সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রাস্তায় মুখ থুবড়ে লাশ হয়ে পড়ে থাকা হতভাগী সিলেটের পারভীন


ডেইলি সিলেট ডেস্ক:: স্বামীকে মসজিদের ভেতরে রেখে পাশে নারীদের জন্য নির্মিত আলাদা মসজিদে যান পারভীন। নামাজ শুরুর কিছুক্ষণ পর মুহুর্মুহু গুলির শব্দ শুনে দৌড়ে বের হয়ে আসেন স্বামীকে বাঁচাতে। আর সেখানেই তিনি সন্ত্রাসীর ছোড়া গুলিতে প্রাণ হারান। মুখ থুবড়ে পড়ে যান দুই মসজিদের সামনের খালি জায়গায়।

শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের দুই মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার প্রতীকি হয়ে ওঠা ছবিটি বাংলাদেশের হোসনে আরা পারভীনের (৪২)।

তার স্বামী ফরিদ উদ্দিন বেশ কিছুদিন ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত। শুক্রবার জুমআর নামাজ আদায় করতে স্বামীকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে নিয়ে যান তিনি। তবে ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন পারভীনের স্বামী ফরিদ উদ্দিন।

নিউজিল্যান্ড প্রবাসী ফরিদ উদ্দিন ও হোসনে আরা পারভীন দম্পতির বাড়ি সিলেটে। ফরিদ উদ্দিনের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার চকগ্রামে। আর পারভীনের বাবার বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালহাটা গ্রামে। ওই গ্রামের মৃত নুর উদ্দিনের মেয়ে তিনি।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তিন বাংলাদেশিসহ কমপক্ষে ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৪৮ জন।

জানা গেছে, জুমার নামাজের সময় দুজন বন্দুকধারী ক্রাইস্টচার্চের ডিনস অ্যাভিনিউর আল নুর মসজিদ ও পার্শ্ববর্তী লিনউডের মসজিদে হামলা চালায়। স্ট্রিকল্যান্ড স্ট্রিটে একটি গাড়িবোমা হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

নিউজিল্যান্ড সরকারে একে সন্ত্রাসী হামলা বলে ঘোষণা দিয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।

প্রায় ১৫ বছর পূর্বে হওয়া সড়ক দূর্ঘটনার পর প্যারালাইসিস হওয়া স্বামীকে খুঁজে গিয়ে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীর গুলিতে খুন হয়েছেন সিলেটের বিশ্বনাথের পুত্রবধু হুসনে আরা পারভীন (৪২)। পারভীন উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর মিরেরচর গ্রামের হাজী মকরম আলীর পুত্র ফরিদ উদ্দিন আহমদের (৪৫) স্ত্রী এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের জাঙ্গালহাটা গ্রামের মৃত আবদুন নূরের কন্যা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৪৯ জনের মধ্যে ৩ জন হচ্ছেন বাংলাদেশী। আর ওই ৩ জনের একজন হচ্ছেন পারভীন। এঘটনায় পারভীনের স্বামী ও পিতার বাড়ীতে চলছে শোকের মাতম।

খুন হওয়া হুসনে আরা পারভীনের চাচাতো ভাই মহানগর কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ আর শাকিল জানান, স্বামী, একমাত্র মেয়ে ও দুই ভাই-বোনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে বসবাস করে আসছেন পারভীন। তার স্বামী ফরিদ উদ্দিন আহমদ প্যারালাইসিস রোগী হওয়ায় হুইল চেয়ারে চলাচল করতেন।

 

পারভীনের পরিবার ও একাধিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার জুম্মার নামাজ আদায় করতে স্বামীকে নিয়ে ক্রাইস্টচার্চে ডিন্স এভিনিউর হেগলি ওভাল মাঠের নিকটবর্তী আল-নূর মসজিদে যান হুসনে আরা পারভীন। সেখানে নারী-পুরুষের নামাজ আদায় করার পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে। তাই পারভীন তার স্বামীকে পুরুষ কক্ষে দিয়ে নিজের নামাজ আদায় করার জন্য চলে যান নারীদের পৃথক কক্ষে। কিছু সময় পর গুলাগুলির শব্দ শুনে পুরুষ মসজিদে স্বামীকে খোঁজতে যান পারভীন। ওই সময় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য গুলি করলে তিনি ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করেন। আচমকা ঘাতকের বুলেটের গর্জনে একে একে ঝরে ৪৯টি তাজা প্রাণ। আর গুলির শব্দে চারদিকে মুসল্লীসহ মানুষজনের ছুটোছুটি শুরু হয়। স্বামীকে খুঁজে গিয়ে সন্ত্রাসীর গুলিতে হুসতে আরা পারভীন মারা গেলেও বোঁচে গেছেন তার স্বামী ফরিদ উদ্দিন আহমদ। মসজিদে থাকা অন্যান্য মুসল্লীরা তাকে (ফরিদ) মসজিদ থেকে বের করে নেওয়ায় তিনি বেঁচে গেছেন।

নিহতের ভাসুর মঈন উদ্দিন জানান, শুক্রবার বিকেলে টেলিফোনে ভাইয়ের সাথে কথা বলে জানতে পারেন হুসনে আরা পারভীর সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। ফরিদ প্যারালাইসিস রোগী হওয়ায় জুম্মার নামাজ আদায় করার জন্য হুইল চেয়ারে করে তাকে মসজিদে নিয়ে যান হুসনে আরা পারভীন। দীর্ঘ প্রায় ২৮ বছর ধরে ভাই (ফরিদ উদ্দিন) নিউজিল্যান্ডে আছেন। তিনি প্রথমে ভিজিট ভিসায় নিউজিল্যান্ডে যান এবং পরে সে দেশের নাগরিকত্ব লাভ করেন। ফরিদ উদ্দিন সেখানে মুসলিম কমিউনিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। প্রতি শুক্রবার ফরিদ আল-নূর মসজিদের ইমামের আরবী খুতবা পাঠকে (ইংরেজীতে) অনুবাদ করে মুসল্লীদের শুনান। ১৯৯৪ সালে ফরিদ উদ্দিন আহমদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন হুসনে আরা পারভীন। বিয়ের কয়েক বছর পর তারা চলে যান নিউজিল্যান্ডে। ২০০৯ সালে সর্বশেষ তারা বাংলাদেশে এসে ছিলেন।



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে. এ. রাহিম. সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: