সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৪২ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিপিএল সিলেট পর্ব : খুলনাকে হারিয়ে জয়ী মুশফিকের চিটাগং

স্পোর্টস ডেস্ক ::

৬ষ্ঠ বিপিএলের সর্বোচ্চ রানের সংগ্রহ পেয়ে জয়ের রাস্তাটা অনেকটা সহজ করে রেখেছিল চিটাগং ভাইকিংস। কিছুটা ভীতি ছড়ালেও রানপাহাড়ে পৌঁছাতে ব্যর্থ মাহমুদউল্লাহর খুলনা টাইটান্স। ম্যাচ জয়ের আনন্দে ভেসেছে মুশফিকুর রহিমের দল।

সিলেট পর্বের শেষ ম্যাচে খুলনাকে ২৬ রানে হারিয়ে এবারের বিপিএলে চতুর্থ জয় তুলে নিয়েছে চিটাগং। এর আগে ঢাকায় দল দুটির মধ্যকার প্রথম লড়াইয়ে সুপার ওভারে জয় পেয়েছিল তারা। শনিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চিটাগংয়ে বেধে দেওয়া ২১৫ রান তাড়ায় ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৮ রান করে খুলনা।

এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলেও বড় উন্নতি হয়েছে চিটাগংয়ের। এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচ খেলে চার জয়ে তাদের পয়েন্ট ৮। সঙ্গে রানরেটে এগিয়ে থাকায় দলটির অবস্থান দুই নম্বরে। ছয় ম্যাচ খেলে ৮ পয়েন্ট পেলেও রান রেটে পিছিয়ে থাকায় তৃতীয়স্থানে আছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ছয় ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে ঢাকা ডায়নামাইটস।

চিটাগংয়ের বিপক্ষে পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই খেই হারায় খুলনা। দলীয় ১৮ রানে টপ-অর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারায় তারা। দলীয় রানের খাতা খুলার আগেই আইরিশ ওপেনার পল স্টির্লিংকে উইকেট ছাড়া করেন আবু জায়েদ রাহি। দলীয় ১৫ রানে মুশফিককে ক্যাচ দেন অপর ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দিক (১২)।

কিছু বোঝে ওঠার আগেই আবার রাহির হানা। তিন নম্বরে নামা আল-আমিনকে মুশফিকের ক্যাচে পরিণত করেন সিলেটের ছেলে রাহি। চতুর্থ উইকেট জুটিতে বিপর্যয় কাটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন ব্রেন্ডন টেইলর ও মাহমুদউল্লাহ। ৬৮ রানের এই জুটির লাগাম টানেন নাঈম হাসান। ১৬ বলে দুই চার ও দুই ছক্কায় ২৮ রান করা টেইলরকে বোল্ড করেন এই অফস্পিনার।

হেসেছে মাহমুদউল্লার ব্যাট। দলীয় ১০২ রানে থামে তার ব্যাট। ক্যামেরুন ডেলপোর্টের বলে বোল্ড হওয়ার আগে করে মাত্র ২৬ বলে করেন ৫০ রান। তার ঝড়ো ইনিংসটিতে রয়েছে তিনটি চার ও চার ছক্কা। বলহাতে দুই উইকেট নেওয়ার পর ব্যাটিংয়েও দারুণ খেলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভিড উইসা। খালেদ আহমেদের বলে কট বাহাইন্ড হওয়ার আগে ২০ বলে দুই চার ও চার ছক্কায় ৪০ রান করেন তিনি।

২১ বলে তিন চারে ২২ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন তাইজুল ইসলাম। চিটাগংয়ের বোলারদের মধ্যে রাহি ৩৩ রানে ৩ উইকেট নেন। দুটি করে উইকেট নেন খালেদ ও ডেলপোর্ট। একটি উইকেট নেন নাঈম।

এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ উইকেট হারিয়ে ২১৪ রানের সংগ্রহ পায় চিটাগং। চলতি বিপিএলে এটা কোনো দলের সর্বোচ্চ, আর সব আসর মিলিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। চিটাগংয়ের শুরুটা তেমন আশানুরূপ ছিল না। দলীয় ১৭ রানে ভাঙে মোহাম্মদ শাহজাদ ও ক্যামেরুন ডেলপোর্টের ওপেনিং জুটি। শরিফুল ইসলামের বলে ডিপ স্কোয়ার লেগে ডেভিড উইসাকে ক্যাচ দেন ১২ বলে ১৩ রান করা ডেলপোর্ট।

আগের ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ৪৬ রান করা শাহজাদ এবারও লম্বা ইনিংস খেলার পথে এগুচ্ছিলেন। সেটা হতে দিলেন না তাইজুল। দলীয় ৫৬ রানে তার বলে উইকেট ছাড়া হন শাহজাদ। এর আগে ১৭ বলে তিন চার ও তিন ছক্কায় ৩৩ রান করেন আফগানিস্তানের এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান।

ইয়াসির ও মুশফিক জুটিতে রানের খনি পেয়ে যায় চিটাগং। তাদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে তৃতীয় উইকেট জুটিতে দলীয় স্কোরে জমা পড়ে ৮৩ রান! দলীয় ১৩৯ রানে এই জুটিকে থামান উইসা। দক্ষিণ আফ্রিকার এই পেসারের বলে কট-বাহাইন্ড হওয়ার আগে ৩৬ বলে পাঁচ চার ও তিন ছক্কায় ৫৪ রান করেন ঘরের ছেলে ইয়াসির।

দলীয় ১৭০ রানে উইসের শিকারে পরিণত হন মুশফিকও। এক্সট্রা-কাভারে শরিফুলের হাতে ক্যাচ দেন চিটাগং অধিনায়ক। এর আগে ৩৩ বলে আট চার ও এক ছক্কায় ৫২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। চলতি বিপিএলে এটা তার টানা দ্বিতীয় অর্ধশতক।

ব্যাটিং তাণ্ডব ধরে রাখেন দাসুন শানাকা ও নাজিবুল্লাহ জাদরান। শেষ ১৪ বলে তাদের ব্যাট থেকে আসে ৪৪ রান! ১৭ বলে তিন চার ও চার ছক্কায় ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন শানাকা। পাঁচ বলে দুই চার ও এক ছক্কায় ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন জাদরান। খুলনার বোলারদের মধ্যে ২৬ রানে ২ উইকেট নেন উইসা। অপর দুটি উইকেট নেন শরিফুল ও তাইজুল।

ম্যাচ সেরা হন চিটাগংয়ের অধিনায়ক মুশফিক।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ. আর. সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: