সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নিউজিল্যান্ডে ভাইয়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত সিলেটের হুসনে আরা

ডেইলি সিলেট ডেস্ক:: নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে আল নূর মসজিদে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৫ বাংলাদেশির জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটের গোলাপগঞ্জের হুসনে আরা বেগম পারভীন ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ড. আবদুস সামাদের লাশ নিউজিল্যান্ডে দাফন করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চত করেছেন নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হোসনে আরার বড় ভাই মো. নাজিম উদ্দিন।

মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, এক বছর আগে আমার ছোট ভাই বুরহান উদ্দিন নিউজিল্যান্ডে মারা গেলে সেখানেই দাফন করা হয়েছে। তার কবরের পাশেই বোন হুসনে আরাকেও দাফন করা হয়েছে।
গত ১৫ মার্চ পঙ্গু স্বামীর সঙ্গে জুমার নামাজ পড়তে গিয়ে সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত হন সিলেটের বিশ্বনাথের ফরিদ আহমেদের স্ত্রী হোসনে আরা আহমেদ। সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলির মধ্যে স্বামীকে খুঁজতে গিয়ে নিহত হয়েছিলেন হুসনে আরা পারভীন।

নাজিম উদ্দিন আরও বলেন, আমার ছোট বোন হুসনে আরা বেগম পারভীন নিহতের পর আমরা চেয়েছিলাম লাশ দেশে এনে দাফন করব। কিন্তু জটিলতা থাকায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি নিউজিল্যান্ডেই তাকে দাফন করব। সেখানে তার স্বামী ফরিদ উদ্দিন ছাড়াও ১৪ বছর বয়সী মেয়ে সিফা আহমদ রয়েছে। সে মোতাবেক আজ বাদ জুমআ তাকে দাফন করা হয়েছে।

নিহত হোসনে আরা বেগম পারভীন সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালহাটা গ্রামের মরহুম নুর উদ্দিনের মেয়ে। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট হুসনে আরা বেগম পারভীন। ১৯৯২ সালে বিশ্বনাথ উপজেলার মিরেরচর গ্রামের মৃত মকররম আলীর ছেলে ফরিদ উদ্দিনের সঙ্গে বিয়ে হয় তার।

বিশ্বনাথে গ্রামের বাড়িতে থাকা ফরিদ উদ্দিনের ভাতিজা নজরুল ইসলাম জানান, নিউজিল্যান্ডে বসবাসরত অবস্থায় প্রায় ১৫ বছর পূর্বে চাচা ফরিদ উদ্দিনের সড়ক দুর্ঘটনায় দুই পা পঙ্গু হয়ে যায়। পঙ্গু হওয়ার পর হুইল চেয়ারে করে তাকে দেখাশুনা করতেন চাচি হুসনে আরা। তিনি অসুস্থতার কারণে ১৫ বছর ধরে দেশের বাড়িতে আসতে পারেননি। পারভীনও স্বামীকে অসুস্থ রেখে দেশের বাড়িতে তেমন আসা যাওয়া ছিল না। পারভীন সর্বশেষ ২০০৯ সালে তার একমাত্র কন্যা শিপা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে দেশে আসেন। মাত্র ১০ দিন দেশে অবস্থান করে স্বামীর টানে আবার নিউজিল্যান্ডে চলে যান।

সন্তান আর স্বামীকে দেখাশুনায় দিন কাটতো হুসনে আরার। শুক্রবার জুম্মার নামাজ আদায় করতে স্বামীকে হুইল চেয়ারে করে সঙ্গে নিয়ে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদের ভেতরে রেখে তিনি মহিলা অংশে নামাজ পড়তে যান। এসময় তিনি মসজিদের ভেতরে গুলির শব্দ পেয়ে স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে যান। কিন্তু তার স্বামী বেঁচে গেলেও ওই সন্ত্রসীর গুলিতে তিনি ঘটনাস্থলেই নিতহ হন। তার মৃত্যুতে অসহায় হয়ে পড়লেন পঙ্গু স্বামী আর একমাত্র কন্যা সন্তান শিফা বেগম।

উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নুর ও লিনউড মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত হন ৫০ জন। আহত হন অন্তত ৪৮ জন। কট্টর শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী ২৮ বছরের ব্রেনটন টেরেন্ট এ হত্যাযজ্ঞ চালায়। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশের ৫ জন রয়েছেন।



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে. এ. রাহিম. সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: