সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘পর্নসাইট নিষিদ্ধ করে গ্রাহকদেরকে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ভারতে শত শত পর্নসাইট বন্ধ করে দেয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। এ সিদ্ধান্তকে ‘সাপ তাড়াতে কুমির ডেকে আনা’র সঙ্গে তুলনা করে তারা বলছেন, এর মাধ্যমে কোটি কোটি গ্রাহকের তথ্য হ্যাকারদের হাতে চলে যাচ্ছে। খবর আনন্দবাজারের।

গত সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের নির্দেশে, ৮২৭টি জনপ্রিয় পর্নোগ্রাফিক সাইট বন্ধ করার নির্দেশ জারি করে কেন্দ্রীয় টেলিকম মন্ত্রণালয়। দেশের সমস্ত ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার বা আইএসপি-কে বলা হয় ওই ৮২৭টি সাইটকে ব্লক করে দিতে।

বিশেষজ্ঞদের মতে— অনলাইন পর্নোগ্রাফি আটকাতে গিয়ে, পরোক্ষভাবে গোটা দেশের মানুষকে অনিরাপদ নেট ব্রাউজিংয়ের দিকেই ঠেলে দিচ্ছে এই নিষেধাজ্ঞা। অজান্তেই ভার্চুয়াল প্রক্সি নেটওয়ার্ক, সংক্ষেপে ভিপিএনের মাধ্যমে গ্রাহকরা গোপন তথ্য তুলে দিচ্ছে বিদেশি সংস্থার হাতে। আর মুহূর্তের মধ্যে সেই তথ্য বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

গুগলের নিজস্ব ট্রেন্ড সমীক্ষা অনুযায়ী, ওই নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পর ভারতে লাফিয়ে বেড়েছে ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফি সার্চ করার প্রবণতা। শতাংশ হিসাবে অক্টোবর মাসের চতুর্থ সপ্তাহের তুলনায় নভেম্বর মাসে এই সার্চের প্রবণতা দ্বিগুণের বেশি। একই প্রবণতা জারি রয়েছে এই ডিসেম্বর মাসেও।

ঠিক একই ভাবে, নিষিদ্ধ ঘোষণার পরই দ্রুত বেড়েছে ফ্রি ভিপিএনের সার্চ। গুগল ট্রেন্ডের তথ্য অনুযায়ী তা ১০০ ছুঁয়েছে বার বার, যার অর্থ ওই সময়ে ভিপিএনের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে ছিলো। সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটা ওই নিষেধাজ্ঞার সরাসরি ফলাফল। কারণ ভিপিএনের সাহায্যে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের ব্লক করা সাইটেও পৌঁছে যাওয়া যায়। এই প্রক্সি নেটওয়ার্কের সাহায্যে যে কোনও নিষিদ্ধ সাইটে ঢোকা যায়। সবচেয়ে বড় সুবিধা, ভিপিএন ইন্টারনেট প্রোটোকল (আইপি) লুকোতে সাহায্য করে, ব্যবহারকারীর অবস্থান গোপন রাখে, সর্বোপরি, অন্য দেশে থাকা সার্ভারের সাহায্যে যে কোনও সাইটে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব।

স্বভাবতই ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফি দেখতে অভ্যস্তরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ভিপিএন ব্যবহার শুরু করে দিয়েছেন। পরিসংখ্যান বলে, সারা বিশ্বে পর্নোগ্রাফিক সাইটের ব্যবহারকারীদের মধ্যে ভারত তৃতীয় স্থানে, ব্রিটেন এবং আমেরিকার ঠিক পরই।

সাইবার বিশেষজ্ঞ বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘প্রথমেই মনে রাখতে হবে, ভিপিএন সার্ভিস যাঁরা দেন, তার একটা বড় অংশই পয়সার বিনিময়ে। পাশাপাশি অনেক বিনা পয়সার সার্ভিস আছে। আর এই ফ্রি ভিপিএন ঘিরেই সমস্যা।’

ভারতের কম্পিউটার ইমারজেন্সি রেসপন্স টিম (সার্ট)-এর এক শীর্ষ সাইবার বিশেষজ্ঞ ব্যাখ্যা করেন, ‘বিনা পয়সার ভিপিএন সার্ভিস যে সংস্থা দিচ্ছে, তার নিজের মুনাফা কী? মুনাফা একটাই। ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য জমা করে তা অন্য কোথাও বেচে দেওয়া। অর্থাৎ সাইবার তস্করদের জন্য দরজার ছিটকিনি খুলে দেওয়া।’

আর ভিপিএনের পাশাপাশি, নিজেদের ইউআরএল সামান্য পাল্টেও ফের ভারতের সাইবার স্ক্রিনে ফিরে আসছে বহু নিষিদ্ধ পর্নোগ্রাফিক সাইট। ২০১৫ সালেও ঠিক একই ভাবে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়েছিল, যা কার্যত ব্যর্থ হয়। এ বারও নাম পাল্টে ফিরে আসা এই সাইটগুলির একটা বড় অংশকেই বিপজ্জনক মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: