সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

চাকরির আশায় খালি চেক দিয়ে ফেঁসে গেছেন সিলেটের প্রতিবন্ধী যুবক


নিউজ ডেস্ক:: চাকরি পাওয়ার আশায় সরল বিশ্বাসে ব্যাংকের খালি চেকের পাতা দিয়ে ফেঁসে গেছেন এক প্রতিবন্ধী যুবক। চাকরিতো জুটেইনি এখন দৌড়াতে হচ্ছে আদালতের বারান্দায়। কাঁধে ৬০ লাখ টাকার চেক প্রত্যাখ্যানের বোঝা। জন্মের পর থেকে ডান হাতটি অকেজো তার। হাতের কবজি ও পাঁচ আঙ্গুল নেই। প্রতিবন্ধী হোসাইন আহমদ এখন ন্যায়বিচার পেতে বিচারিক আদালত থেকে উচ্চ আদালতে ছুটছেন। চোখে দেখছেন অন্ধকার। মুখেও হতাশার চাপ।
কি করবেন ভেবে কুল পাচ্ছেন না প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়া এই যুবক।
প্রতারণা শিকার প্রতিবন্ধী হোসাইন আহমেদ মামলার খরচ যোগাতে সিলেটের মোগলাবাজারের পৈতৃক মুদি দোকান খুইয়েছেন। সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধিত (আইডি নম্বর-১৯৮৭৯১১৩১৬০৩৮৭২১২-০২) অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা দিয়ে চলতে হয় তাকে।
তার বিরুদ্ধে করা চেক প্রত্যাখ্যানের মামলা বিচারাধীন জামালপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে। সিলেট থেকে জামালপুর আদালতে যেতে হচ্ছে নিয়মিত। গত সপ্তাহে এসেছিলেন উচ্চ আদালতে। ফলে আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যয়ে পড়েছেন তিনি। জানা গেছে, সিলেটে পরিচয় হয় হোসাইন আহমেদের সঙ্গে জামালপুর সদর থানার তেঁতুলিয়া গ্রামের মমিনুর রহমানের। মমিনুর সিলেটের বিভিন্ন এলাকার পোল্ট্রি খামারে মুরগির বাচ্চা সরবরাহ করতেন। মমিনুর জানান সিলেটে তার পোল্ট্রির আড়ৎ রয়েছে। একপর্যায়ে হোসাইন আহমেদকে আড়তে চাকরির প্রস্তাব দেন মমিনুর। চাকরির শর্ত একটাই ব্যাংকের চেক বইয়ের খালি পাতা দিতে হবে।
চাকরির আশায় হোসাইন তুলে দেন তার ইসলামী ব্যাংকের চেক বইয়ের পাতা। এরপর চাকরি দেবো, দিচ্ছি বলে গড়িমসি শুরু করেন মমিনুর। চেকের পাতা ফেরত পেতে বার বার অনুরোধ করেও বিফল হন হোসাইন। চেকের পাতা ফেরত না পাওয়ায় ২০১৩ সালের ২৭শে জুলাই মোগলাবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি। এরমধ্যে মমিনুর রহমান ওই খালি চেকের পাতায় ২০১৬ সালের ৯ই মার্চ তারিখে ষাট লাখ টাকা লিখে জামালপুর পৌরসভার ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকে জমা দেন। কিন্তু পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় ২০১৬ সালের ১১ই এপ্রিল চেকটি প্রত্যাখ্যাত হয়। চেক প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় একই বছরের ২রা মে মমিনুর লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।
তিনদিন পর হোসাইন লিগ্যাল নোটিশটি পান। লিগ্যাল নোটিশের জবাব না পাওয়ায় ২০১৬ সালের ৮ই জুন জামালপুর জেলা বিচারিক হাকিম আদালতে হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন-১৮৮১ এর ১৩৮ ধারায় মামলা করেন মমিনুর। মামলার তথ্য জানার পর জামালপুরের আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন হোসাইন আহমেদ। ২০১৭ সালের ৪ঠা জুলাই জামিন পান তিনি। এরমধ্যে বিচারিক কার্যক্রম চলতে থাকে। চলতি বছরের ২৬শে ফেব্রুয়ারি হোসাইনের পক্ষে তার আইনজীবী একজন হস্তলেখা বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে চেকটি যাচাই করার আবেদন করেন জামালপুরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে। আবেদনে বলা হয় চেকের হাতের লেখা তার (হোসাইন) নয়। হস্তলেখা বিশেষজ্ঞ দিয়ে যাচাই করা হলে রহস্য উন্মোচিত হবে। কিন্তু আদালত আবেদনটি আমলে না নিয়ে আগামী ২০শে মার্চ মামলার রায়ের দিন ধার্য করেছেন। বিচারিক আদালতে ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা থেকে হোসাইন আহমেদ উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১-এ ধারায় বিচারাধীন মামলাটি বাতিলের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করলেও শুনানি হয়নি। এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের ১৫ দিনের অবকাশ ছুটি শুরু হয়েছে।
আগামী ১লা মার্চের আগে আবেদনটির আর শুনানি হচ্ছে না। ফলে চোখে মুখে অন্ধকার দেখছেন তিনি। মমিনুর রহমান সিলেট ছেড়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে থাকেন। তার পাঁচটি মুঠোফোন নাম্বার পাওয়া গেলেও সবক’টিই বন্ধ পাওয়া গেছে। ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও এ ব্যাপারে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী হোসাইন আহমেদের আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি এডভোকেট এম খালেদ আহমেদ বলেছেন, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে খালি চেকের পাতা নিয়েছিলেন মমিনুর রহমান। পরে নিজ হাতে টাকার অংক বসিয়ে ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
বিষয়টি নিষ্পত্তি করা একদম সহজ। একজন হস্তলেখা বিশেষজ্ঞকে দিয়ে হাতের লেখা যাচাই করা গেলেই ঘটনার সত্যতা বেরিয়ে আসবে। যদি প্রমাণ হয় চেকটি হোসাইন লিখিছেন তাহলে তার সাজা হবে। না হলে অভিযোগ থেকে মুক্তি পাবেন। আমি চাই অসহায় হোসাইন হয়রানি থেকে মুক্ত হোক।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: