সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ২৬ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বড়লেখা ঘুরে গেলেন ভাসমান ট্রেনের আবিস্কারক বিজ্ঞানী ড. আতাউল করিম

আব্দুর রব, বড়লেখা:: শেকড়ের টানে মৌলভীবাজারের বড়লেখা ঘুরে গেলেন ভাসমান ট্রেন আবিস্কারক বিশ্ববরেণ্য পদার্থ বিজ্ঞানী ড. আতাউল করিম। নিজ দেশে এসে বুধবার সকালে তিনি জন্মস্থান বড়লেখা পৌরশহরের বারইগ্রামে ছুটে আসেন। বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। দুপুরে বড়লেখা পৌরশহরের আর.কে লাইসিয়াম স্কুল পরিদর্শন এবং শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বিকেলে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে বড়লেখা ত্যাগ করেন।

ড. আতাউল করিমের চাচাতো ভাই বড়লেখা আর.কে লাইসিয়াম স্কুলের শিক্ষক তাজুল ইসলাম বৃহস্পতিবার বিকেলে জানান, আড়াই বছর পর তিনি দেশে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার বাড়িতে আসার কথা ছিল। কিন্তু নাড়ির টানে বুধবারই চলে আসেন। বাড়িতে আসার পর আর.কে লাইসিয়াম স্কুলের শিক্ষকদের অনুরোধে স্কুল পরিদর্শন এবং শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বুধবার বিকেলে বাড়ি থেকে আবার ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। সময় সল্পতার কারণে সবার সঙ্গে সাক্ষাত করতে পারেননি।

প্রসঙ্গত, ড. আতাউল করিম ১৯৫৩ সালের ৪ মে বড়লেখার মিশন হাউসে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ডা. মোহাম্মদ আবদুস শুকুর পেশায় চিকিৎসক ছিলেন। বড়লেখা সদরের ষাটমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয়। এরপর বড়লেখার ঐতিহ্যবাহী পিসি হাইস্কুলে পড়ালেখা করেন। পরবর্তী সময়ে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ থেকে ১৯৬৯ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ্রগ্রহণ করে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে প্রথম শ্রেণীতে ৪র্থ স্থান অধিকার করেন। ১৯৭২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় সিলেট এম.সি কলেজ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৬ সালে পদার্থ বিজ্ঞানে বিএসসি (অনার্স) ডিগ্রি লাভের পর উচ্চ শিক্ষা লাভের উদ্দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গমন করেন। পদার্থ বিজ্ঞানে মাস্টার অব সায়েন্স, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স অব সায়েন্স এবং পিএইচডি করেন ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা থেকে যথাক্রমে ১৯৭৮, ১৯৭৯ এবং ১৯৮১ সালে।

পড়ালেখা শেষ করে ১৯৮২ সালে তিনি আরকানস বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারি অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৩ সালে উইচিটা স্টেট ইউনিভার্সিটির তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগে সহকারি অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সেখানে কর্মরত ছিলেন। ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি ইউনিভার্সিটি অফ ডেইটনে সহকারি অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৮ সালে তিনি সহযোগী অধ্যাপক এবং ১৯৯৩ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ডেইটন বিশ্ববিদ্যালয়েই তিনি ইলেক্ট্রো-অপটিক্স প্রোগ্রামের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি সেখানে তড়িৎ ও ক¤িপউটার প্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে ওহিও’র রাইট প্যাটার্সন বিমান ঘাঁটিতে এভিওনিক্স পরিচালক হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে পর্যন্ত সেখানে কর্মরত ছিলেন। ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি টেনেসী বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ক¤িপউটার প্রকৌশল বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন এবং ২০০০ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। ২০০০ সালে তিনি সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কে তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলের ডীন হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। ২০০৪ সালে তিনি নরফোকে অবস্থিত ওল্ড ডোমিনিয়ন ইউনিভার্সিটির তড়িৎ ও ক¤িপউটার প্রকৌশল বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ড. আতাউল করিম ১৯৮৭ সাল থেকে বিভিন্ন রকম গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ম্যাগলেভ ট্রেনের প্যাটার্ন আবিষ্কার তাকে সারা বিশ্বে প্রসিদ্ধ করে তোলে। ড. আতাউল করিম ভার্জিনিয়ার নরফোকের ওল্ড ডোমিনিয়ন ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা কালে ম্যাগলেভ ট্রেন নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। ওল্ড ডোমিনিয়ন ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ৭ বছর ধরে এ ধরনের একটি ট্রেন তৈরির চেষ্টা করছিলেন, তবে সাফল্যের দেখা পাননি। ড. আতাউল করিম ২০০৪ সালে এই গবেষণা প্রকল্পের সফলতা অর্জন করেন। এরপর মাত্র দেড় বছরে ট্রেনটির প্রযুক্তি নির্মাণে সক্ষম হন এবং গবেষণায় পরীক্ষা মূলকভাবে সফল হন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস ডার্টমাউথের প্রোভোস্ট এবং এক্সিকিউটিভ ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে কর্মরত। পারিবারিক জীবনে তিনি এক পুত্র ও দুই কন্যার জনক।



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে. এ. রাহিম. সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: