সর্বশেষ আপডেট : ৮ ঘন্টা আগে
বুধবার, ২০ মার্চ ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মৌলভীবাজারের ৬ উপজেলায় বিদ্রোহীদের চ্যালেঞ্জের মুখে নৌকার কান্ডারিরা

আব্দুর রব, বড়লেখা:: মৌলভীবাজার জেলার ৬ উপজেলায় বিদ্রোহীদের কঠিন চ্যালেঞ্জে নৌকার কান্ডারিরা। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের জন্য হুমকির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এই ৬ উপজেলায় ২য় দফায় আগামী ১৮ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে শুধুমাত্র সদর উপজেলা ব্যতিত ৬টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকার প্রার্থী কামাল আহমদের সাথে কোন প্রতিদ্বন্দ্বি না থাকায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।

জেলার সীমান্তবর্তী বড়লেখা উপজেলায় নৌকার কান্ডারি রফিকুল ইসলাম সুন্দরের জয়ে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি মু. সিরাজ উদ্দিন এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন এমপির ভাগনা ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক দুইবারের ইউপি চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ। তবে সোয়েব আহমদ মনোনয়ন দাখিলের পূর্বে এক ভিডিও বার্তায় মামা পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন এমপির সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করার ঘোষণা দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ততই ভোটাররা নৌকার কান্ডারি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দরের বিগত দিনের ভাল-মন্দ কর্মকান্ডের পর্যালোচনা করছেন। হাতে গুনা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ব্যতিত বেশিরভাগ নেতাকর্মী প্রকাশ্যে নৌকার বিপক্ষে প্রচারণায় নেমে পড়ায় সাধারণ ভোটাররা মন্ত্রীর এলাকায় নৌকার ভরাডুবির আশঙ্কা করছেন।

জুড়ী উপজেলায় নৌকার কান্ডারি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান গুলশান আরা চৌধুরী মিলির প্রথম ও প্রধান চ্যালেঞ্জ তারই দেবর হল্যান্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোঈদ ফারুকের প্রার্থী হওয়াটা। ভাবির পথের প্রধান কাটা এখন দেবর আব্দুল মোঈদ ফারুক। বিষয়টি নিয়ে গোটা উপজেলা জুড়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। ভোটাররাও এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে। তবে অনেকেই আব্দুল মোঈদের মধ্যে জুড়ীর প্রতিষ্ঠাতা উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম মুক্তিযোদ্ধা এমএ মোহিত আসুকের প্রতিচ্ছবি দেখছেন। স্বতন্ত্র উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী কিশোর রায় চৌধুরী মনি দেবর-ভাবিকে মাঠে রেখে গোল দিতে পারেন বলে ভোটাররা মন্তব্য করছেন।

কুলাউড়া উপজেলায়ও নৌকার কান্ডারি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আসম কামরুল ইসলামকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছেন দলের অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শফি আহমদ সলমান। তবে স্বতন্ত্র অপর প্রার্থী ও পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নবাব আলী নকি খানও এই দুই প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত। কুলাউড়া উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলে তিনি একক প্রার্থী হওয়ায় আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীকে ধরাশায়ী করতে পারে আঞ্চলিকতা। ভোটাররাও মুখ খুলতে চাইছেন না নির্বাচন নিয়ে। ফলে কুলাউড়া উপজেলায় নির্বাচনী জরিপ সবার জন্য কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে ভোট ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে।

কমলগঞ্জ উপজেলায় নৌকার কান্ডারি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমানের জন্য চ্যালেঞ্জ হলেন সাবেক চীফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ এমপির ছোট ভাই ইমতিয়াজ আহমদ বুলবুল। ভাইয়ের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তিনি চাইছেন নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে। ভোটাররা অবশ্য বিষয়টি দেখছেন বাঁকা দৃষ্টিতে। তবে যদি নৌকার ভরাডুবি ঘটে তাহলে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে সাবেক চীফ হুইপ আব্দুস শহীদকে। কেননা তার ভাইকে নৌকার বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়া ঠেকাতে পারেননি।

রাজনগর উপজেলার নৌকার কান্ডারি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আছকির খানের জন্য হুমকি হিসেবে আছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বিদ্রোহী প্রার্থী মিছবাহুদ্দোজা ভেলাই। আছকির খান দলের সাধারণ সম্পাদক। ফলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের লড়াই বেশ জমবে। ভোটাররাও বিষয়টি বেশ উপভোগ করছেন। এই দু’জনের সাথে প্রবাসী প্রার্থী ও ছাত্রনেতা শাহজাহান খানের নামও শুনা যাচ্ছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার নৌকার কান্ডারি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান রণধীর কুমার দেব’র জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি, শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিদ্রোহী প্রার্থী আফজাল হক। ইতোমধ্যে আফজাল হক দলের মধ্যে ও দলের বাইরে নিজের একটা সুসংহত অবস্থান তৈরি করেছেন বলে জানান ভোটাররা।

গোটা জেলায় যদি নৌকার ভরাডুবি ঘটে তাহলে আওয়ামী লীগের একটি অংশ ও বিএনপি এটাকে সরকারের প্রতি অনাস্থা বলে প্রচারণা চালাবে। তবে দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করতে অনেকটা উদাসীন শাসক দলের দলের দায়িত্বশীলরা।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: