সর্বশেষ আপডেট : ১৩ মিনিট ৪ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটে বিদ্রোহী নিয়ে বেকায়দায় নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থীরা

নিউজ ডেস্ক:: সিলেটে বিদ্রোহী নিয়ে বেকায়দায় নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। প্রচারণা মাঝামাঝি সময়ে এসে তারা পড়েছেন তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। দিন যতই যাচ্ছে বিদ্রোহীদের দখলে চলে যাচ্ছে ভোটের মাঠ। এতে করে বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে নৌকার মাঝিদের। বিদ্রোহীরা আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রভাবশালী হওয়ার কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নীরবতা পালন করা হচ্ছে। সিলেটের উপজেলা নির্বাচনে এবার উত্তাপ-উত্তেজনা কম। বিএনপি নেই মাঠে। অনেক উপজেলায় নিশ্চিত জয়কে বিসর্জন দিয়ে ভোটের মাঠ ত্যাগ করে চলে গেছেন প্রার্থীরা।

এই অবস্থায় উত্তাপহীন সিলেটের উপজেলা নির্বাচনে এবার জমিয়ে তুলেছেন বিদ্রোহীরা। বিদ্রোহীদের প্রচারণায় এরই মধ্যে কোনো কোনো উপজেলায় নৌকার প্রার্থীরা কোণঠাসা হয়ে গেছেন। সিলেটের সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় এবারো নৌকার প্রার্থী দেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমকে। কিন্তু ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম আহমদ। এখানে আরেক বিদ্রোহী হয়েছেন থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আপ্তাব আলী কালা মিয়া। তিনিও ভোটের মাঠে দলীয় প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে অবস্থান গড়তে পারছেন না। যতই দিন যাচ্ছে এ উপজেলায় বিদ্রোহী শামীমের অবস্থান পরিষ্কার হচ্ছে। শামীমের পক্ষে এ উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও অবস্থান নিয়েছেন।

কিছুসংখ্যক নেতাকর্মী আপ্তাব আলী কালা মিয়ার পক্ষে রয়েছেন। প্রচারণার মাঝামাঝি সময়ে এসে এ উপজেলার নৌকার প্রার্থী নিজ দলের নেতাকর্মীদেরও প্রচারণায় পাচ্ছেন না। উল্টো তারা কাজ করছে বিদ্রোহীদের পক্ষে। বিদ্রোহী প্রার্থী হাজী শামীম আহমদ গতকাল রনিখাই ইউনিয়নে প্রচারণার সময় মানবজমিনকে জানিয়েছেন- তার পিতা দীর্ঘ ৫ বছর এলাকার মানুষের সেবা করেছেন। দল মতের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি সেবা করে গেছেন। সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য তার এবং তার পরিবারের রাজনীতি।

এ কারণে তিনি যেদিকেই যাচ্ছেন সাধারণ ভোটারের সমর্থন পাচ্ছেন। কোম্পানীগঞ্জের পার্শ্ববর্তী উপজেলা গোয়াইনঘাট। এখানে প্রচারণায় এগিয়ে গেছেন বিদ্রোহীরা। এ উপজেলায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া হেলাল। তাকে চ্যালেঞ্জ করে প্রার্থী হয়েছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমদ ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতা গোলাপ মিয়া।

গোয়াইনঘাটে এবার নতুন প্রার্থী হলেও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতা গোলাপ মিয়ার অবস্থান ভালো বলে জানিয়েছেন ভোটাররা। উন্নয়নের কারণে বিকল্প প্রার্থী গোলাপ কিংবা ফারুককে বেছে নেবে এলাকার মানুষ। এরই মধ্যে গোলাপের পক্ষেও উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশ অবস্থান নিয়েছেন। পাশাপাশি প্রবাসীরাও এসে তার পক্ষে ভোট প্রার্থনা চালাচ্ছেন। গোলাপ মিয়া জানিয়েছেন, তার চাওয়া পাওয়ার কিছুই নেই।

তিনি মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের রাজনীতি করতে বৃটেন ছেড়ে সিলেটের নিজ এলাকায় এসেছেন। মানুষ তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে বলে জানান তিনি। পর্যটন নগরী বলে খ্যাত জৈন্তাপুর উপজেলা। এ উপজেলায় নৌকার প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী। তাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামাল আহমদ। এ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে লিয়াকতের আধিপত্য থাকলেও কামাল আহমদের এলাকায় ভোট বেশি।

এলাকাভিত্তিক ভোট এক চেটিয়া জমা হলে কামাল আহমদ এগিয়ে যাবেন- এমন তথ্য জানান ভোটাররা। তারা বলেন- লিয়াকত ও কামাল দু’জনের পক্ষে যাবে দলীয় ভোট। কারণ দু’জনই আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা। অঞ্চল ভিত্তিক ভোট যেদিকে বেশি পড়বে তিনি জয়ী হবেন। তবে লিয়াকতের চেয়ে প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন কামাল আহমদ। তার পক্ষে এলাকার মানুষও ভোট প্রার্থনায় ব্যস্ত রয়েছেন। কামাল আহমদ জানিয়েছেন, জৈন্তাপুরের উন্নয়নের খাতিরে এবারের নির্বাচন মানুষ তার পক্ষেই থাকবে। দল মতের ঊর্ধ্বে থেকে সব মানুষ তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে লিয়াকতের পক্ষেও আওয়ামী লীগ ছাড়াও বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।

এবারের উপজেলা নির্বাচনে সিলেটের ১২টি উপজেলার মধ্যে এ উপজেলায় ভোটের উত্তাপ একটু বেশি। এ কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জৈন্তাপুরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কানাইঘাটে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল মুমিন চৌধুরী। তিনি সিনিয়র নেতা হলেও এ উপজেলার তরুণরা ইতিমধ্যে বিদ্রোহী প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক মোস্তাক আহমদ পলাশের পক্ষে একাট্টা রয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই মোটরসাইকেল নিয়ে উপজেলাজুড়ে শোডাউন দিচ্ছে মোস্তাকের সমর্থকরা। উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও পরিষদের সদস্যরাও মোস্তাকের পক্ষে একাট্টা রয়েছেন।

বিগত ১০ বছর ধরে মোস্তাক আহমদ কানাইঘাটে আওয়ামী লীগ পরিবারের অভিভাবক হিসেবে কাজ করছেন। এ কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশ তার পক্ষে আগে থেকেই ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছে।পলাশ জানিয়েছেন- কানাইঘাটের উন্নয়ন ঘটাতে হলে একজন পরিশ্রমী ও যোগ্য নেতা প্রয়োজন। এ কারনে সাধারন ভোটারের মতামত নিয়েই তিনি এবার প্রার্থী হয়েছে।

কানাইঘাটের মানুষ তাকে হতাশ করবেন না বলে জানান তিনি। সিলেট সদরেও নৌকার প্রার্থী আশফাক আহমদের বিদ্রোহী হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট নুরে আলম সিরাজী। তিনিও পাল্লা দিতে ইতিমধ্যে প্রচারণায় গতি বাড়িয়েছেন। ফেঞ্চুগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক শাহ মুজিবুর রহমান জকন। যুবসমাজের মধ্যে জকনের গ্রহণযোগ্যতা থাকলেও বিদ্রোহী নুরুল ইসলাম মাঠ দখলে নিতে চেষ্টা অব্যাহত রেখেন।

কানাইঘাটে নৌকার প্রার্থী আতাউর রহমান খানকে এবার ঠক্কর দিচ্ছে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আবুল কাশেম পল্লব ও আওয়ামী লীগ নেতা জাকির আহমদ। এবার এই উপজেলায় বিদ্রোহীদের পক্ষে ভোটারের অবস্থান পরিষ্কার হচ্ছে। পল্লব কিংবা জাকির দুজনের মধ্য থেকে যেকোনো একজন বিজয় ছিনিয়ে নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।

সূত্র – মানবজমিন।



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে. এ. রাহিম. সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: