছিল সাড়ে ৩শ’ হেক্টর জমিতে। বাদাম চাষ খুবই লাভজনক ও বছরে দুইবার একই জমিতে বাদামের চাষ করা যায় বিধায় চাষীরা আগ্রহী হয়ে এবার ১হাজার ৪শত ৫০হেক্টর জমিতে চাষ করেছে।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: