সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
বুধবার, ২০ মার্চ ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

হারিয়ে যাচ্ছে মৌলভীবাজারের পাট শিল্প, বিকাশে নেই কোনো উদ্যোগ

মুবিন খান, মৌলভীবাজার:: পাট শিল্পের সাথে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি জড়িত। দেশীয় সংস্কৃতি ও কৃষ্টির সাথে মানানসই পাট ও পাটজাত পণ্য দেশে যেমন গুরুত্বের দাবিদার, তেমনি বিশ্ব বাজারেও এটি এখন অনন্য পরিবেশ-বান্ধব পণ্য হিসেবে সমাদৃত। ২০০০ সালের পূর্ব পর্যন্ত মৌলভীবাজার জেলায়ও পাট চাষের অনেক কদর ছিল। পাট চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছিলেন অনেক কৃষক। কিন্তু এরপর থেকে পাট শিল্প বিকাশ ও বাণিজ্যিক ভাবে চাষাবাদের কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প এখন মৌলভীবাজার থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এদিকে স্থানীয় প্রশাসন দিবসটি পালনের মধ্যেই কর্মসূচি সীমাবদ্ধ রেখেছে।

জানা যায়, ১৯১৫-২০ সালে মৌলভীবাজারের মনুমুখ নামক স্থানে ভারতের মারোয়ারীদের উদ্যোগে পাট শিল্প গড়ে উঠে। সেখানে ৮-১০টি পাট প্রক্রিয়াজাত কারখানাও গড়ে উঠে ছিল। তখন পাট শিল্পের কাচামাল হিসেবে কাঁচা পাটের অনেক চাহিদা ছিল। ওই কাচা পাটের যোগান দিতে গিয়ে মৌলভীবাজার সদর, কুলাউড়া, রাজনগর, বালাগঞ্জ, নবীগঞ্জ, জুড়ী, বড়লেখা, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলসহ বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন জায়গায় কৃষকরা পাটের চাষাবাদ করতেন। উৎপাদিত পাট কৃষকরা কুশিয়ারা তীরবর্তী মনুমুখ ও সরকার বাজার এনে বিক্রি করতেন। বৃহত্তর সিলেট বিভাগরে মধ্যে মৌলভীবাজারের সরকার বাজার পাটের বিপনন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হতো। ওই পাট কারখানা থেকে উৎপাধিত পণ্য নারায়নগঞ্জ এবং লন্ডনের ডান্টিতে চলে যেত। ১৯৬৫ সনের পাক ভারত যুদ্ধের পর মারোয়ারী ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ ত্যাগ করায় মৌলভীবাজারে পাট শিল্পের প্রথম ধস নামে। অতপর নদী ভাঙ্গনের মুখে মনুমুখের পাট শিল্প স্থাপনা নদী গর্ভে তলীয়ে যাওয়ার পর এখানে পাট শিল্পের ইতি ঘটে। ফলশ্রুতিতে পাট চাষিরা তাদের উৎপাদিত পাট বাজারজাত করতে না পারায় স্থানে স্থানে পাঠ চাষের ভাটা পড়ে।
বর্তমানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে পুরো জেলায় বাণিজ্যিক ভাবে কোথায়ই পাট চাষ হচ্ছে না। তবে বিক্ষিপ্ত ভাবে কিছু এলাকায় শাক হিসেবে খাওয়ার জন্য স্থানীয় কৃষকরা সামান্য চাষ করছেন।

এবিষয়ে মেসার্স রবিউল ইসলাম রাসেল পাট ও হস্তশিল্প এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী রবিউল ইসলাম রাসেল বলেন, পর্যাপ্ত কাচামাল না থাকায় পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব নয়। তবে জেলাব্যাপি পাট পণ্যের অনেক চাহিদা রয়েছে। তিনি আরোও বলেন, পুঁজি ও প্রশিক্ষণের অভাবে এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে পারছিনা।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: