সর্বশেষ আপডেট : ৪৫ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আতর বিক্রেতা প্রতিবন্ধী ইউসুফের নামেও ১১ মামলা!

নিউজ ডেস্ক:: তালাবদ্ধ ছোট্ট কাঠের বাক্স। দৈর্ঘ্য দুই হাত, প্রস্থ এক হাত। বাক্সের পাশে রাখা একটা কাঠের টুল। লোহার শিকল দিয়ে বাক্সের সঙ্গে টুলটি বাঁধা। বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটের নিচতলায় প্রায় তিন মাস ধরে এভাবে পড়ে আছে বাক্স-টুল। এর মালিক ইউসুফ আলী (৫৪) নাশকতার ১১ মামলায় এখন কারাগারে। ২৫ বছর ধরে তিনি বায়তুল মোকাররম এলাকার হকার। আতরসহ নানা জিনিস বিক্রি করেন। ইউসুফের বয়স যখন ১০ বছর, তখন তিনি ট্রেন দুর্ঘটনায় বাঁ হাত হারান। অসচ্ছল প্রতিবন্ধী হিসেবে সরকারি ভাতাও পাচ্ছেন ইউসুফ।

ইউসুফের স্ত্রী মনোয়ারা বলেন, সেদিন ছিল শনিবার (৩ নভেম্বর, ২০১৮)। সকালে দোকানে যান তাঁর স্বামী। বেলা দুইটার পর মোবাইল ফোনে খবর পান, তাঁর স্বামী ইউসুফকে বায়তুল মোকাররম এলাকা থেকে ধরে নিয়ে গেছে মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ। থানায় যাওয়ার পর পুলিশ তাঁকে জানায়, নাশকতার মামলায় তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করার অংশ হিসেবে সরকারবিরোধী নাশকতামূলক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগের মামলায় ইউসুফকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ আদালতকে যে প্রতিবেদন দিয়েছে, সেখানে ইউসুফের নাম বলা হয়েছে—ইউসুফ ওরফে হাতকাটা ইউসুফ।

ইউসুফের স্ত্রী মনোয়ারা বলেন, আইনজীবীরা বলছেন, ১১টি মামলায় আলাদা আলাদা জামিন নিতে হলে অনেক টাকা লাগবে। একটি মামলায় জামিনের জন্য কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা, সে হিসাবে দুই লাখ টাকার বেশি লাগবে, যা খরচ করার সামর্থ্য তাঁদের নেই। তাই স্বামী কবে মুক্তি পাবেন, কিছুই বুঝতে পারছেন না।

নাশকতার একটি মামলায় [মোহাম্মদপুর ৫৪ (৯) ১৮] পুলিশ অভিযোগ করেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে মোহাম্মদপুর থানার বছিলার শাহজালাল হাউজিং ১ নম্বর রোডের মাথায় খালি জায়গায় ইউসুফ আলীসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ–সংগঠনের ২০০ থেকে ২৫০ জন নেতা-কর্মী জড়ো হন। নির্বাচন বানচাল করার জন্য নাশকতামূলক কার্যকলাপ ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ধ্বংসাত্মক ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়ার জন্য গোপন সভার জন্য সেখানে তাঁরা একত্র হন।

আদালত ও আইনজীবী সূত্র বলছে, গত বছরের ৩ নভেম্বর গ্রেপ্তার হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ইউসুফকে মোহাম্মদপুর থানার ১১টি নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলাগুলো বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনে করা।

ইউসুফের আইনজীবী মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন বলেন, ইউসুফের বাঁ হাত নেই।তিনি একজন অ্যাজমা রোগী। হাতে তাঁর সব সময় থাকে নেবুলাইজার। এমন একজন বয়স্ক শারীরিক প্রতিবন্ধী অসুস্থ ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশ এতগুলো হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে জেলে ভরে রেখেছে। কোনো রাজনীতির সঙ্গে ইউসুফ জড়িত নন। মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন জানান, ইউসুফ জামিন আবেদন করেছেন একাধিকবার।কিন্তু জামিন হয়নি তাঁর।

সূত্র: প্রথম আলো




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ. আর. সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: