সর্বশেষ আপডেট : ১৩ মিনিট ৫১ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ওসমানীনগরে আমমোক্তারনামা জাল করে প্রবাসীর জমি বিক্রির অভিযোগ

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার মাধবপুর গ্রামের মৃত হাজী আব্দুন নূরের ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী নূরুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন আমমোক্তারনামা জালিয়াতির মাধ্যমে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করা হয়েছে। রোববার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বলেন, আমার মা এবং ভাইবোনসহ আমরা যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস করি। দেশে কেউ না থাকায় আমাদের স্থাবর সম্পত্তি (জমি) একাংশ রক্ষণা-বেক্ষণ, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য আমার মামা দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বরইকান্দি গ্রামের মৃত জামাল উদ্দিন আহমদের ছেলে রফিজ উদ্দিনকে ২০০৬ সালে যুক্তরাজ্য থেকে আমি আমমোক্তার নিয়োগ করি। আমমোক্তার নামায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল পাওয়ার গ্রহীতা কখনও এই স্থাবর সম্পত্তি অন্যের নামে বা নিজের নামে হস্তান্তর করতে পারবে না। আমমোক্তারনামাটি তৎকালীন আইন অনুসারে সিলেটের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রমাণিকরণ মামলা নং-১২৯/২০০৬ অনুকূলে ০৮ ফেব্রুয়ারি প্রমাণিকৃত হয়।
আমমোক্তার রফিজ উদ্দিন ওসমানীনগরের উমপরপুর গ্রামের মো. আসিক মিয়ার পুত্র এর সাথে মিলিত হয়ে আমাদের স্থাবর সম্পত্তি আত্মসাতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তারা পরস্পর যোগসাজসে আমার একক পাওয়ার অব এ্যাটর্নি দলিলের অনুসরণে আমি (নূরুল ইসলাম), আমার মাতা, আপন তিন বোন ও দুই ভাই সামিলে পাওয়ার দাতা দেখিয়ে একটি জাল জালিয়াতিপূর্ণ পাওয়ার অব এ্যাটর্নি দলিল তৈরি করে। নকল সীলমোহর, স্বাক্ষর দিয়ে প্রস্তুতকৃত পাওয়ার অব এ্যাটর্নি দলিলকে প্রমাণি মামলা নং-১২৯/২০০৬ এ প্রমাণিকৃত বলে প্রস্তুত দেখানো হয়।
পরে জাল জালিয়াতিপূর্ণ পাওয়ার অব এ্যাটর্নি ব্যবহার করে আমার ও আমার শরিকদের নামীয় স্থাবর সম্পত্তি সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে রফিজ উদ্দিন উক্ত মো. সেলিম আহমদের কাছে হস্তান্তর করেন। যার দলিল নং-৭৪৫/২০১০ (তাজপুর সাব-রেজিস্ট্রারি অফিস)। জাল পাওয়ার অব এ্যাটর্নিতে আমি ছাড়া আর কোনো সহ-শরিকদের ছবিযুক্ত না থাকা সত্ত্বেও সাব-রেজিস্ট্রার দলিলটি আটক না করে রহস্যজনকভাবে রেজিস্ট্রি করে দেন।
তিনি বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমার এবং আমাদের পরিবারের স্থাবর সম্পত্তি (জমি) জাল জালিয়াতির মাধ্যমে হস্তান্তর করার ব্যাপারে রফিজ উদ্দিন (দাতা), মো. সেলিম আহমদ (গ্রহিতা), মকবুল হোসাইন (দলিল লেখক) এবং জিয়াউল হক (সাব-রেজিস্ট্রার)সহ দলিলে বর্ণিত সাক্ষীবৃন্দ পরস্পর জড়িত রয়েছেন’। আমরা জালিয়াতির বিষয়টি জানতে পেরে যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনের মাধ্যমে সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ দাখিল করি। অভিযোগ দাখিলের পর তা তদন্ত হয় এবং তৎকালীন সহকারী কমিশনার কাইজার মোহাম্মদ ফারাবী ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন। কিন্তু জেলা প্রশাসক অফিস থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি’। এই জালিয়াতির ঘটনায় আমার আত্মীয় কয়েছ আহমদ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় রফিজ উদ্দিন, মো. সেলিম আহমদ, মকবুল হোসাইন এবং সাব-রেজিস্ট্রার জিয়াউল হকসহ আটজনকে আসামি করা হয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নূরুল ইসলাম জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পাদিত দলিল বাতিল ও তাদের ভূ-সম্পদ ফিরে পেতে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি জালিয়াতের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও আহবান জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী নূরুল ইসলামের চাচাতো ভাই মো. হেদায়েতুল ইসলাম, আত্মীয় কয়েছ আহমদ ও আশরাফুল বারী। – বিজ্ঞপ্তি



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: