সর্বশেষ আপডেট : ২১ মিনিট ১৮ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ১৫ জুলাই ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩১ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ঘুষ ও জোরালো তদবির না থাকলে ফাইল গায়েব!

নিউজ ডেস্ক:: প্রাথমিক শিক্ষক বদলি নিয়ে ছোট ছোট দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও এবার চিত্র ভিন্ন রকম। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন মহানগরে বদলিতে এবার শিক্ষা প্রশাসনের নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই কম বেশি দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বদলিতে সিনিয়র মন্ত্রীসহ সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালীদের তদবিরও চোখে পড়ার মতো। তদবিরের কারণে অনেকটাই বিব্রত ও বেসামাল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। বদলির জন্য যারা আবেদন করেছেন অথচ জোরালো তদবির কিংবা ঘুষ দেননি, তাদের ফাইল গায়েব হয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম আল হোসেন বলেন, ‘আমরা দুর্নীতি হতে দেবো না। তদবির থাকবে, সবসময় ছিল। তবে নিয়ম মেনেই বদলি করা হবে।’ অর্থমন্ত্রীও তদবির করেছেন বলে শিক্ষক ও অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানাচ্ছেন- এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয় আমাদের টাকা দেয়, তারা তদবির করতেই পারেন। তবে নিয়ম মেনেই বদলি করা হবে। মহাপরিচালক দুর্নীতি করবেন না।’

বড় বড় মন্ত্রীদের তদবিরের বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. এ এফ এম মঞ্জুর কাদির বলেন, ‘তববির করলেই সব তদবির আমরা মেনে নেবো না। যারা জেনুইন তারা বদলি হতে পারবেন।’

মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বদলির শেষ সময় ছিল গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত।রাজধানীসহ সারাদেশে বদলি জন্য আবেদন জমা হয় প্রায় ২০ হাজার। এর মধ্যে রাজধানীতে বদলির জন্য আবেদন জমা হয়েছে সাড়ে ১২ হাজারের মতো। গত ৩১ মার্চ বদলির শেষ দিন হওয়ায় এক সপ্তাহ আগে থেকেই প্রতিদিন শত শত শিক্ষক ভিড় করেন অধিদফতরে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অধিদফতরের মহাপরিচালক গত ৩১ মার্চ শিক্ষকদের আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, ‘যাদের তদবিরের কেউ নেই, তারাও বদলি হতে পারবেন। আমার ওপর ভরসা রাখেন।’

তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন কথা বলছে। যারা বদলির জন্য শূন্যপদের অনুমোদন নিয়েছেন তারাও গত ২ এপ্রিল পর্যন্ত অধিদফতরের সামনে বদলির জন্য অপেক্ষা করেছেন। শেষ পর্যন্ত বদলি হতে না পেরে ফিরে গেছেন কর্মস্থলে। অনেকেই অধিদফতর থেকে বদলির শেষ ভরসাটুকু হারিয়ে সচিবালয়ে গিয়ে সচিবের দফতরে ধরনা দিয়েছেন। চট্টগ্রামের ৩১ জন শিক্ষকের শূন্যপদের অনুমোদন থাকলেও বদলি করা হয়েছে মাত্র দুইজনকে। আর অনুমোদন নেই এমন শিক্ষক বদলি হয়েছেন ২৯ জন।

শিক্ষক ও তাদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, টাকা না দিলে ফাইলের খোঁজ থাকে না। টাকা দিলে আবার তা বের হয়। যারা টাকা দিতে পারেনি বা তদবির করতে পারেনি তাদের নাম তালিকায় ওঠেনি। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে টাকা না দিলে শূন্যপদের বিপরীতে অনুমোদন পাওয়া যায় না এমন অভিযোগও করেছেন অনেকেই।

অধিদফতরে আসা কয়েকজন শিক্ষক দাবি করেন, উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে উপ-পরিচালকের কার্যালয় পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে ১ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়। তা না হলে তাড়াতাড়ি শূন্যপদের অনুমোদনের ফাইল নড়ে না।আবার টাকা না দিলে অধিদফতরে ফাইলের খোঁজ থাকে না। তাই অফিসের লোকজনের সঙ্গে খাতির রেখে টাকা দিয়ে ফাইলের খোঁজ রাখতে হয়। তবে এসব শিক্ষকের কেউ তাদের নাম প্রকাশ করতে চাননি।

প্রতিমন্ত্রীর সুপারিশ করা ফাইল গায়েব
শূন্যপদের বিপরীতে বদলির অনুমোদন নেওয়া একজন শিক্ষকের বাবা মিজান চৌধুরী। তিনি বলেন, “আমি রাজধানীতে মেয়েকে বদলির জন্য গত ১৩ জানুয়ারি প্রথম আবেদন করি। অধিদফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী শূন্যপদের অনুমোদন প্রস্তাব জমা দেই। তারপর অনেক চেষ্টা করেও বদলি না হওয়ায় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করি। প্রতিমন্ত্রী ‘বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিন’ লিখে দেন। এর কিছুদিন পর আবার মন্ত্রীর কাছে গেলে তিনি আবার লিখে দেন ‘ব্যবস্থা নিন’। সর্বশেষ মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলে তিনি আবেদনের কপিতে লিখে দেন ‘ব্যবস্থা নিন’।

কিন্তু বিধিসম্মতভাবে আবেদন করে, প্রতিমন্ত্রীর সুপারিশ নিয়ে আমার মেয়েকে বদলি করতে পারিনি। অথচ গত ২৫ মার্চ স্বাক্ষরিত আদেশে বদলি করা হয়েছে ৪০ জনকে যাদের বেশির ভাগেরই শূন্যপদের অনুমোদন নেই। এতো কিছুর পর অধিদফতরে খোঁজ নিয়ে আমার মেয়ের বদলির নথি খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারপর আবার বাধ্য হয়ে নতুন করে গত ১ এপ্রিল বদলির আবেদন জমা দিয়েছি।”

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে. এ. রাহিম. সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: