সর্বশেষ আপডেট : ৪৩ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ১৮ মার্চ ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ওসমানীনগরে বিদেশ লোক পাঠানোর দালাল হোসেন’র পিতা গ্রেফতার

বালাগঞ্জ প্রতিনিধি:: ওসমানীনগরে চেক জালিয়াতি মামলায় বিদেশে লোক পাঠানোর দালাল হোসেন আহমদের পিতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া মাসুক মিয়া (৬০) উপজেলার উছমানপুর ইউনিয়নের উছমানপুর গ্রামের মিছির আলীর পুত্র। ওসমানীনগর থানার ডিউটি অফিসার এএসআই রুমি বেগম সাংবাদিকদের বলেন, গ্রেফতার হওয়া মাসুক মিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বনাথ উপজেলার এক ব্যক্তি আদালতে চেক জালিয়াতির মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় তার নামে পরোয়ানা জারি হলে তিনি পলাতক ছিলেন।
শনিবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
জানা যায়, পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া মাসুক মিয়ার পুত্র হোসেন আহমদ দির্ঘ কয়েক বছর ধরে সৌদি আরবের আরার এলাকায় বসবাস করে ভিসার দালালী করে আসছেন। উছমানপুর গ্রামের হোসেনের এক মামাতো ভাইও ঢাকায় থেকে বিদেশে লোক পাঠানোর দালালীর কাজ করেন। হোসেন ও তার পিতা মাসুক মিয়া মিলে সৌদি আরবে লোক পাঠানোর নামে একাধিক জনের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বছর তিনেক পূর্বে বিশ্বনাথের এক ব্যক্তিকে সৌদি আরবের দুটি ভিসা দেয়ার জন্য ১১ লক্ষ টাকা ধার্য্য করে হোসেন আহমদ অগ্রিম ৫ লক্ষ টাকা নেন। টাকা নেয়ার পর দুটি ভিসা দিলেও ভিসাগুলো জাল হিসেবে চিহ্নিত হয়। এরপর ওই ব্যক্তি ভিসার জন্য হোসেনকে দেয়া টাকা ফেরৎ চাইলে হোসেন সেই টাকা দিতে অপরাগতা দেখান। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় একাধিকবার শালিস বৈঠকও হয়েছে। ওই বৈঠকে ওসমানীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় মুরব্বীগণ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হোসেনের পিতা মাসুক মিয়া পাওনাদারকে অগ্রিম চেক প্রদান করেন। কিন্তু চেক প্রদান করলেও তিনি সময় মত টাকা পরিশোধ না করে কালক্ষেপণ করলে মাসুক মিয়ার নামে আদালতে চেক জালিয়াতির মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া হোসেন আহমদ ভিসা দেয়ার নামে আরো কয়েক জনের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। উপজেলার উছমানপুর ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্যের ভাইকে ৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রায় দুই বছর পূর্বে ভিসা দিয়ে সৌদি আরব নেন হোসেন আহমদ। কিন্তু ভিসার কফিল (আরবী মালিক) সঠিক না থাকায় ওই ব্যক্তি কিছুদিন পরে দেশে ফেরে আসতে বাধ্য হন। বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলার আরো তিন ব্যক্তিকে জনপ্রতি সাড়ে ৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে হোসেন আহমদ ভিসা দিয়ে সৌদিতে নিলেও ভিসার সঠিকানা অনুযায়ী কফিল বা মালিক পাননি তারা।

সৌদিতে যাওয়া ওই তিন জনের স্বজনরা জানিয়েছেন, কফিলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার নামে তাদেরকে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি আরো ১ লক্ষ টাকা থেকে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেন এই হোসেন আহমদসহ তার লোকজন। টাকা না দিলে তাদেরকে খেতে, ঘুমাতে ও গোসল করতে দেয়া হত না। এমনকি শারিরিক ভাবেও নির্যাতন করা হত। এছাড়া হোসেন আহমদ যাদেরকে সৌদিতে নিয়েছেন তাদেরকে দিয়ে কাজ করিয়ে কাজের পাওনা টাকাও এখন পর্যন্ত দেননি। টাকা চাইলে তাদেরকে উল্টো পুলিশে ধরিয়ে দেশে পাঠিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের স্বজনরা হোসেন আহমদ ও তার পিতার বিরুদ্ধে পৃথকভাবে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে তারা জানিয়েছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: