সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
রবিবার, ২৪ মার্চ ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ছাত্রীর সন্তান প্রসব, ভূমিষ্ঠ সন্তানকে নিয়ে একি কাণ্ড!


নিউজ ডেস্ক :: একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান প্রসবের পর সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানকে বাক্সে তালাবন্দি করে হাসপাতালে গেলেন মা। প্রসব বেদনা সহ্য করতে না পেরে মা হাসপাতালে গেলেও দীর্ঘক্ষণ অযত্নে অবহেলায় ছিল নবজাতকটি। পরে নবজাতকের কান্নার শব্দ শুনে বাক্স থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয় বাচ্চাটিকে।

শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলে। শনিবার রাত নয়টা ৪০ মিনিটে নবজাতকটি হাসপাতালে মারা গেছে তবে মা জীবন-মরণ সন্ধিক্ষণে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা হলের আবাসিক ছাত্রী ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ওই হলের ৪২৬ নং কক্ষে এক কন্যা সন্তান প্রসব করেন এক ছাত্রী। তিনি ওই রুমেরই আবাসিক ছাত্রী। পরে হল প্রশাসনকে প্রসব বেদনার কথা জানিয়ে বাচ্চাকে ট্রাঙ্কে তালা দিয়ে মেডিকেলে যান। পরে বাচ্চার কান্নার আওয়াজ পেয়ে ওই রুমের একটি ট্রাঙ্কের তালা ভেঙে নবজাতককে উদ্ধার করে মেডিকেলে নেয় প্রশাসন।

রাত দশটায় এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী প্রক্টর মোবাইলে বলেন, ‘ নয়টা ৪০ মিনিটে নবজাতকটি মারা গেছে। আর মায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক (ক্রিটিক্যাল)। তবে মেয়েটি বিবাহিত কিনা এ বিষয়ে সহকারী প্রক্টর নিশ্চিত করতে পারেননি।

তবে অন্তঃসত্তার বিষয়টি ওই মেয়ে লুকিয়ে রখেছিলো বলে হলের বান্ধবীদের সূত্রে জানা গেছে।

হল সূত্রে জানা যায়, দুপুর আড়াইটার দিকে ওই ছাত্রী নবজাতক প্রসব করে কাউকে না জানিয়ে ট্রাঙ্কে লুকিয়ে রাখে। তার রুমমেট রুমে আসলে তাকে শুধু প্রসববেদনার কথা জানায়। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে জানায়। চিকিৎসাকেন্দ্রের নার্স এসে তাকে হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দিলে সাভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়।

পরে ওই কক্ষ থেকে নবজাতকের কান্নার আওয়াজ শুনতে পান শিক্ষার্থীরা। পরে ট্রাঙ্কের তালা ভেঙে নবজাতককে উদ্ধার করে হল প্রশাসন। এ সময় বাচ্চার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং শরীর নীল বর্ণ ধারণ করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে বাচ্চাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ওই (মায়ের কাছে) হাসপাতালে নেয়া হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের দায়িত্বরত চিকিৎসক আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ (সন্ধ্যায়) জানান, ‘বাচ্চাকে যখন মেডিকেলে নিয়ে আসা হয় তখন তার শরীর সম্পূর্ণ নীল রং ধারণ করেছিল। পরে তাকে অক্সিজেন দিয়ে স্বাভাবিক করে মায়ের কাছে পাঠানো হয়।’

এ বিষয়ে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুজিবর রহমান বলেন, ‘ঘটনা শুনে সঙ্গে সঙ্গে হলে যাই। ছাত্রীরা যখন বলছিলো ঘর থেকে বাচ্চার কান্নার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। তখন ৪২৬ নং রুমে গিয়ে ট্রাঙ্কের তালা ভেঙে বাচ্চাকে উদ্ধার করে মেডিকেলে নিয়ে যাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘তথ্য গোপন করে মেয়েটি অপরাধ করেছে। এতে অনেক বড় দুর্ঘটনাও ঘটতে পারতো। এই ঘটনায় তদন্তের জন্য হলের সহকারী আবাসিক শিক্ষক লাবিবা খাতুন তানিয়াকে প্রধান করে চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে আসলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: