সর্বশেষ আপডেট : ৪২ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

অবশেষে সেই পাঁচ হাজার ডলার পাচ্ছেন নাইম !

ডেইলি সিলেট ডেস্কঃ গত ২৮ মার্চ বনানীতে বহুতল ভবন এফ আর টাওয়ারে আগুনে পুড়ে ঝরে যাওয়া  ২৫ টি তাজা প্রানের ক্ষত এখনো দেশের মানুষের চোখের সামনে বয়ে বেড়াচ্ছে। বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে ক্ষত বিক্ষত শত মানুষ। মানুষের সেই বিভীষিকার দাগ কাটতে না কাটতে দেশে নাইম নামে একটি ছেলেকে নিয়ে মিডিয়ায় হইচই শুরু হয়ে যায়, এবং শিশু নাইমকে দেয়া হয় পাইপ বয়,সুপারম্যান উপাধি। এখন পর্যন্ত নাইমকে ঘিরে চলছে সর্বত্র আলোচনা, সমালোচনা বলতে গেলে টক অব দ্যা কান্ট্রি।

বনানী এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার পর থেকেই ভবনে অবস্থান করা মানুষগুলো যখন জানালা দিয়ে
হাত বাড়িয়ে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিলো, তখন নিচে দর্শকের ভূমিকায় ছিলেন হাজারো মানুষ। তাদের
অনেকই আহাজারি করছিলেন কেউবা তুলছিলেন ছবি।

আগুন লাগা ভবনের নিচে ও আশপাশে বিপুলসংখ্যক মানুষ ভিড় করায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের কাজ করতে বেগ পেতে হয়েছে। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হচ্ছে সমালোচনা। তবে বেশকিছু মানুষ মানুষ হাত মিলিয়েছিলেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে। তারা সার্বক্ষণিক রাস্তা খালি করে পানির গাড়ি কিংবা অ্যাম্বুলেন্স যাতায়াতে সহায়তা করে গেছেন।

হাজারো উৎসুক জনতার মাঝে একটি ছবি নজর কেড়েছে সবার। একটি ছোট্ট শিশু ফায়ার সার্ভিসের ফাটা পাইপ দিয়ে বের হয়ে যাওয়া পানি আটকে রাখার চেষ্টা করছে। শিশুটির চোখেমুখে চরম উদ্বেগ আর ‍উৎকণ্ঠা। বৃহস্পতিবার থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়,তার নাম মো. নাঈম ইসলাম। কড়াইল বস্তিতে বাবা-মা ও এক বোনের সঙ্গে বসবাস তার। স্থানীয় আরবান স্ল্যাম আনন্দ স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সে। পাইপের ফাটা অংশে ধরে থাকা সেই ছবিটি মুহূর্তেই সোস্যাল দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় এবং সারা দেশের মানুষের কাছে প্রশংসায় ভেসে যায়। সেই ছবির উপর নজর পড়ে আমেরিকা প্রবাসী ওমর ফারুক সামির , অবুঝ বাচ্চা একটি ছেলের এমন মহৎ কর্মকাণ্ড দেখে সামি নাইমের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সাথে সাথে নাইমের খুঁজ নিয়ে নাইমের যাবতীয় পড়াশোনা সহ পাঁচ হাজার ডলার পুরুস্কার ঘোষণা করেন।

কিন্তু হতভাগ্য নাইম হটাৎ এক টিভি ভিলেনের কুটচালের ফাঁদে পড়ে যায়। এবং সেই ভিডিও সাক্ষাৎকারটি নাইমের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায় , সাক্ষাৎকারে নাইম বলে দেয় পুরুস্কার পাওয়া ৫ হাজার ডলার সে এতিমখানায় দান করে দিবে। এতিমখানায় কেন দান করবে এমন প্রশ্ন করা হলে নাইম বলে বিএনপি নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নাকি এতিমের টাকা লুটপাট করে দিয়েছিলো ! ছোট্ট নাইমের মুখ থেকে এমন উত্তর শুনে সোস্যাল মিডিয়ায় নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন  জনপ্রিয় অভিনেতা ও টিভি উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়। সেই থেকে নাইমকে নিয়ে হয়ে যায় এক লঙ্কাকাণ্ড,যা দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে।

এসব বিতর্কে নাইম  জড়িয়ে যাওয়ায় ওমর ফারুক সামি ফেইচবুকে একটি স্টেটাসের মাধ্যমে তার পুরুস্কারের ৫ হাজার ডলার ঘোষণা থেকে সরে আসেন । সামির এ ঘোষণার সাথে সাথে সোস্যাল মিডিয়ায় নাইম ও শাহরিয়ার নাজিম জয়কে নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় । স্বাভাবিক একটি বিষয় নিয়ে দেশে এমন তুলকালাম কাণ্ড ও বিতর্কের সৃস্টি হবে তা ভাবতে পারেননি ওমর ফারুক সামি। তাই ছোট এই ইস্যু নিয়ে দেশের মানুষের মূল্যবান সময় যাতে নষ্ট না হয় এবং নাইমের ৫ হাজার ডলার পুরুষ্কার দেয়ার প্রতিশ্রুতি পুনরায় দেয়ার ঘোষণা দেন এবং সমস্ত বিতর্ক এখানেই সমাপ্ত করার আহ্বান জানান।

পাঠকের জন্য ওমর ফারুক সামির হুবহু ফেইচবুকের স্টেটাস টি দেয়া হলো ।

অনাকাঙ্ক্ষিত সব কর্মকাণ্ড দেখে হতভম্ব।

আসসালামু আলাইকুম,
আমরা যারা প্রবাসী তারা দেশকে খুবই ভালোবাসি। দেশের কল্যাণে কিছু করার চেষ্টা করি। কিছু করতে না পারলে মহান আল্লাহর কাছে দেশের জন্য দোয়া করি। দেশের আকাশে যখন কালো মেঘ দেখি আমরা দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই। সেই ধারাবাহিকতায় বনানীর মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে আমরা মর্মাহত হই। সেদিন এক ছোট শিশুর আগুন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতার প্রচেষ্টা দেখে আমার হৃদয়ে নাড়া দেয় এবং আমি তাকে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দেই। আমি যদি নাঈমকে ব্যাক্তিগত চিনতাম তাহলে ঘোষণা দেওয়ার প্রয়োজন ছিল না নিজেই পাঠিয়ে দিতাম।

সুদূর আমেরিকা থেকে পরিচয় পাওয়াটাও কঠিন বলে মিডিয়ার আশ্রয় নেই এবং তাকে খুজে যোগাযোগ করি।

সেক্ষেত্রে মিডিয়া আমাকে সহযোগিতা করেছে। মিডিয়ার মাধ্যমে তার মায়ের সাথে আলাপ করে জানতে পারি সে পুলিশ হতে চায় কিন্তু তাদের আর্থিক অবস্থা ভালো না তখনই আমি তার পড়ালেখার দায়িত্ব নেই। কিন্তু এই স্বাভাবিক একটা ইস্যু নিয়ে দেশে তুলকালাম কাণ্ড হচ্ছে। এসব সত্যি খুবই দুঃখজনক। একটি বিভ্রান্ত অনেকটা হতাশার জন্ম দেয়। সুতরাং হতাশা দূর করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

ব্যস্ততার প্রবাস থেকে নাঈম ও তার মায়ের সাথে আলাপকালে বলেছিলাম আমি তার পাশে আছি। আজ আবারো বলছি, নাঈমের পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে পাশে থাকব। বিশ্বের ২ কোটি প্রবাসীদের ভালোবাসা সরূপ নাঈমকে পুরস্কারের টাকা দেব ইনশা আল্লাহ।

পরিশেষে বলব আমাদের সবার উচিৎ দেশ, সমাজ ও দেশের মানুষ নিয়ে ভাবা। দেশের বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা এতোই অস্বাভাবিক যে, মানুষের ভালোবাসা, আবেগ, অনুভূতিকে কোন পর্যায়ে পৌছানো হয় কেউ জানেনা। আধুনিক বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের পরিবর্তে আমরা অপ্রয়োজনে বেশি ব্যবহার করি। আধুনিক এই বিশ্বের যুবকরা প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়ে। বিশ্ব যখন এগিয়ে আমরা তখন পিছিয়ে থাকার মানেই হয় না। আমাদের উচিৎ প্রযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা যায় বা উদ্ধার অভিযান সহজ হয় সেইসব নিয়ে পর্যালোচনা করা। অপ্রয়োজনীয় বা অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু নিয়ে সময় নষ্ট করার কোন যৌক্তিকতা নেই। দেশ ও দশের উন্নিতির জন্য আমাদের প্রযুক্তি ব্যবহার হবে এই প্রত্যাশা করছি।
নাঈম যেন পড়ালেখা করে একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান পুলিশ অফিসার হয়ে দেশের সেবা করতে পারে আপনারা এই দোয়া করবেন।

ওমর ফারুক সামি, নিউ ইয়র্ক প্রবাসী  ।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: