সর্বশেষ আপডেট : ৩০ মিনিট ৬ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২১ জানুয়ারী ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ মাঘ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কমলগঞ্জের দেওছড়া জলাশয়ে আবাসস্থলে পানি না থাকায় এখনও দেখা মেলেনি অতিথি পাখির!

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি:: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ও পতনঊষার ইউনিয়নের সংযোগস্থল দেওছড়া জলাশয়। পাহাড়ি এলাকা থেকে উৎপত্তি হয়ে ছড়াটি লাঘাটা নদীতে পতিত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে এই জলাশয়টি পানি কমে যায়। নি¤œা লে লাঘাটা নদীতে বোরো আবাদের জন্য পানি সংরক্ষণ করা হলে পুরো দেওছড়া জলাধারটি টইটুম্বর হয়ে উঠে। ফলে হাজার হাজার অতিথি পাখির বিচরণ দেখা মেলে। শীত মৌসুমে যুগ যুগ ধরে এখানে পাখি এসে সাময়িক সময়ে আবাস গড়ে তুলে। আবার শীত শেষ হওয়ার সাথে সাথে পাখিরাও বিদায় নিতো।

অন্যান্য বছরের এই সময়ে অতিথি পখির কিচিরমিচির শব্দ শুনা গেলেও এবার পাখির কোন সাড়াশব্দ নেই। বিভিন্ন স্থান থেকে পাখিরা এসে হাওর থেকে খাদ্য সংগ্রহ ও অবাধে বিচরন করে। ছড়া ও জলাধারকে কেন্দ্র করে এখানে নানা জলজ উদ্ভিদ, কলমি জাতীয় ঝোপজঙ্গল ও পলি জমে ভরাট ও সংকোচন হতে চলেছে। এখানে রয়েছে প্রাকৃতিক মাছের আবাসস্থল। তবে পানি সংকটে মাছ, জলজ উদ্ভিদ ও পাখির আবাসস্থল বিলুপ্ত হতে চলেছে।
মাছ ধরা, জলাশয় ইজারা, মানুষের হাল্লা চিৎকার, আনাগুনা ও মৌসুম পরিবর্তনের কারনে মৌলভীবাজারের হাইল হাওর, হাকালুকি হাওর থেকে অতিথি পাখির বিচরন কমে গেছে। অব্যাহতহারে মাছ ধরা, জলাশয় ইজারা নেওয়া, হাল্লা চিৎকার, ব্যাপক আনাগুনা, পাখি শিকারের চেষ্টা ও সম্প্রতি সময়ে আবহাওয়া পরিবর্তন এসব মিলিয়ে কমে গেছে অতিথি পাখির বিচরন। দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির পাখির সাথে বিদেশী প্রজাতির পাখির কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়। এসব পাখির মধ্যে অধিকাংশই পাতি সরালি। পতনঊষার ও শমশেরনগর ইউনিয়নের ধূপাটিলা ও কেছুলুটি গ্রামের সংযোগস্থলে পাহাড়ি ছড়া ও ছোট ছোট জলাশয়ে খাবার ও নিরাপদ বিচরনস্থল থাকায় হাজার হাজার পাখি আবাসভূমি গড়ে। এই জলাশয়ে নানা জাতের উদ্ভিদ ও প্রাণির আবাস। এখানে পাতি সরালি, বক, পানকৌড়ি সহ কয়েকটি প্রজাতির পাখি দেখা যায়। ঘাস, লতাগুল্ম, মাছ সহ নানা জাতের জলজ উদ্ভিদ পাখির খাবার যোগাতে সহায়তা করে। ফলে যুগ যুগ ধরে এখানে পাখি আসে আর যায়। তবে বোরো আবাধের জন্য লাঘাটা নদীতে পানি সংরক্ষণ শুরু হয়নি। ফলে একদিকে বিঘিœত হচ্ছে চাষাবাদ অন্যদিকে হারিয়ে যাচ্ছে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠা অতিথি পাখির আবাসস্থল।

পরিবেশ সাংবাদিক ফোরাম, মৌলভীবাজার এর সাধারণ সম্পাদক নুরুল মোহাইমীন মিল্টন বলেন, দেওছড়া জলাশয় অতিথি পাখিদের একটি নিরাপদ আবাসস্থল। তবে শিকারীদের অপতৎপরতা, ছড়া ও জলাশয় ভরাট এবং পরিবেশ বিপর্যয় জনিত কারণে দিন দিন তা সংকুচিত হয়ে আসছে। সরকারি উদ্যোগে ছড়া ও জলাশয় সংস্কারের মধ্য দিয়ে অতিথি পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে তোলা সম্ভব।

স্থানীয়দের মতে বোরো আবাদের জন্য পানি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হলে এ সময়ের মধ্যেও অতিথি পাখি এসে ভিড় জমাবে। মুহিবুর রহমান নামে এক বাসিন্দা জানান, ফিবছর শীত মৌসুমে অতিথি পাখির কিচিরমিচির শব্দে তাদের ঘুম ভাঙতো। এবছর এখনও পাখিদের দেখা মেলেনি। তার একটাই কারণ ছড়া ও জলাশয়ে পানি নেই। তিনি জানান, সুদীর্ঘকাল থেকে এখানে শীত মৌসুমে অতিথি পাখির দল এসে আবাস গড়ে। আবার শীত বিদায় নেয়ার সাথে সাথে তারাও বিদায় নেয়।

বণ্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, সিলেট এর সহকারী বিভাগীয় বন সংরক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: