সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ধনকুবেরের সঙ্গে প্রমোদ তরীতে গিয়ে ধরা মডেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: নাসতিয়া রিবকা, বেলারুশের মডেল। তিনি রাশিয়ান এক বিলিয়নিয়ারের সঙ্গে তার প্রমোদ তরীতে কয়েকটি দিন কাটিয়েছিলেন।

আর হঠাৎ প্রাপ্তির এই বিষয়টি গর্ব করে পৃথিবীকে জানাতে গিয়েই রিবকা পড়েছিলেন বিপাকে। জেল পর্যন্ত খাটতে হয়েছিল।

ওই ধনকুবের ছিলেন ওলেগ ডেরিপাসকা, যিনি রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ক্ষমতাধর মিত্র। প্রমোদ তরীতে সময় কাটানোর পর মডেল রিবকা দাবি করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারাভিযানে রুশ হস্তক্ষেপের প্রমাণ তার হাতে রয়েছে।

রিবকা নামে পরিচিত হলেও বেলারুশিয়ান এই মডেলের আসল নাম আনাসতাসিয়া ভাসুকেভিচ। থাইল্যান্ডের জেলখানায় প্রায় এক বছর তিনি কারাবন্দি ছিলেন। এটিকে তিনি তার জীবনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ‘শিকার’ বলেই মনে করেন।

রিবকা সেই ঘটনার আদ্যপ্রান্ত বিবিসি রুশকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন।

পুতিনের ক্ষমতাধর সহযোগী ওলেগ ডেরিপাসকা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি তার প্রেমে পড়ে যাই। সে খুবই আকর্ষণীয় পুরুষ এবং তার দারুণ সুন্দর দুটি চোখ। সুতরাং কেন নয়?’

রিবকা বলেন, ‘আমি কেবলই দেরিপাসাকার প্রমোদ তরীতে যেতে চেয়েছিলাম। আর ২০১৬ সালে এই চাওয়া পূর্ণ হয়। কিন্তু, এ নিয়ে মুখ খোলায় দেরিপাসকার দুঃখ ছাড়া আর কিছু মেলেনি।’

গত বছর এই ধনকুবেরসহ অন্যান্য ধনকুবের বা শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পরে দেখা যায়, দেরিপাসকার সঙ্গে পল ম্যানাফোর্টের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। আর পল ম্যানাফোর্ট ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারকার্যের সাবেক চেয়ারম্যান।

রিবকা বলেন, ‘দেরিপাসকাকে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়েছে। আর আমার ধারণা, আমিই এসব সমস্যার সূচনাকারী।’

পরে অবশ্য রিবকার অভিযোগ অস্বীকার করেন দেরিপাসকা। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভঙ্গের দায়ে রিবকা এবং তার তথাকথিত গুরু আলেকজান্দার কিরিলভের বিরুদ্ধে তিনি মামলা করেন।

কিভাবে থাই কারাগারে মডেল রিবকা

এক বছর আগে নাসতিয়া রিবকা তার বই, ছবিসহ ইনস্টাগ্রাম পোস্ট এবং প্রমোদ তরীতে যাদের সঙ্গে তার দেখা হয়, তাদের সম্পর্কে বিশদ বর্ণনা দিতে থাকেন। আর এটি বিরোধী রাজনীতিক অ্যালেক্সেই নাভালনির দৃষ্টিগোচর হয়। তিনি নিজে প্রেসিডেন্ট অফিসের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাকে সনাক্ত করেন।

অ্যালেক্সেই নাভালনি এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও ইন্টারনেটে পোস্ট করার পরপরই ডেরিপাসকা প্রাইভেসি লঙ্ঘনের অভিযোগ মামলা দায়ের করেন। আর রুশ পর্যবেক্ষক গ্রুপ সেই ভিডিওটি ব্লক করে দেয়।

এরপর রিবকা এবং আলেকজান্দার কিরিলোভ থাইল্যান্ড যান, ‘সেক্স ট্রেনিং’ নামে সেশনে অংশ নিতে।

২০১৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিনা অনুমতিতে প্রবেশ এবং কাজের জন্য তারা দু’জনই থাইল্যান্ডে গ্রেপ্তার হন। পরে অবশ্য তা পরিবর্তন করে উপযাচক হয়ে যৌনসেবা প্রদান করার অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে।

গ্রেপ্তার হওয়ার পরপরই রিবকা ভেবেছিল আমেরিকানরা তাকে সাহায্য করতে পারে। একটি পুলিশ ভ্যানে করা ভিডিও মার্কিন গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন তিনি।

রিবকা জানান, রাশিয়ান স্থাপনা, পল ম্যানাফোর্ট এবং ট্রাম্প ক্যাম্পেইন বিষয়ে তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আছে।

এক সময় আমেরিকানদের কাছে সহায়তা চাইলেও এখন অদ্ভুতভাবে রিবকা বলছেন, তাকে কারাবন্দি করার জন্য আমেরিকানরাই দায়ী।

তিনি বলেন, ‘আমেরিকানরা হয়তো ভয় পেয়েছিল যে, তাদের নতুন প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে আমি কিছু জানি। এটা আমাদের উপযোগী খেলা নয়, এটা আমাদের চেয়েও বড়দের খেলা।’

রিবকা তথ্য দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু, মার্কিন তদন্তকারীদের কোনো রকম তথ্য দেননি, ‘এফবিআই আমাকে জিজ্ঞেস করে, আমার কাছে ডোনাল্ড ট্রাম্প, ম্যানাফোর্ট, ডেরিপাসকার জীবন সম্পর্কে জিনিসপত্র আছে। বহু মানুষ আসতো এবং একই প্রশ্ন করতো। এরপর আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে কোন‌ বিষয়টি আমার জন্য বিপজ্জনক। আমি সেগুলো, ওলেগ ডেরিপাসকার কাছে পাঠিয়ে দিলাম।’

রিবকা কাছে আসলে কি জিনিস ছিল, আর ডেরিপাসকা কখনো কিছু পেয়েছিলেন কিনা সেটা অবশ্য জানা যায়নি।

গত ১৭ জানুয়ারি রিবকা এবং লেসলির সাজার স্থগিতাদেশ আসে এবং তাদের থাইল্যান্ড থেকে নির্বাসিত করা হয়।

রাশিয়া পৌঁছানোর পর তাদের আবার গ্রেপ্তার করা হয় যৌন ব্যবসায় লোকজনকে প্ররোচিত করার দায়ে। তার গ্রেপ্তারের ভিডিও তার আইনজীবী ইনস্টাগ্রামে ছেড়ে দেন।

এখন রিবকা ওলেগ ডেরিপাসকার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

দু’দিন পর দু’জনকেই রুশ হেফাজত থেকে মুক্তি দেয়া হয়। রিবকা জানান, তার কাছে কোনো গোপন তথ্য আদৌ ছিল না।

তিনি বলেন, ‘আমার কাছে আর কোনো কম্পিউটার কিংবা মোবাইল ফোনও নেই।’

অবশ্য মুক্তির জন্য কারও সঙ্গে কোনো আপস রফার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। তবে, যত দ্রুত সম্ভব রাশিয়ায় ফেরার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেননি।

সমস্ত বিপদ-আপদের জন্য রিবকা অ্যালেক্সেই নাভালনিকে দোষারোপ করেছেন। নির্দোষ এক অবকাশ ভ্রমণ দুর্নীতি এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের গল্পের মধ্যদিয়ে বিবর্তিত হয়েছে।

তাহলে এক বছর আগে নাসতিয়া রিবকা কেন বলেছিলেন, ওলেগ ডেরিপাসকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ সরকারের ভূমিকায় জড়িত ছিলেন?

এর উত্তরে রিবকার সাফ জবাব, ‘আমি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছি না।’




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: