সর্বশেষ আপডেট : ৩৩ মিনিট ২৯ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আমি মরে যাব, তোমরা ভালো থেকো: স্ত্রীকে ফোন করে স্বামী

ডেইলি সিলেট ডেস্ক:: রাজধানীর বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন মির্জা আতিকুল নামের এক ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এসে এমন তথ্য জানিয়েছেন তার স্ত্রী পলি আক্তার।

স্বামীর সন্ধানে ছুটে আসা পলি আক্তার জানান, তার স্বামী মির্জা আতিকুল এফ আর টাওয়ারে স্ক্যান ওয়েল লজিস্টিক কোম্পানির এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তিনি রাজধানীর আমতলী এলাকায় ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। প্রতিদিনের মত আজ সকালেও অফিসে আসেন তিনি। কিন্তু বেলা ১টার দিকে তিনি পলি আক্তারের মোবাইলে ফোন দেন।

পলি বলেন, ‘হঠাৎ ফোন দিয়ে বলে আমার ভবনে আগুন লাগছে। আমাদের অফিসে অনেক ধোয়া। শ্বাস নিতে পারছি না। আমি হয়তো মারা যাব, তোমরা ভালো থেকো।’

এই কথা বলে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন আতিকুল।এরপর পলি অনেকবার তার মোবাইলে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেন নাই।

এরপর বৃহস্পতিবার বিকালে পলি আক্তার স্বামীর সন্ধানে বনানীতে ছুটে আসেন। কিন্তু সেখানে এসে শুনতে পান ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আটকা পড়া লোকজনদের উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেছে। পরে তিনি হাসপাতালে ছুটে আসেন। তবে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত তিনি স্বামীর সন্ধান পান নাই।

সরেজমিন কুর্মিটোলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখা গেছে, এফ আর টাওয়ারে আটকা পড়া লোকজনের স্বজনরা ভিড় করছেন। তাদের মধ্যে পলি আক্তারও রয়েছেন। কিছুক্ষণ পর পর অ্যাম্বুলেন্সে করে উদ্ধার হওয়া লোকজনকে নিয়ে আসা হচ্ছে। তখন দৌঁড়ে অ্যাম্বুলেন্সের পাশে যান পলি। কিন্তু তার স্বামীকে না পেয়ে বার বার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।

এদিকে, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৪৫ জনকে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের মধ্যে নিরস চন্দ্র নামের এক শ্রীলঙ্কান নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী রশিদ-উন-নবী।

বৃহস্পতিবার বিকালে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, আহতদের মধ্যে সোহেল হোসেন নামের ফায়ার সার্ভিসের এককর্মী রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে বনানীর ১৭ নম্বর রোডে এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ নিহত এবং ৭৩ জন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে পুলিশ।

নিহতের মধ্যে রয়েছে- পারভেজ সাজ্জাদ (৪৭), আমেনা ইয়াসমিন (৪০), মামুন (৩৬), শ্রীলঙ্কার নাগরিক নিরস চন্দ্র, আবদুল্লাহ আল ফারুক (৩২), মাকসুদুর (৬৬) ও মনির (৫০)। তাদের মধ্যে আমেনা মারা গেছেন অ্যাপোলো হাসপাতালে। পারভেজ সাজ্জাদ বনানী ক্লিনিকে, নিরস চন্দ্র কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে এবং মামুন, মাকসুদুর ও মনির ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা গেছেন। এ ছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন আবদুল্লাহ আল ফারুক। তবে বাকিদের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: