সর্বশেষ আপডেট : ১২ মিনিট ৮ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কমলগঞ্জ ৫০ ঘন্টা বিদ্যুৎ বিহীন

মো: মোস্তাফিজুর রহমান:: ঝড়বৃষ্টির মৌসুমের শুরুতেই মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিপর্যয় । ঝড়বৃষ্টি শুরু হলেই চলে যায় বিদ্যুৎ । বৃষ্টিতেই চলে যায় আবার কখনো টানা বিদ্যুৎ থাকে না। গত দুই দিনে প্রায় ৫০ ঘন্টা বিদ্যুতবিহীন অবস্থায় কমলগঞ্জের ৫০ হাজার গ্রাহক অতিবাহিত করেন। চরম দুভোর্গে মানুষের কষ্ট বেড়ে যায়। বিদ্যুতের এই বিপর্যয় গত কদিনে প্রায় নিয়মে দাঁড়িয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলায় কুলাউড়া সাব গ্রীড হতে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়ে যাকে। প্রায় ২০ কিলোমিটার দূর হতে ৩৩ কেভি লাইন এসেছে উপজেলা সাব ষ্টেশনে। এতে করে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টি হলে বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিদ্যুৎবিভ্রাট হচ্ছে। হয়তো তার ছিড়ে নয়তো বা বজ্রপাতে এসলেটর নষ্ট হয়ে টানা বিদ্যুতবিহীন থাকতে হয় ৫০ হাজার গ্রাহক। কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের পল্লী বিদ্যুতের লাইন ম্যান না দিন রাত কষ্ট করে লাইন মেরামত করে বিদ্যুত স্বাভাবিক করলেও পুনরায় ঝড় হলেই আগের মতো লাইন বিপর্যয় হয়ে পড়ে। গত দুই দিনে মাত্র ৫ঘন্টা বিদ্যুত ছিল কমলগঞ্জে।

কমলগঞ্জ জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, কমলগঞ্জ উপজেলা এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়ে থাকে জেলার শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত গ্রিড উপকেন্দ্র এবং কুলাউড়া গ্রিড উপকেন্দ্র থেকে। কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে সমস্যা হলে বিকল্প হিসেবে কমলগঞ্জ-কুলাউড়া লাইনের মাধ্যমে কমলগঞ্জ উপজেলা এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কিন্তু ঝড়বৃষ্টিতে দুটি লাইনই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ বিদ্যুৎ লাইনের দৈর্ঘ্য হচ্ছে প্রায় ১৮ কিলোমিটার এবং কমলগঞ্জ-কুলাউড়া লাইনের দৈর্ঘ্য হচ্ছে প্রায় ৩০ কিলোমিটার। এ দুটি লাইনই এসেছে পাহাড়, হাওর, চা-বাগান ও বাসাবাড়ির পাশ দিয়ে। ঝড়বৃষ্টি বা বাতাসে দুটি লাইনের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গাছপালা ভেঙে পড়ে। বজ্রপাতে ইনস্যুলেটর ফেটে যায়। তখন লাইনের কোথায় গাছপালা পড়েছে, কোথায় ইনস্যুলেটর ফেটেছে, তা খুঁজে ত্রুটি সারাতে অনেক সময় লাগে। গ্রাহকেরা এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েন। ঝড়-বাদলার মৌসুমে এই দুর্ভোগ প্রায় প্রতিবছরের। গতকালও কমলগঞ্জ-কুলাউড়া লাইনে বজ্রপাতে ইনস্যুলেটর ফেটে যায়।

গ্রাহকেরা বলছেন, একটি বিদ্যুৎ গ্রিড উপকেন্দ্র থাকলে সমস্যার সৃষ্টি হতো না। ১৩২/৩৩ কেভি লাইন থেকে সরাসরি গ্রিড-উপকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে শ্রীমঙ্গল ও কুলাউড়া থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজন পড়তো না। সাধারণত গ্রিড-উপকেন্দ্র শহরের এক-দেড় কিলোমিটারের মধ্যে থাকে। এই অল্প দূরত্বের কোথাও কোন সমস্যা হলে তা সমাধান করতে বেশি সময় লাগে না।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে শুরু হয়েছে ঝড়বৃষ্টির প্রকোপ। হঠাৎ করেই আকাশ কালো করে মেঘ জমছে। শুরু হচ্ছে দমকা ও ঝোড়ো হাওয়া। সঙ্গে সঙ্গেই চলে যাচ্ছে বিদ্যুৎ। অনেক সময় বৃষ্টি নেই। শুধু দমকা হাওয়া দিলেও বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে করে ব্যবসা-বাণিজ্য, বাসাবাড়িতে মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) বেলা পৌনে তিনটার দিকে হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে মেঘ করে। অন্ধকার হয়ে আসে চারদিক। সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ চলে যায়। মেঘ করলেও বৃষ্টি ছিল না। সারা রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ আসেনি। বুধবার বিকাল ৪টায় বিদ্যুত লাইন মেরামত করে বিদ্যুত ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা হয়। কয়েক দিন ধরেই বিদ্যুতের এই আসা-যাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অনেক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জেনারেটর চালিয়ে কাজ করতে দেখা গেছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা চৌমুহনীর কম্পিউটার ও ফটোকপি ব্যবসায়ী ফাহিম আহমেদ বলেন, ‘আমাদের ব্যবসা হচ্ছে বিদ্যুৎনির্ভর। এরকম বিদ্যুৎ না থাকলে আমার ব্যবসা চালানো অনেক কঠিন। পরশু দিন (রোববার) বিদ্যুৎ ছিল না। এর কারনে আমার অনেক টাকার ক্ষতি হয়েছে। আজকে (মঙ্গলবার) প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ নেই। এর আগেও কয়েকবার আসা-যাওয়া করেছে। এখন বৃষ্টি হচ্ছে না। তারপরও বিদ্যুৎ নেই।’
কমলগঞ্জ পল্লী বিদ্যুত সমিতি জোনাল অফিসের ডিজিএম মোবারক হোসনে সরকার বলেন, কুলাউড়া হতে লাইন এসেছে। কিন্তু ঝড়ে বা ব্রজপাত লাইনের সমস্যা সৃষ্টি হয়। এতে করে স্বাভাবিক বিদ্যুত ব্যবস্থ্ ারাখা সম্ভব হচ্ছে না।



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে. এ. রাহিম. সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: