সর্বশেষ আপডেট : ৯ মিনিট ২০ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২০ মার্চ ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সন্ত্রাসের লক্ষ্য যখন মসজিদ

ডেইলি সিলেট ডেস্ক:: শান্তিপ্রিয় দেশ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের একটি মসজিদে গতকাল ঘটে গেছে ইতিহাসের বর্বরতম হামলার ঘটনা। এ হামলায় অর্ধশতাধিক সাধারণ মুসল্লি প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু নিউজিল্যান্ড নয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই মসজিদগুলো সন্ত্রাসী হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। বিগত এক দশকে বিশ^জুড়ে বিভিন্ন মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা সম্পর্কে জানুন

আফগানিস্তান

মসজিদে বোমা হামলার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে আফগানিস্তানে। সাম্প্রতিক হামলাগুলোর মধ্যে ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর রাজধানী কাবুলের একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়। ওই হামলায় আহত হয় আরও ৪৫ জন। সেদিন রাতে এশার নামাজের সময় কাবুলের পূর্বাঞ্চলের ইমাম জামান মসজিদে ওই হামলা চালানো হয়। হামলাকারী মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে বিস্ফোরণ ঘটায়। এই ঘটনার পরপরই দেশটির গর প্রদেশে একটি সুন্নি মসজিদে বোমা হামলায় ৩৩ জন নিহত হন।

২০১৮ সালের ২৩ নভেম্বর দেশটির খোস্ত প্রদেশে মান্দোজাই এলাকার সেনাঘাঁটির ভেতরের একটি মসজিদে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ২৬ জন নিহত এবং ৫০ জন আহত হন। ওই ঘাঁটিতে শুক্রবার মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে গিয়েছিল সেনারা। সে সময়ই বিস্ফোরণ ঘটে।

২০১৮ সালের ৩ আগস্ট পাকতিয়া প্রদেশে গারদেজ সিটির একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ৩৯ জন নিহত এবং ৮০ জন আহত হয়। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় দুপুর দেড়টার দিকে ইমাম-ই জামান মসজিদে কালো কাপড়ে মুখ ঢাকা দুই জঙ্গি ঢুকে পড়ে হামলা চালায়।

২০১৮ সালের ৭ মে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় খোস্ত প্রদেশের আরও একটি মসজিদে বোমা হামলায় অন্তত ১৯ মুসল্লি নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হন। সেদিন সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজ আদায়ের জন্য মুসল্লিরা মসজিদে সমবেত হলে শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পুলিশের ধারণা অনুযায়ী, বোমাটি আগে থেকে মসজিদে পেতে রাখা হয়েছিল।

২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল দেশটির উত্তরাঞ্চলের কুন্দুজ প্রদশে একটি মসজিদে বোমা হামলা চালায় সরকারি বাহিনী। ওই হামলায় প্রায় ৭০ জন নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন তালেবান কমান্ডার ছিল বলে জানা যায়। তবে তালেবানদের পক্ষ থেকে জানানো হয় মসজিদে স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানে ওই হামলায় শতাধিক আলেম ও শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।

ফিলিপাইন

এ বছর ৩০ জানুয়ারি ফিলিপাইনের মিন্দানাওয়ের একটি মসজিদে গ্রেনেড হামলায় দুই ব্যক্তি নিহত হয় এবং ওই হামলায় আহত হয় আরও চারজন। দেশটির পুলিশ জানায়, এক সন্দেহভাজন কাছাকাছি সড়কের আলো বন্ধ করে দিয়ে মসজিদের ভেতরে গ্রেনেড ছুড়ে মেরেছিল। এ সময় মসজিদের ভেতর বেশ কয়েকজন মুসল্লি ছিলেন।

সিরিয়া

যুদ্ধ-বিধ্বস্ত সিরিয়ার মসজিদগুলো এখন আর নিরাপদ নয়। আত্মঘাতী হামলার পাশাপাশি সা¤্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোও প্রায়ই বিমান হামলা চালায় এসব মসজিদে। ২০১৭ সালের ১৭ মার্চ সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় আলেপ্পোর বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত এলাকার একটি মসজিদে বিমান হামলায় অন্তত ৪৬ জন নিহত হয়েছিল। কারা এ হামলা চালিয়েছে সে বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ হামলার দায় স্বীকার করা হয়। সেদিন সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজ আদায়ের সময় আলেপ্পোর আল-জিনা এলাকার একটি মসজিদে আকস্মিক বিমান হামলার ঘটনাটি ঘটে। এ সময় মসজিদটিতে অন্তত ৩০০ মুসল্লি ছিলেন।

২০১৩ সালের ২১ মার্চ দেশটির রাজধানী দামেস্কের কেন্দ্রস্থলে এক মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ইমাম শেখ মোহাম্মদ সাঈদ রামাদান আলবুতিসহ অন্তত ৪১ ব্যক্তি নিহত হয়েছিলেন। ওই হামলায় আহত হয়েছিলেন আরও অন্তত ৮৪ জন। মসজিদটি আট শতকে উমাইয়া শাসনামলে নির্মিত হয়েছিল।

এ ছাড়া দেশটিতে যুদ্ধের কারণে শতাধিক ঐতিহ্যবাহী মসজিদ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।

মিসর

বির আল-আবেদ শহরটি মিসরের রাজধানী কায়রো থেকে প্রায় ২১১ কিলোমিটার দূরবর্তী একটি শহর। এর অবস্থান সিনাই উপদ্বীপের উত্তরে, যা মূল মিসরীয় ভূখ- থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন। সিনাই প্রদেশের রাজধানী আল-আরিশ থেকে এর দূরত্ব ৪০ কিলোমিটার। আর-রাওদা মসজিদটি এই শহরের প্রধান মসজিদগুলোর মধ্যে একটি। ২০১৭ সালের ২৪ নভেম্বরের দিনটি ছিল শুক্রবার। দুপুরে সবাই যখন জুমার নামাজে ব্যস্ত, তখন চারটি ফোর হুইলার জিপে করে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী এসে মসজিদটিকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। তাদের একটি দল মসজিদের ভেতরে গিয়ে বোমা বিস্ফোরণ করে এবং নামাজরত মুসল্লিদের ওপর গুলি করতে শুরু করে। আতঙ্কিত এবং আহত মুসল্লিরা যখন দিগি¦দিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পালাতে শুরু করে, তখন বাইরে অপেক্ষমাণ সন্ত্রাসীরাও তাদের ওপর গুলি চালায়। সন্ত্রাসীরা মূল রাস্তার পাশে পার্ক করা কিছু গাড়িতে আগুন ধরিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয় যেন সহজে কোনো সাহায্য আসতে না পারে। তারা সেখানে অপেক্ষা করতে থাকে এবং যখন অ্যাম্বুলেন্স এসে পৌঁছায়, তখন কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সের ওপরেও তারা গুলি চালায়। বর্বরোচিত ওই হামলায় ২৩৫ জন মুসল্লি নিহত হন এবং আহত হয় আরও ১২০ জন। ওই হামলার কেউ দায় স্বীকার না করলেও জানা যায়, সেখানে সুফি মুসলিমদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল মূলত তারাই।

পাকিস্তান

মসজিদে বোমা হামলার দেশ বলা যায় পাকিস্তানকে। দেশটিতে বিভিন্ন মসজিদে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর মধ্যে ২০১০ সালে ৪ নভেম্বর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় একটি সুন্নি মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছিল। ওই হামলায় আহত হয়েছিল আরও অন্তত ৮০ জন। জুমার নামাজ চলাকালে দাররা আদম খেল এলাকার মসজিদে এই বোমা হামলা চালানো হয়। জানা যায়, যে আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল, তার বয়স ছিল ১৪ থেকে ১৫ বছর। বিস্ফোরণের ধাক্কায় মসজিদটির ছাদ ভেঙে পড়েছিল।

২০১৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের পেশোয়ারের একটি মসজিদে বোমা হামলায় নিহত হয় ২২ জন এবং আহত হয় অর্ধশতাধিক মানুষ। সেদিন জুমার নামাজের সময় খাইবার পাখতুনখাওয়ার রাজধানী পেশোয়ারের ইমামবারগার কাছে হায়াতাবাদে ওই হামলা চালানো হয়। নামাজের সময় হঠাৎ করে বন্দুকধারীরা মসজিদে ঢুকে নির্বিচারে গুলি করেছিল। পরে তারা তিনটি শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণও ঘটায়। মসজিদটিতে এ সময় আট শতাধিক মুসল্লি অবস্থান করছিলেন।

২০১৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় সিন্ধ প্রদেশের সেওয়ান অঞ্চলের লাল শাহবাজ মসজিদে ধর্মীয় একটি অনুষ্ঠান চলাকালে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। এই হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণ হারায় অন্তত ৭৫ জন। ওই আক্রমণে আহত হয় আরও অন্তত দেড়শো মানুষ। ওই হামলার দায় স্বীকার করে আইএস। হামলায় নারীরাও হতাহতের শিকার হয়েছিলেন। কারণ জঙ্গিরা নারীদের জন্য মসজিদের নির্ধারিত জায়গায়ও হামলা চালিয়েছিলেন।

২০১৭ সালের ৩১ মার্চ পাক-আফগান সীমান্তসংলগ্ন পাকিস্তানের আদিবাসী অধ্যুষিত প্রত্যন্ত পারাচিনা শহরের একটি শিয়া মসজিদের প্রবেশপথে বোমা হামলা চালালে অন্তত ১০ জন নিহত হয়। এতে আহত হন আরও অন্তত ৩০ জন। দেশটির তালেবানের একটি অংশ ওই হামলা চালিয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। মসজিদে মহিলাদের প্রবেশপথের পাশে ওই বোমা হামলা চালানো হয়।

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছিলেন। আধা-স্বায়ত্তশাসিত উপজাতীয় অঞ্চল মোহমান্দের পায়ি খান গ্রামে ওই হামলার ঘটনা ঘটেছিল। আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী মসজিদে মুসল্লিদের ভিড়ের মধ্যেই ছিল। সে ‘আল্লাহু আকবর’ বলে চিৎকার করার পরপরই বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। এ হামলাটিও তালেবানরা ঘটিয়েছিল।

২০১৩ সালের ২১ জুন পেশোয়ারের শিয়া অধ্যুষিত চামকিনি এলাকার একটি মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হন। জুমার নামাজের সময় ওই আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়। তিনজন হামলাকারী মসজিদের মাদ্রাসার ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও দুজন ভেতরে ঢুকে পড়েন। নিরাপত্তাকর্মীরা বাধ্য হয়ে গুলি চালালে তাদের মধ্যে একজন ইমামের কাছে চলে যান। এর কিছু পরই বিকট শব্দে বোমা বিস্ফোরিত হয়।

কানাডা

২০১৭ সালের ২৯ জানুয়ারি কানাডার কুইবেকে একটি মসজিদে হামলা চালিয়ে ৬ মুসলিমকে হত্যা করা হয়। এই হামলার মূল হোতা ছিলেন আলেকজান্দ্রে বিসোনেত্তে নামে ফরাসি বংশোদ্ভূত এক কানাডীয় শিক্ষার্থী। সেদিন স্থানীয় সময় বিকেলে তিন বন্দুকধারী কুইবেকে সিটি ইসলামিক কালচারাল সেন্টারে গিয়ে অতর্কিত গুলি চালানো শুরু করে। এ ঘটনায় আহত হন আরও ১৯ জন। বন্দুকধারীরা যখন মসজিদটিতে হামলা চালায় তখন সেখানে ৪০ জনের মতো মুসল্লি ছিলেন।

বিসোনেত্তে লাভাল ইউনিভার্সিটিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। কুইবেকের ওই মসজিদ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসটির দূরত্ব ছিল তিন কিলোমিটার।

এক বিবৃতিতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ওই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছিলেন, ‘মুসলমানরা কানাডার জাতি গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত।’

যুক্তরাষ্ট্র

২০১৭ সালের ২৭ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দেশটির টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের একটি মসজিদ পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। সিএনএনের হিসাবে, ২০১৭ সালের প্রথম তিন মাসেই আমেরিকার ১৯ অঙ্গরাজ্যের মোট ৩৩টি মসজিদে হামলা চালায় শে^তাঙ্গ উগ্রবাদীরা। এসব হামলার ধরন ছিল ভিন্ন ভিন্ন। দেশটিতে এর আগের বছর ২০১৬ সালে ১৭টি মুসলিমবিরোধী হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

২০১৭ সালের ৬ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ব্লুমিংটনে দার আল ফারুক ইসলামিক সেন্টার ও মসজিদে বোমা হামলা চালানো হয়। তবে ওই হামলায় অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছিলেন মুসল্লিরা। হামলায় ইমামের কক্ষটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ভ্যান অথবা ট্রাকে করে ভোর ৫টার দিকে কেউ ইমামের কক্ষের জানালায় বোমাটি ছুড়ে মেরে পালিয়ে যায়। পরে ‘হোয়াইট র‌্যাবিটস’ নামে একটি শে^তাঙ্গ উগ্রবাদী সংগঠন ওই হামলার দায় স্বীকার করে।

এ ছাড়া ২০১৭ সালেরই নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া সিটি সংলগ্ন আপার ডারবিতে বাংলাদেশিদের পরিচালিত দুটি মসজিদ ও ইসলামিক স্কুলে হামলা চালানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল। মসজিদের দেয়ালে টাঙানো এক পোস্টারে দুর্বৃত্তরা লিখেছিল- ‘শয়তানের বাচ্চারা তৈরি হও, আমরা আসছি তোমাদের হত্যার জন্য’।

নাইজেরিয়া

২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর নাইজেরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় আদামাওয়া রাজ্যে একটি মসজিদের ভেতরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে ৫০ জন লোক নিহত হয়েছিল। মুবি শহরের ওই মসজিদে সকালের নামাজ পড়ার জন্য যখন মুসল্লিরা জমায়েত হলে আত্মঘাতী হামলাকারী বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। ওই হামলায় কেউ দায় স্বীকার না করলেও দেশটির বোকো হারাম নামের একটি ইসলামি জঙ্গি সংগঠনের দিকে সন্দেহের তীর ছিল।

এ ছাড়া গত বছরের ৩০ এপ্রিল নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় একটি মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে ২৪ জন নিহত হয়। একজন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী দুপুর ১টার দিকে মসজিদে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। আর মুসল্লিরা বাঁচার জন্য সেখান থেকে দৌড়ে যাওয়ার সময় মসজিদের ২০০ মিটার দূরে দ্বিতীয় বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। কেউই তাৎক্ষণিকভাবে হামলার দায় স্বীকার না করলেও কর্তৃপক্ষের মতে, এই হামলাটি বোকো হারামই চালিয়েছে।

ব্রিটেন

২০১৭ সালের জুন মাসে লন্ডনে মসজিদের কাছে মানুষের ওপর ভ্যান চালিয়ে দিয়েছিলেন ড্যারেন অসবোর্ন নামে এক ব্যক্তি। পরে আদালতে তিনি বলেন, যত বেশি সংখ্যায় সম্ভব মুসলমানদের হত্যা করতে চেয়েছিলেন তিনি। জানা যায়, উত্তর লন্ডনের ফিন্সবারি পার্ক এলাকার একটি মসজিদের সামনেই নামাজের জন্য জড়ো হওয়া কয়েকজন মুসল্লির ওপর একটি ভ্যান উঠিয়ে দেন অসবোর্ন। এতে মাকরাম আলী নামের এক ব্যক্তি নিহত হন এবং মারাত্মকভাবে আহত হন আরও ৯ জন। ঘটনাটি ঘটে ২০১৭ সালের জুন মাসে।

গত বছরের ১৭ আগস্ট যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামের দুটি মসজিদে এশার নামাজের সময় মুসল্লিদের ওপর হিংসাত্মক হামলা চালায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় মসজিদটি।

সৌদি আরব

২০১৫ সালে আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের একটি শিয়া মসজিদে জুমার নামাজ চলাকালে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে অন্তত ২০ জন নিহত ও ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছিল। কাতিফ জেলার আল কাদেহ গ্রামের ইমাম আলী মসজিদে এ হামলার ঘটনা ঘটেছিল। পরে ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)। এ হামলার ঘটনায় হুতি বিদ্রোহীদের দিকেও সন্দেহের তীর ছিল। হামলার সময় মসজিদের ভেতরে অন্তত দেড়শ মুসল্লি নামাজ পড়ছিলেন। নামাজের প্রথম রাকাত চলার মধ্যেই বোমার বিস্ফোরণটি ঘটে।

এ ছাড়া ২০১৬ সালে মসজিদে নববি শরিফের পাশেও বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। ইফতারের সময় মসজিদের পার্কিং এলাকার একটি নিরাপত্তা চৌকিতে ওই হামলায় একজন আত্মঘাতীসহ মোট তিনজন নিহত হয়। নিরাপত্তাকর্মীরা যখন ইফতার করছিলেন তখন হামলাকারী সেখানে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।

২০১৬ সালের ৩০ জানুয়ারি জুমার নামাজের সময় পূর্বাঞ্চলীয় মাহাসিন শহরের ইমাম রিজা শিয়া মসজিদে এক আত্মঘাতী হামলায় দুই মুসল্লি নিহত হয়। সেদিন দুজন লোক শরীরের সঙ্গে বাঁধা বোমা নিয়ে মসজিদটিতে ঢোকার চেষ্টা করেন। নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের বাধা দিলে একজন তার শরীরের সঙ্গে বেঁধে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটান। অন্যজন গুলি চালাতে থাকেন। এর আগে ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে দেশটির নাজারান শহরের একটি মসজিদে সন্ত্রাসীরা বোমা হামলা চালালে অন্তত চারজন নিহত ও ৩০ জন আহত হন।

ইয়েমেন

ইয়েমেনের মসজিদগুলোতে হামলা যেন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। ২০১৫ সালের ২০ মার্চ ইয়েমেনের রাজধানী সানার দুটি মসজিদে হামলা চালানো হলে তাৎক্ষণিকভাবে অন্তত ১২৬ জন নিহত হয়। পরে ওই হামলার দায় স্বীকার করে আইএস জানায়, হামলায় তাদের পাঁচজন সদস্য অংশ নিয়েছিল। ওই হামলায় আহত হয়েছিল আরও অন্তত ২৫০ জন। জুমার নামাজ চলাকালে চারজন আত্মঘাতী হামলাকারী দুটি মসজিদে হামলা চালায়। মসজিদ দুটিতে প্রধানত ইয়েমেনের শিয়া অধ্যুষিত সরকারের হাউতি যোদ্ধারা নামাজ পড়তে যান।

এ ছাড়া ২০১৫ সালেরই ১৭ জুন দেশটির রাজধানী সানায় মসজিদে সিরিজ বোমা হামলা করা হয়। ওই হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছিলেন। ওই হামলারও দায় স্বীকার করেছিল আইএস। রমজানের প্রথম রোজা শুরুর আগের সন্ধ্যায় ওই হামলার ঘটনাটি ঘটেছিল। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল শিয়া সম্প্রদায়ের মুসল্লিরা। হামলার সময় মুসল্লিরা মাগরিবের নামাজ পড়ছিলেন।

২০১৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পবিত্র ঈদুল আজহার দিনও রাজধানী সানার একটি মসজিদে ঈদের জামাতে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ২৯ জন নিহত হয়েছিলেন। সানার আল-বালিলি মসজিদে এ বোমা হামলা চালানো হয়। ঈদ জামাত চলাকালে প্রথমে মসজিদের ভেতরে একটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। এরপর আতঙ্কিত মুসল্লিরা হুড়োহুড়ি করে মসজিদ থেকে বের হতে গেলে মসজিদের প্রবেশদ্বারে আত্মঘাতী এক বোমা হামলাকারী নিজের শরীরে বেঁধে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। আগের হামলাগুলোর মতো এই হামলাটিও ছিল আইএসএস মদদপুষ্ট।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: