সর্বশেষ আপডেট : ১৩ মিনিট ১৩ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মেয়েকে বলেছি তোমার মা আল্লাহর কাছে, আমিই এখন তোমার মা এবং বাবা

নিউজ ডেস্ক:: শুক্রবার নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলায় নিহত সিলেটের হুসনা আহমদের মেয়ে স্কুল থেকে ফিরে মাকে খুঁজে না পেয়ে বাবার কাছে মায়ের বিষয়ে জানতে চায়। ফরিদ বলেন, ‘আমি এক সেকেন্ডও দেরি না করে বলি, সে আল্লাহর কাছে।’ তখন মেয়ে বলে ‘তুমি মিথ্যা বলছো। তুমি কি বলছো আমার মা আর নেই?’ আমি বললাম: হ্যা, আমিই এখন তোমার মা এবং বাবা।’

হুসনা আহমেদ ১৯ বছর বয়সে বাংলাদেশ থেকে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমান। এদিন বিমানবন্দরে তার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন ফরিদ নামের এক যুবক। পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিউজিল্যান্ডে পৌছানোর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ফরিদ ও হুসনা আহমেদ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সুখে-শান্তিতে কাটছিল তাদের সংসার জীবন। একে একে কেটে যায় ২৫টি বছর। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, গত শুক্রবার এ দম্পতির সে মধুর সময়ের ইতি ঘটেছে। ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে বন্দুকধারী ব্রেন্টন টেরেন্ট নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ৫০ জন মুসল্লীকে হত্যা করেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন হুসনা আহমেদও।

ঘাতক টেরেন্ট যখন মসজিদে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল, তখনই হুসনার মুখোমুখি হয় সে। এসময় হুসনা মসজিদে প্রবেশ করছিল। খুনের নেশায় উন্মত্ত টেরেন্ট সেখানেই গুলি চালায় হুসনার ওপর। পর পর ৩টি গুলি চালিয়ে হুসনার মৃত্যু নিশ্চিত করে সে। মসজিদের বাইরে ফুটপাতে পড়ে থাকে হুসনার নিথর দেহ।

তার স্বামী ফরিদ হুইল চেয়ারে চড়ে চলাফেরা করেন। একটি দুর্ঘটনায় তাকে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়। শুক্রবার হুসনার সঙ্গে তারও মসজিদে জুম্মার নামায পড়তে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়ে যায় ফরিদের। বন্ধুর সঙ্গে কথা বলতে গিয়েই মসজিদে পৌঁছাতে বিলম্ব হয় তার। আর এতেই প্রাণে বেঁচে যান তিনি। সাধারণত ফরিদ মসজিদের সামনে একটি নির্ধারিত স্থানে নামায আদায় করেন। বন্ধুর সঙ্গে আলাপ শেষে নামাযের জন্য তিনি ওই নির্ধারিত জায়গায় পৌছানোর চেষ্টা করছিলেন। এসময় গুলির শব্দ পেয়ে তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। বন্দুকধারী চলে যাওয়ার পর মসজিদে ফিরে নিজের বন্ধু ও কমিউনিটির সদস্যদেরকে মৃত বা মৃতপ্রায় অবস্থায় দেখতে পান।

অন্যান্যদের সঙ্গে তিনি মসজিদের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। এমন সময় ফরিদের জানাশোনা এক গোয়েন্দা তার ভাগ্নি/ভাস্তিকে ফোন দেন। সে ফোনটি ফরিদের হাতে দিয়ে কথা বলতে বলে। ওই গোয়েন্দা তাকে বলেন- ‘আমি তোমাকে সারারাত অপেক্ষায় রাখতে চাই না ফরিদ। তুমি বাড়ি যাও, সে (ফরিদের স্ত্রী) আর আসবে না।’তখনকার অনুভূতির বিষয়ে ফরিদ বলেন, ‘এ খবর শোনার পরে আমি চলৎশক্তি হারিয়ে ফেলি। আমি কান্না করি, কিন্তু ভেঙে পড়িনি।’

বন্দুকাধারী ওই মসজিদে হত্যাযজ্ঞ শেষে আরেকটি মসজিদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। শুক্রবারের এ হামলায় মোট ৫০ জন নিহত হয়। আহত হয় আরো অনেক মানুষ। হতাহতদের বেশিরভাগই পাকিস্তান, ভারত, মালয়েশিয়া, সিরিয়া, তুরস্ক, সোমালিয়া ও আফগানিস্তান থেকে আসা শরণার্থী বা অভিবাসী।

(রয়টার্স অবলম্বনে)




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: