সর্বশেষ আপডেট : ২৯ মিনিট ৫১ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সাঁড়াশি অভিযানের মধ্যেই দেশে মাদকের আমদানি ও কেনাবেচায় রেকর্ড

নিউজ ডেস্ক:: ধারাবাহিক ‘বন্দুকযুদ্ধ’ ও সাঁড়াশি অভিযানের মধ্যেই দেশে মাদকের আমদানি ও কেনাবেচা আগের বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হিসাবে, গত বছর বিভিন্ন সংস্থার অভিযানে ৫ কোটি ৩০ লাখ ইয়াবা বড়ি এবং সাড়ে ১১ মণ হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। এই পরিমাণ আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি।

জাতিসংঘের মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ইউএনওডিসির মতে, যত মাদক বিক্রি হয়, ধরা পড়ে তার মাত্র ১০ শতাংশ। এই হিসাব ধরলে গত বছর দেশে শুধু ইয়াবা বড়ি বিক্রি হয়েছে ৫৩ কোটির মতো। যার বাজারমূল্য প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা (প্রতি বড়ি দেড়শ টাকা)। আর হেরোইন পাচার বা বিক্রি হয়েছে ১১০ মণ, যার বাজারমূল্য (প্রতি কেজি ২০ লাখ টাকা ধরে) প্রায় ৯০০ কোটি টাকা।

হিসাব করে দেখা গেছে, সব মিলে মাদকের পেছনে বছরে মাদকসেবীরা প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা খরচ করছে, যা বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বার্ষিক বাজেটের তিন গুণ। আর পুলিশের বাজেটের ৪ ভাগের ৩ ভাগ। দেশে ৬৬-৭০ লাখ লোক মাদকাসক্ত বলে মনে করা হয়।

মাদক সমস্যা নিয়ে কাজ করেন এমন বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সংশ্লিষ্টতা থাকে, মদদ থাকে। বড় মাদক কারবারিরা বিপদে পড়লে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় পায়। আর সেই ব্যবসায়ীরা তখন নিজেদের লোকদের সহজে রক্ষা করে। এ কারণে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান সফল হয় না। তাই মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জিততে হলে শুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে ভেতর-বাইরে। কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত মঙ্গলবার নিজের কার্যালয়ে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পুলিশ কর্মকর্তাদের বলেন, ‘যা যা দাবি করেছেন, সবই মেনে নিয়েছি। এখন মাদকের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নিন।’

মাদকবিরোধী অভিযানে সম্পৃক্ত সূত্রগুলো বলছে, এত বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ যেখানে, সেই মাদকের বাজার ও চাহিদা নিয়ন্ত্রণই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। মাদক প্রতিরোধে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ ঘোষণা করা হলেও এই অভিযানে যেমন সমন্বয় নেই, তেমনি সব মহল আন্তরিকও নয়। আবার অভিযানের বাইরে মাদক সেবন বন্ধ করতে সচেতনতা সৃষ্টির তৎপরতা নেই। সে কারণে মাদক যে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ হবে, এমন আশাও নেই। তবে পুলিশ সপ্তাহের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ঘুরেফিরে মাদক নির্মূলের কথা বলেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী।

ইয়াবার ভয়াবহতা রোধে গত বছরের ৪ মে থেকে দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করে বিভিন্ন বাহিনী। এই অভিযানে ২৬০ দিনে (৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় ২৯২ জন। এর মধ্যে শুধু কক্সবাজারেই নিহত হয় ৪৪ জন।

অভিযানের পাশাপাশি ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণের প্রস্তাবেও রাজি হয়েছে সরকার। ১৬ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারে এই আত্মসমর্পণ হবে। ধারণা করা হচ্ছে, দুই শতাধিক ইয়াবা কারবারি আত্মসমর্পণ করতে পারেন। ইতিমধ্যে আত্মসমর্পণে সম্মত ১২০ জন পুলিশি হেফাজতে আছেন। তবে এই আত্মসমর্পণ এবং এর পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে বাহিনীগুলোর মধ্যে ভিন্ন মত রয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে যুক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, স্থল ও নৌসীমান্ত দিয়ে মাদকের প্রবেশ ঠেকানো যাচ্ছে না। অভিযানের ভেতরেও স্থলপথ ও জলপথ—দুই দিক থেকেই মাদক আসছে। এই বছরে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারই তার বড় প্রমাণ। আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন মূলত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও মাদক আনা-নেওয়ার কাজে যুক্ত ব্যক্তিরা। তালিকাভুক্ত গডফাদারদের মধ্যে মাত্র দুজন বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। বড় মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে এখন পর্যন্ত আমিন হুদা ছাড়া আর কেউ ধরা পড়েনি।ইয়াবা তৈরির অভিযোগে আমিন হুদার সাজা হয়েছে।তিনি এখন কারাগারে আছেন।

তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জামাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, এই অভিযানের বড় সফলতা হলো, মাদক এখন আর অত সহজলভ্য নয়। যাঁরা এই ব্যবসায় যুক্ত, তাঁরা আতঙ্কে আছেন।

মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়া একটি বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, সাঁড়াশি অভিযানে তাঁরা মাদক ব্যবসায়ীদের সরবরাহ লাইন কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পেরেছেন। কিন্তু মাদক কেনাবেচা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। গত মঙ্গলবারও টেকনাফ সীমান্তে আড়াই লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু টেকনাফ নয়, সীমান্তের অনেক স্থান দিয়েই এখন মাদক আসছে।

দেশে বিভিন্ন বাহিনীর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আছেন তিন হাজারের বেশি। কিন্তু সবার নজর শুধু টেকনাফের দিকে। হেরোইনের মতো মাদক নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। অথচ দেশে হেরোইনেরও বড় বাজার রয়েছে। মাদক কারবারিরা বাংলাদেশে হেরোইন পাচারের ট্রানজিট রুট হিসেবেও ব্যবহার করে বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা ও চীনে আটক করা মাদকের চালান পাচারের সময় বাংলাদেশকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে সিআইডির বিশেষ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: