সর্বশেষ আপডেট : ৫ মিনিট ৩১ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

এতদিন নিউজিল্যান্ডে যা হয়নি তা-ই হবে শুক্রবার!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: নিউজিল্যান্ডের মুসলমান নারীদের প্রতি সমর্থন জানাতে আগামীকাল শুক্রবার সারা দেশ জুড়ে নারীরা একদিনের জন্য মাথা ঢেকে রাখবেন।

‘হেডস্কার্ফ ফর হারমনি’র আয়োজকরা বলছেন, কী ধরনের কাপড় মাথায় পরতে হবে, বা কিভাবে তা পরতে হবে, তা নিয়ে বিশেষ কোন নিয়মকানুন থাকবে না।

শুধু এর মাধ্যমে কিউইরা নিউজিল্যান্ডের মুসলমান নারী ও ইসলামের প্রতি তাদের সহমর্মিতা প্রকাশ করবেন বলে নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড সংবাদপত্র খবর দিয়েছে।

কিন্তু এই অনুষ্ঠানটি নিয়ে ইতোমধ্যেই হৈচৈ শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, নারীরা যে পুরুষের অনুগত, সেই বার্তাও দেয়া হবে।

তবে অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলাম বিষয়ক একজন অধ্যাপক ড. যাইন আলী বলছেন, এই অনুষ্ঠানটি নিয়ে তিনি ভীষণভাবে গর্বিত। নিউজিল্যান্ডের মুসলমান নারীরাও অনুষ্ঠানটি নিয়ে গর্বিত হতে পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গত শুক্রবার একজন শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী জঙ্গী নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের দুটি মসজিদে হামলা চালিয়ে ৫০ জন মুসলিমকে হত্যা করে।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড বলছে, ‘হেডস্কার্ফ ফর হারমনি’র ধারণাটা প্রথম আসে অকল্যান্ডের একজন ডাক্তার থায়য়া আশমানের মাথায়।

ক্রাইস্টচার্চের হামলার পর একদিন তিনি টিভির খবর দেখতে পান যে একজন মহিলা বলছেন, ঐ ঘটনার পর তিনি হিজাব পরে বাইরে বেরুতে ভয় পাচ্ছেন।

একথা শুনে তিনি মনে করলেন সারা দেশের মুসলমান নারীদের জন্য কিছু একটা করা দরকার। এরই পথ ধরে ‘হেডস্কার্ফ ফর হারমনি’র শুরু।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড জানাচ্ছে, শুরুর দিকে ডা. আশমান বিষয়টি নিয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সাথে আলাপ বলেন। পরে তিনি ইসলামিক উইমেন কাউন্সিল অফ নিউজিল্যান্ড এবং মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন অফ নিউজিল্যান্ডের কর্মকর্তাদের সাথেও কথা বলেন।

দুটি প্রতিষ্ঠানই ডা. আশমানের উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানায়। কিউইরা কিভাবে এই মাথা ঢেকে রাখবেন তা নিয়ে ডা. আশমান তাদের কাছ থেকে পরামর্শ চান।

তবে তিনি বলছেন, তিনি ঠিক হিজাব পরার কথা বলছেন না। তার বদলে নিউজিল্যান্ডের নারীরা যে কোন ভাবে কাপড় দিয়ে মাথা ঢেকে মুসলিমদের প্রতি সমর্থন জানালেই চলবে।

তবে শুক্রবারের এই অনুষ্ঠান নিয়ে নিউজিল্যান্ডের সোশাল মিডিয়ায় অনেকেই বিরোধিতা করছেন। অনেকে বলছেন এতে নারী অধিকারের অবমাননা হবে।

অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. যাইন আলী বলছেন, এর মধ্য দিয়ে মুসলিম নারীদের অবমাননা হবে না বলেই তিনি বিশ্বাস করেন।

“কিন্তু এর মাধ্যমে অন্য নারীদের কি অপমান করা হচ্ছে? না, কারণ কাউকে জোর করে মাথায় কাপড় দেয়ানো হচ্ছে না।”

তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ডের নারীরা যদি মাথায় স্কার্ফ পরেন, তার মানে এই নয় যে সৌদি আরব বা ইরানে যা ঘটছে তারা তার সাথে একমত। দুটি ভিন্ন বাস্তবতাকে আলাদা করে দেখার পরিপক্বতা থাকা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে, এতদিন নিউজিল্যান্ডে যা হয়নি তা-ই হবে আগামীকাল।



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে. এ. রাহিম. সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: