সর্বশেষ আপডেট : ৪৮ মিনিট ২৬ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

এই রক্তাক্ত কুরআন সেদিন সাক্ষ্য দিবে, এই দাগ কেউ মুছতে পারবে না

নিউজ ডেস্ক:: উগ্রবাদী সন্ত্রাসীর হামলায় সেদিন রক্তের বন্যা বয়ে গেছে পুরো ক্রাইস্টচার্চে! মসজিদের ফ্লোর থেকে রক্তের স্রোত চলে গেছে রাস্তায়! মসজিদের মেঝে কিংবা রাস্তা পরিষ্কার করে মুছে ফেলা হবে কিংবা এতক্ষণে মুছে ফেলা হয়েছে রক্তের দাগ।
কিন্তু এই পবিত্র কুরআন যে হয়ে গেল সেই সব মুসল্লিদের রক্তের সাক্ষী! সব দাগ মুছে ফেলা যাবে। কিন্তু এই দাগ কেউ মুছতে পারবে না। এই রক্তাক্ত কুরআন সেদিন (শেষ বিচারের দিন) সাক্ষ্য দিবে- আল্লাহ তোমার হুকুম পালন করতে এসেই তোমার দুশমনের নৃশংসতার শিকার হয়েছেন তারা।

পাঠক, নিশ্চয় বুঝে গেছেন কোন ঘটনার কথা বলা হচ্ছে। হ্যাঁ, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নুর ও লিনউড মসজিদের কথা বলা হচ্ছে। যেখানে বর্বর, উগ্র ও উম্মাদ সন্ত্রাসীর হত্যার নেশার শিকার হয়েছেন অন্তত ৫০ জন মুসলিম। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে দুনিয়ার ঘর কিংবা চিরস্থায়ী (কবর) ঘরে ফেরার প্রহর গুণছেন আরো ৪৮ জন।

শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের ওই দুটি মসজিদে ভয়াবহ হামলায় যে রক্তের বন্যা বয়ে গেছে তা থেকে রেহাই পায়নি পবিত্র আল কুরআনও। আল্লাহর মেহমানদের রক্তে সিক্ত হয়ে মহাকালের সাক্ষী হয়ে থাকলো।

এই কুরআনেই আল্লাহ বলেছেন, ‘যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বুঝতে পারো না।’ (সুরা বাকারা-১৫৪)

সন্ত্রাসী হামলায় আক্রান্ত নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় অব্যাহত রয়েছে। প্রতি ওয়াক্ত নামাজেই চোখের পানিতে ভাসছে নামাজ আদায়কারী মুসল্লিদের বুক। পুরো নিউজিল্যান্ড জুড়ে আদিবাসী, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণ ও সম্প্রদায়ের লোকজন শোক পালন অব্যাহত রেখেছে।

সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলার পর নিউজিল্যান্ড সরকার অস্ত্র আইন আরো কঠোর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে জানান, ‘আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এ আইনের ব্যাপারে বিস্তারিত ঘোষনা দেবেন।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা বলেন, তাঁর কোয়ালিশন সরকার সব অস্ত্রের সহজলভ্যতা কমিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধ। এ সময় তাঁর পাশে ছিলেন কোয়ালিশন সরকারের শরিক দলের নেতা ও ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী উইন্সটন পিটারস। যিনি অস্ত্র আইনে পরিবর্তন আনার বিরোধী ছিলেন। তিনিও প্রধানমন্ত্রীকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।

উইন্সটন পিটারস বলেন, ‘শুক্রবার দুপুরের ঘটনার পর বাস্তবতা হচ্ছে আমাদের পৃথিবী চিরতরে বদলে গেছে। সুতরাং আমাদের আইনও বদলে যাবে।’

শুক্রবারের সন্ত্রাসী ঘটনায় নিউজিল্যান্ডসহ বিশ্বজুড়ে শোকাবহ পরিবেশ এখনো বিরাজ করছে। অশ্রুসিক্ত নয়নে মসজিদ দু’টির মুসল্লিরা নামাজ আদায় করছে। দেশটির সব সম্প্রদায়ের লোকজন দেশের বিভিন্ন স্থানে নিহতদের স্মরণে কর্মসূচি পালন করছেন, ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।’

অনেক শিক্ষার্থী আল নুর মসজিদের বাইরে ঐতিহ্যবাহী মৌরি নাচের মাধ্যমে ‘হাকা’ (বিদেহী আত্মার প্রতি সম্মান) অনুষ্ঠান পালন করে। গতকালও অকল্যান্ডে ওরিয়া কলেজের শিক্ষার্থীরা ‘কিয়া কাহা’ (শক্ত থাকুন) বলে সম্মিলিত কণ্ঠে গান গেয়ে এ অনুষ্ঠান পালন করেন।



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে. এ. রাহিম. সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: