সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সব লাশই আমার স্বজনের মনে হয়

নিউজ ডেস্ক:: হাসান খানের চোখ দুটি ছলছল করছিল। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গের পাশে তখন স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজ চলছিল। নিষ্প্রভ ও মলিন মুখে সেখানেই বসে ছিলেন তিনি। পরিচয় জানতে চাওয়া মাত্রই কেঁদে ফেলেন। তার অশ্রুসজল চোখ ছেলে রোহানকে খুঁজে বেড়ায়।

বুধবার রাতে অগ্নিকাণ্ডে তার ছেলে নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র তানজিল হাসান রোহান নিহত হন। এখনও ছেলের সন্ধান মেলেনি।ছেলের খোঁজে বৃহস্পতিবার থেকে হাসান দম্পতি ঢামেক মর্গেই অবস্থান করেন।অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান মেলেনি। গতকাল শুক্রবার সকালে ডিএনএ নমুনা দেওয়ার জন্য মর্গে আসেন। স্ত্রীর পাশাপাশি হাসান নিজেও সিআইডি ক্রাইম সিন ইউনিটের কর্মীদের কাছে ডিএনএ নমুনা দেন।

তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনিও কেঁদে ফেলেন। সঙ্গে থাকা কয়েকজন স্বজন পরে তাদের সেখান থেকে নিয়ে যান। স্বজনের মধ্যে অনেকেই বলছিলেন, ‘পুড়ে অঙ্গার হওয়া মরদেহ দেখে মনে হচ্ছিল ওটাই আমার স্বজন। এমন দেহখানি কীভাবে চিনব। সবার একই অবয়ব।’

হাসান দম্পতির মতো নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজ করতে এসে অশ্রুসজল হয়েছেন স্বজনরা। তবে মা বিবি হালিমা শিল্পীর খোঁজে ডিএনএ নমুনা দিতে আসা ছোট্ট সানিনের উপস্থিতিতে সবাই বেদনাসিক্ত হলেন। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের কর্মীরা যখন বছর পাঁচেকের সানিনের নমুনা সংগ্রহের জন্য কাজ করছিলেন,তখন সানিন তার মামাকে প্রশ্ন করেন- আম্মু কোথায়? আম্মুকে আজই বাসায় নিয়ে যাব।মামা ইসরাফিল ছোট্ট সানিনের প্রশ্নের কোনো জবাব দিতে পারেননি। শুধুই অশ্রুসিক্ত হয়েছেন।

সানিন শুধুই জানে,তার মা বুধবার রাতে অল্প সময়ের জন্য ওষুধ আনতে বাসার নিচে নেমেছিলেন।এরপর আর বাসায় ফেরেননি। সানিনের পাঁচ মাস বয়সী ছোট্ট বোনও মায়ের জন্য কাঁদছে। তাদের সান্ত্বনা কীভাবে দেবেন স্বজনরা?

সানিনের পাশেই বসে কাঁদছিলেন ফারিহা ও ফাহিমা। দুই বোন তার বাবা ফয়সালকে খুঁজছেন। পাশেই বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তাদের মা ফাতেমা আক্তার। তিনজনই ডিএনএ নমুনা দিতে এসেছেন। ফারিহা কান্নাজড়িত কণ্ঠে শুধু বললেন, ‘বাবাকে বলেছিলাম তাড়াতাড়ি আইসো, কিন্তু বাবা তো আর আসলো না।’ সঙ্গে থাকা স্বজন নজরুল ইসলাম জানান, ফয়সালের চকবাজারে দোকান ছিল। অগ্নিকাণ্ডের কিছুক্ষণ পর থেকে তার মোবাইলে ফোন করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। গত দু’দিন ধরে খোঁজাখুঁজির পরও তাকে পাচ্ছি না। ধারণা করছি, তিনি আর বেঁচে নেই।

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম থেকে আসা আইনুল হক ভাই নুরুল হককে গত দু’দিন ধরে খুঁজে বেড়াচ্ছেন। ভাইকে জীবিত পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন আইনুল। নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্রে অপেক্ষা করছিলেন। তিনি জানান, নুরুল হক চকবাজারের চুড়িহাট্টায় সবজি বিক্রি করতেন।অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই তার মোবাইল বন্ধ পাচ্ছেন।এরপর বৃহস্পতিবার ঢাকায় ফিরে বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজাখুঁজিও করেন। কিন্তু ভাইয়ের সন্ধান পাননি। বিভিন্ন হাসপাতালে থাকা লাশগুলো থেকেও ভাইকে শনাক্ত করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ডিএনও নমুনা দিয়ে ভাইকে খুঁজে পেতে তার অপেক্ষা।

গতকাল ঢামেক মর্গের পাশে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্রে এমন বেদনাসিক্ত চিত্রই দেখা গেছে। প্রিয়জনের জন্য হৃদয়ের রক্তক্ষরণ হয়েছে স্বজনের। তাদের নিঃশ্বাস ও আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে মর্গের পাশের নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্র। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৫ লাশের জন্য ২০ জন স্বজন ডিএনএ নমুনা দিয়েছেন। ক্রাইম সিন ইউনিটের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা শেষ হতে তিন থেকে চার সপ্তাহ লাগবে।



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে. এ. রাহিম. সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: